" crossorigin="anonymous"> আজমীর শরীফ ভ্রমণ এবং আমার পাওয়া কিছু অনুভূতি the good great 2023 - %sitenam

আজমীর শরীফ ভ্রমণ এবং আমার পাওয়া কিছু অনুভূতি the good great 2023

সেদিন সকাল পাঁচটায় উঠে তৈরি হয়ে গেলাম অদ্ভুত ভালো লাগায় । স্বাধীনভাবে একা ঘুরতে যাবার মজাটাই যেন আলাদা , 6 টায় বেরোতে হবে, সবাই যখন বাসে উঠল তখন আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিল । প্রায় দু’ঘণ্টা বাসে করে আসার পর বাস এক জায়গায় এসে থামল ।

আজমীর শরীফ ভ্রমণ এবং আমার পাওয়া কিছু অনুভূতি the good great 2023

শুনলাম এবার আমাদের অটোতে করে যেতে হবে। এক একটা অটোতে আমরা সাতজন করে বসলাম । ভাড়াটা যদিও বেশি মনে হলো কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি এটাই তো ওদের একমাত্র রোজগার । পথ ১৫ মিনিট যাবার পর আমাদের এক মোড়ে জনবহুল এলাকায় নামিয়ে দিল । আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না । পুরো রাস্তা জুড়ে দুপাশেই রকমারি সব দোকানে পসরা সাজিয়ে বসে আছে দোকানিরা ।

BY GOOGLE IMAGE

যার জন্য এত দূরে এসেছি তার সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়

খাজা মইনুদ্দিন চিশত পারস্যের সিজিস্থান নামক প্রদেশের সানজা নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতা খাজা গিয়াস উদ্দিন চিশতী ছিলেন অনেক প্রভাবশালী ও ধনবান ব্যক্তি । তার মনে ইসলামের প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্ম নেয় । তাই তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি গরীবের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে ইসলামের শিক্ষার জন্য তিনি বিদেশ পাড়ি জমান । গরিবের প্রতি ছিল তার অসীম দয়া সেজন্য তাকে গরিবে নেওয়াজ বলা হয় ।

by google image

সে সময় ভারতের আজমীর ছিল হিন্দু ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতায় সম্রাজ্য ও রাজপুত শক্তির মূল কেন্দ্রস্থল ।
একমাত্র খাজা মইনুদ্দিনের প্রচেষ্টা ও প্রভাব যেখানে শিরকের কালো অন্ধকার বিরাজ করতো সেখানে মসজিদ মেম্বার দৃষ্টিগোচর হতে থাকে । যে আসমান পত্তলিকতা ও শিরকের গন্ধে ভরপুর ছিল আজ সে আসমান ইসলামের হাওয়ায় ভরপুর হয়ে আছে ।

by google image


তাই ভারতবর্ষ এবং তার বাইরে থেকেও প্রচুর পরিমাণে লোক আসে তার কবর জিয়ারতের জন্য । কিন্তু একটি দুঃখের বিষয় আজকের সেই মাজার হয়ে উঠেছে শিরকের আখড়া ।আজমীর শরীফ ভ্রমণ এবং আমার পাওয়া কিছু অনুভূতি the good great 2023

আমরা এক দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করাতে সে আমাদের সোজা দেখিয়ে দিল আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য স্থান । হঠাত দেখলাম দূরেই দেখা যাচ্ছে দরকার প্রধান ফটোক । সেটা আহামারি কিছুই না । আমরা ছিলাম চারজন একসঙ্গে । মনের মধ্যে হঠাত ইচ্ছে হলো আমরা দরগা যাচ্ছি চাদর চড়াবো না তাই হয় । কিনেই ফেললাম চাদর । সঙ্গে আতর । অভ্যেস নেই তো এসবের আর কি লাগবে বুঝতে পারছিলাম না ।

by google image

কিন্তু দূর থেকেই দেখি সমস্ত দোকানে ডালা সাজিয়ে বিক্রি করছে গোটা গোলাপ আর গোলাপের পাপড়ি ভরা ডালি । আমি তাও কিনলাম । এরপর এক দোকানে জুতো রেখে আমরা সবাই ঢুকলাম দরগাতে । ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমার শরীরে এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করতে শুরু করল । ভীষণ ভালো লাগছিল । আমরা সবাই মিলে দরকার ভিতরে প্রবেশ করলাম । হঠাত খাজা মইনুদ্দিন চিশতির সমাধিস্থলে যাবার জন্য লাইন দিলাম । ওখানে ছেলে আর মেয়েদের আলাদা লাইন ছিল । একধারে দেখছিলাম মেয়েরা নামাজ পড়ছে ।আমার শরীরে তখন অল্প অল্প কাঁপুনি দিতে শুরু করেছে ।

ভেতর থেকে ভীষণ চাপা কষ্ট যেন বেরিয়ে আসতে চাইছিল । নিজের অজান্তে কখন দুচোখ বেয়ে জল পড়তে শুরু করলো তা নিজেই জানিনা । টের পেলাম তখন যখন সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছিল । অবশেষে খাজা বাবার সমাধিতে আমার কেনা চাদর আতর আর ফুলের ডালা দিয়ে মাথা ঠেকিয়ে নিজের মনস্কামনা জানিয়ে অবসন্ন শরীরে দরকার থেকে বেরিয়ে এলাম ।

by google image

যদিও একটি কাজ ভুল করলাম । কবরে মাথা ঠেকানো বা সেজদা করা একদম উচিত নয় । কিন্তু সবাই করছে দেখে আমিও তাই করলাম । জানিনা সেদিন আমার কি হয়েছিল এখন ভাবলে শিহরণ দেয় শরীরে এটুকু তো উপলব্ধি করেছি আমি, যে অনুভূতি আমার শরীরে শিহরণ জাগিয়েছিল সে অনুভূতি এখনো ভুলতে পারবো না।

Read More>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *