" crossorigin="anonymous"> আমার প্রিয় রাজা very good great 2023 - Sukher Disha...,

আমার প্রিয় রাজা very good great 2023

তখন আমি ছেলেমানুষ । বয়স আমার আট বছর কি ৯ বছর হবে মনে হয় । হঠাত প্রতিবেশীদের দেখাদেখি আমারও পায়রা পোষার শখ মাথায় চাপলো । অনেক কষ্টে কয়েকটা কাঠের ছোট বড় তক্তা গুছিয়ে কাঠের বাক্সের একটা খোপ বানিয়ে টাঙিয়ে দিলাম । আব্বা মার কাছে অনেক কষ্টে কিছু টাকা আদায় করার পর ২-৩ জোড়া পায়রা এনে সেখানে বসিয়ে দিলাম।

আমার প্রিয় রাজা very good great 2023


তাদের আদর যত্ন শুরু করে দিলাম । এই পায়রার নেশা যখন মাথায় চেপে বসেছে সেই সময়ে একদিন দোলাভায়ের এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলাম । তাদের অনেক পায়রা ছিল । দুলাভাইয়ের ছোট ভাইয়ের আমার মতই পায়রা পোষার নেশা ছিল । পায়রাগুলো খুব সুন্দর লাগছিল । সেগুলো নিজেদের মধ্যে খেলা করছিল । আমি মুগ্ধ হয়ে তাদের দেখতে ছিলাম । তাদের মধ্যে একটি পায়রা আমার মনের মধ্যে জায়গা দখল করে নিল ।

তার গায়ের রং ছিল ফুটপুটে সাদা । এবং গলায় ছিল নীল রঙের পালক, ওই পালকের উপর সূর্যের আলো পড়ায় সেগুলি চকচক করছিল । সে তার মাথায় উঁচু টোপরটি, স গর্বে নেড়ে বাক বাকুম বাক বাকুম করতে করতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল আর অন্য পায়রাগুলো তার জন্য পথ ছেড়ে দিচ্ছিল। তার আকার ছিল অন্য পায়রাগুলোর চেয়ে অনেক বড় । আমি মনে করলাম সেই হচ্ছে দলের নেতা। তাই তাকে রাজা বলে ডাকলাম । সে আমাকে দেখে পালানোর চেষ্টা করল না । এবং আগের মতই নিজের গৌরবে সে বাক বাকুম করতে লাগলো ।

by google image


রাজাকে নিয়ে যাবার জন্য আমার মন আকুলি কুলি এবং ছটফট করতে লাগলো । ছেলেবেলার আগ্রহ কোন বাধা-বিপত্তি মানে না । আমি সঙ্গে সঙ্গে দুলাভাইয়ের কাছে গিয়ে আবদার করতে লাগলাম । তুমি আমাকে বললেন পরের জিনিসের উপর লোভ করতে নেই এই উক্তিটি তিনি বারবার আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন । কিন্তু আমি বোঝার পাত্র নই । আমার মনের আবদার যখন দুলাভাইয়ের ছোট ভাই জানতে পারলো তখন সে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল । সে বলল তোমার যখন পছন্দ হয়েছে তখন আর কি করা যাবে । দুলাভাইয়ের আপত্তি সত্ত্বেও অনেক আনন্দে আমি রাজা আর রানিকে নিয়ে বাড়ি এলাম । তাছাড়া তারা যেন আর তাদের পুরানো জায়গায় ফিরে যেতে না পারে সেজন্য আমি কাঁচি দিয়ে তাদের কিছু পাখনা কেটে দিলাম ।


রাজা যেমন তার পুরনো রাজ্যে রাজত্ব করত আমাদের বাড়িতে আমার পায়রা গুলির সঙ্গেও ঠিক সেই রূপ স্বাচ্ছন্দে রাজত্ব করতে লাগলো । তার এই নতুন জায়গায় তাকে দেখে মনে হল সে রাজা হওয়ার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছে , আর তার সঙ্গীদের তাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্যই হয়তো দুনিয়ায় এসেছে ।


আমি মনে মনে ভাবলাম যখন সে রাজা তখন তার রাজার পোশাক থাকা জরুরী তাই একটি নুপুর কিনে তার পায়ে পরিয়ে দিলাম । রাজার পায়ে সেই নুপুরের শব্দ অনেক সুন্দর শুনাতো যখন সে হেঁটে বেড়াতো। নুপুর টি যে তার খুব পছন্দ হয়েছে তা তার হাঁটাচলা দেখলেই বুঝতে পারা যেত । বাক বাকুম বাক বাকুম করতে করতে পাইকারি করার সময় নুপুর টিতে বিশেষ একটি তাল দিয়ে বাজাতে রাজা কোনমতেই ত্রুটি করত না।


সকাল হলেই রাজা আর তার অনুচরেরা ঝটপট করে তাদের বাসা থেকে বারান্দায় নেমে আসত । আমি তখন তাদের জন্য মেঝেতে গম ছিটিয়ে দিতাম । তারা আনন্দের সাথে খুটে খুটে সেগুলো খেত । আর আমি মুগ্ধ নয়নে তাদের দেখতাম । রাজার ভোজনটা অবশ্য রাজার মতই হতো । তাহার সঙ্গে করে রাজা বাক বাকুম করতে করতে তাদের সাথীদের দলে ঘুরে বেড়াতো, আর তার সঙ্গীরা খুব সুন্দর ভাবে তার জন্য রাস্তা ছেড়ে দিত ।

কোন পায়রা কোন পায়রার উপর অত্যাচার করতে দেখলে , বা কোন শক্তিশালী পায়রা কোন দুর্বল পায়রার ওপর অত্যাচার করতে দেখলে রাজা তাদের শাস্তি দিতে খুব বেশি দেরি করতেন না। এবং সে সেখানে রাজার মতই ব্যবহার করত । সে তার সরু ও তীক্ষ্ণ ঠোঁট দিয়ে ঠোকরাতে ঠোকরাতে অপরাধী পায়রাদের একেবারে নাজাহাল করে ছাড়তো । আর সে পায়রা বেচারি তখন অপরাধীর মতো চুপ করে বসে থাকতো । আর রাজা ঘন ঘন মাথা নেড়ে সরষে মেঝের উপর দ্রুত আঘাত করে বেড়াত ।


আমার সঙ্গে রাজার ঘনিষ্ঠতা অল্পদিনের মধ্যে বেশ জমে উঠলো । আমি রাজা বলে ডাকলে সে স- মহিমায় তার মুকুট নাড়তে নাড়তে আমার কাছে চলে আসতো। আমি কখনো তাকে আমার হাতে বসাতাম কখনো আমার কাঁধে বষাতাম আবার কখনো তার ঠোটটিতে চুমু দিতাম । তখন রাজা বাকুম বাকুম বলে আনন্দে গলা ফোলাতে থাকতো , আর আমার অন্তরে আনন্দের বন্যা বয়ে যেত ।

by google image


জল যোগ শেষ করে রাজা দলবল নিয়ে গ্রাম বেড়াতে করতে চলে যেত । বিকালে আমি তাদের প্রতীক্ষায় ছাদে অপেক্ষা করতাম । বিকালে আমি তাদের দেখলেই আমার ক্ষোপের বারান্দায় গিয়ে হাজির হতাম আর রাজা কে কোলে তুলে নিয়ে সংবর্ধনা জানাতাম। সেও আমার আদর পেয়ে গর্বে আনন্দে ফুলে উঠতো।।


নিয়ম মত একদিন রাজা তার দলবল নিয়ে গ্রামের আকাশে বেড়াতে গেল । বিকালে আমি তাদের প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছি রাজার দলকে সুদূর আকাশপথে ফিরতে দেখে আমি দৌড়ে খোপের বারান্দায় গেলাম । ঝপঝপ করে পায়রারা সব নিচে নেমে বসলো । আজ কিন্তু রাজাকে তাদের মধ্যে দেখতে পেলাম না । কি এক অনিশ্চিত বিপদের আশঙ্কায় আমার প্রাণ কেঁপে উঠলো । আমি দুশ্চিন্তায় ও ভয়ে এদিক-ওদিক চেয়ে তার অনুসন্ধান করতে লাগলাম । দৌড়ে ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে চাইলাম সেখানে তাকে দেখতে পেলাম না ।


নিচে নেমে এসে খাঁচার মধ্যে দেখলাম খোপের উপর দেখলাম সেখানেও তার দেখা পেলাম না । দেখতে দেখতে সূর্য ডুবে গেল রাত হল । পায়রারা একে একে বিশ্রামে গেল । রাজার কিন্তু কোন চিহ্নই দেখতে পেলাম না ।তার যে বিশেষ কোনো বিপদ ঘটেছে সে বিষয়ে তখন আমার সন্দেহ মাত্র রইল না । কাদতে কাদতে দুলাভাইয়ের কাছে গিয়ে আমার দুঃখের কথা বললাম । তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন আচ্ছা ভাই আর কাদিস না রাজার মত তোমার আর একটা পায়রা কিনে দেবো । আমার মন কিন্তু তাতে বাধা মানলো না । রাজার জন্য প্রচন্ড উদ্বেগে আমি তারই কথা ভাবতে লাগলাম ।

দুই চোখ দিয়ে ছলছল করে জল বের হলো । একবার মনে হল হয়তো কোন নিষ্ঠুর শিকারির বন্দুকের গুলিতে আমার বন্ধুর প্রাণ বিয়োগ হয়েছে । রাজা নেই এ কথা মনে হতে আরও দ্বিগুণ বেগে আমার চোখ দিয়ে অশ্রুর ধারা বইতে লাগলো । আবার ভাবলাম না গুলিতে মরেনি। নিশ্চয়ই কোন বদমাইশ ছেলে তাকে ফাঁদ পেতে ধরেছে । সে বেচারই আমার কাছে ফিরবার জন্য কত ছটফট করছে আর সেই বদমাইশ চোর আমার রাজার ছটফটানি দেখে হয়তো হাসি পাচ্ছে। নানারকম ভাবনা-চিন্তা করে শেষে স্থির করলুম কাল সকালে রাজার জন্য এদিকে ওদিকে ভালো করে খোজ তল্লাশি করব । অনেক চিন্তা করার পর সে রাতের মত শুতে গেলাম ।


পরদিন আমার যেসব পরিচিত বন্ধুরা পায়রা পালন করতো তাদের বাড়ি গিয়ে রাজা সমন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম কারো কাছে কিন্তু কোন সন্তোষজনক উত্তর পেলাম না প্রত্যহ সকালে উঠেই আমি রাজার ক্ষোপের কাছে গিয়ে দেখতাম আর তাকে সেখানে না পেয়ে ক্ষোভে রাগে ও দুঃখে জড়োসড়ো হয়ে যেতাম । বিকেলে যখন আমার পায়রার ঝাক তাদের খেলার জায়গা আকাশ থেকে ফিরে আসত তখন আমি রাজাকে ফিরে পাবার আশায় দৌড়ে ছাদে গিয়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করতাম। তারা সকলেই কিন্তু আমার রাজা ফিরে আসত না। আমার পায়রা রাও সকলে যেন রাজাকে হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েছিল । রানী খোপের এক কোণে চুপ করে বসে থাকতো ।

by google image


রানীর আহারের দিকে আগেকার মতো আগ্রহ ছিল না । দলের মধ্যে নেচে হেসে ঘুরেফিরে বেড়াবার মনোবল একেবারে চলে গিয়েছিল । সে তার রাজার অভাব বিশেষভাবেই অনুভব করছিল । অন্য পায়রা গুলোর মধ্যে আগেকার যে হাসি খেলা নাচ-গান ঝগড়া কলহ একেবারে চলে গিয়েছিল তা দেখেই বুঝতে পারলাম ।


আমাদের পাশের গ্রামের মোল্লাপাড়ায় বায়তুল নামে একটি ছেলে ছিল । বয়সে সে আমার চেয়ে 6-7 বছরের বড় । সে এত দুষ্টুমি করত যে তার দুষ্টুমি আমাদের পাড়ার সকল ছেলের দের উপরে থাকত । পায়রা পোষার ইচ্ছাও তার ছিল । সে আমার পায়রা দেখতে কখনো কখনো আমাদের বাড়িতে আসত আমি তার পায়রা দেখতে তার বাড়ি যেতাম। এইজন্য তার সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল । সে রাজার খুব তারিফ করতো বলতো এরকম পায়রা খুব দেখা যায় না ।


রাজাকে হারাবার ৩-৪ দিন পর রহিমের ওখানে তার পায়রা দেখতে গেলাম সে তার বাড়ির সামনে খেলছিল রাজা হারিয়ে গেছে শুনে সে আমার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখাতে লাগলো আমাকে তার বাড়ির দিকে মুখ করতে দেখেই । তার অন্য বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মাঠের দিকে বেড়াতে চলে গেল । কি জানি কোন অদৃশ্য আকর্ষণ কিন্তু আমাকে তার বাড়ির দিকে টেনে নিয়ে চলল ।


রহিমের পায়রা গুলি বাড়ির উঠানে চড়ছিল। তাদের দেখতে দেখতে হঠাত রাজার উপর আমার চোখ পড়লো । তার পায়ে এখন আর নুপুর নেই । ডানার পালক গুলি কাঁচি দিয়ে গোড়া পর্যন্ত কাটা হয়েছে । সে বেচারার উর্বর শক্তি একেবারে ছিল না । সে চুপ করে সকলের বাইরে খুব কষ্টে ঘুরে বেড়াচ্ছিল । সে যে একজন বন্দী , এ কথা সে যেন খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিল ।


আমি আনন্দে আটখানা হয়ে রাজা রাজা বলে ডেকে উঠ উঠলাম। আমার পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে সে ততক্ষণাত আমার দিকে মুখ ফেরালো । আমাকে দেখে আনন্দে মাথা নাড়তে নাড়তে আমার কাছে এলো । আমি তাকে হাতে করে বুকের কাছে তুলে নিলাম । আর রাজা বলে আদরে তার মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম । সেও তার স্নেহ কোমল চোখ দুটি তুলে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বাকুম বাকুম বলে পুরানো বন্ধুর সংবর্ধনা করতে লাগলো।
বাইদুল চোরের মত চুপ করে এই পুনর্মিলন দেখছিল । ক্ষনিকের জন্য সেই স্তম্ভিত নির্বাক হয়ে গিয়েছিল । সে বলে উঠল রাজা রাজা কি বলছিস সোহান। এ তো তোর পায়রা নয়। আমি যে একে পরশুদিন হিলালপুর থেকে কিনে এনেছি ।


র নির্লজ্জ মিথ্যা কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে আমি বললুম কি বলছিস বাইদুল ? এ আমার রাজা বই কি , আমি ডাকতেই কেমন চলে এলো । আর দেখ, আমার কাছে কেমন চুপটি করে বসে আছে । অচেনা পায়রা হলে কি এমন করত।


সোহান উত্তেজিত হয়ে বলল তা বললে কি হয় ও আমার পায়রা, ওকে ছেড়ে দে কথাটা বলেই রাজাকে ধরবার জন্য সে হাত বাড়ালো, পাশে রাজার চোট লাগে এই ভয়ে আমি তখন তাকে মাটিতে বসিয়ে দিলুম। আর মিনতি করে বললাম ভাই আমার পায়রা আমায় ফিরিয়ে দে
বাইদুল মাথা নেড়ে বলল তাও কি হয় ও যে আমার কেনা পায়রা
আমি বললাম তাহলে আমি দাম দিচ্ছি আমার কাছে বেচে ফেল
বাইদুল ধির ভাবে বলল আমি এটা বেচবো না ।


রাজাকে তার সেই ঘৃণিত কয়েক থেকে উদ্ধার করবার কোন উপায় না দেখে আমি আমার মনটা একেবারে দমে গেল । আর আমার চোখ দুটি অশ্রুতে ভরে গেল। বায়দুল আমার কান্না দেখতে পায় সেই ভয়ে আমি সেখান থেকে চলে এলাম ।
এই ঘটনার পর প্রায় কয়েকদিন কেটে গেল । দৈনিক নিয়ম মত বিকেলে আমার পায়রার গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য আমি পথ চেয়ে আছি । রাজাকে ফিরে পাবার একটা ক্ষীণ আশা এক একবার আমার অন্তরকে কাঁপিয়ে মনের মধ্যে জেগে ওঠে । আমি উতসুক ভাবে আকাশের দিকে চেয়ে আছি । হঠাত আকাশের দিকে একটা রেখা দেখতে পেলাম । আমার পায়রার দল বাড়ি ফিরছে । অন্যদিনের মতো আজও আশা-আকাঙ্ক্ষায় আমার প্রাণ কাঁপতে লাগলো ।


চোখ দুটিকে হাতের তলায় আড়াল করে আমি দেখতে লাগলাম । পায়রা ঝাঁক ক্রমেই স্পষ্ট থেকে স্পষ্ট তর হতে লাগলো । একে একে সকলকে চিনতে পারলাম । কিন্তু রাজাকে আজও তাদের মধ্যে দেখতে পেলাম না ।নিরাশ মনে আমার খোপের বারান্দায় নেমে এলাম । ঝপঝপ করে পায়রা গুলি নেমে এসে বসল । হঠাত কি যেন আমার দৃষ্টিকে আকাশের দিকে টেনে নিয়ে গেল । সুদূর দূরে দেখলাম একটা পায়রা আমার বাড়ির দিকে মুখ করে শো শো করে ওরে আসছে । আমার নিরাশ মনে আমার আসার সঞ্চার হল । আমি রেলিং এ ভর দিয়ে উঁচু হবার চেষ্টা করতে না করতে পায়রাটি কাছে এসে পৌঁছালো আর সোজা এসে ঝপ করে রেলিং এর ওপর বসে পড়ল


আমি আনন্দে নেচে উঠলাম । আমার রাজা আবার ফিরে এসেছে । সে সেই নিষ্ঠুর জল্লাদের হাত থেকে পালিয়ে তার বন্ধু জনের কাছে আবার ফিরে এসেছে । তিন সপ্তাহের দীর্ঘ বিরহ সে আমায় ভুলেনি । সে রানীকে ভোলেনি তার সহচর অনুচরদেরও সে ভোলেনি । সুযোগ পেয়েই সে নিঃসংকোচে তার আপনজনের কাছে ফিরে এসেছে বাইদুলের চালাকি তার বাড়িতে ধরে রাখতে পারেনি


আমি একান্ত আগ্রহের সঙ্গে তাকে বুকে তুলে নিয়ে তার মুখে চুম্বন করলাম । তারপর তাকে তার বন্ধুর দলে ছেড়ে দিলাম । তার বাক বাকুম শব্দে আমাদের বারান্দা ভরে গেল । রানী তার দুঃখের জীবন ছেড়ে আবার দলে এসে মিশলো। আর মনের আনন্দে রাজার পাশে দলের মধ্যে পায়চারি করে বেড়াতে লাগলো। আমি একান্ত তৃপ্তি ভরে সেই মধুর দৃশ্য দেখতে লাগলাম । দেখতে দেখতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এলো ।


বিশ্রামের জন্য পায়রারা যে যার জায়গায় চলে গেল । রাজা তার রানীর সাথে আজ তাদের পুরানো খোপে ঢুকলো। আমি সন্তুষ্ট মনে বাইরে বেরিয়ে এলাম ।
রাজার পায়ে নুপুর নেই যে চিন্তা আমার পক্ষে অসহ্য হয়ে উঠলো । আমি তখনই রফিকুল এর দোকান থেকে একটা সুন্দর নুপুর কিনে আনলাম । খাওয়া দাওয়ার পর সেটাকে মাথার কাছে একটি টেবিলের উপর রেখে বিছানায় শুয়ে পড়লাম । মনে মনে ভাবলাম সকালে উঠেই নুপুর সে রাত্রি আমার বেশ আনন্দে কাটলো বিছানায় শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ পর্যন্ত রাজার সাহসের কথা তার মানুষের মত বুদ্ধির কথা তার বন্ধু বাতসল্যের কথা ভাবতে লাগলাম ।

এই দীর্ঘ বিচ্ছেদের মধ্যে সে যে আমায় ভোলেনি এই কথা মনে করে আমার হৃদয় স্নেহের ভরে উঠলো । শুয়ে শুয়েই ঠিক করলাম বাইদুলকে খবর দেবো রাজাকে ফিরে পাওয়ার কথা । তার মুখের অবস্থা যে কেমন হবে তা ভেবে যথেষ্ট আনন্দ পেলাম। এসব সুখের খেয়ালের মধ্যে আস্তে আস্তে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম খেয়াল নেই।


সকালে উঠেই দুপুরটি নিয়ে নিচে বারান্দায় গিয়ে রাজা বলে ডাকতে লাগলাম ।রাজার কোন সাড়া না পেয়ে এদিক-ওদিক দেখতে লাগলাম । অন্যদিনের মতো পায়রা গুলি তাদের জল যোগের জন্য অপেক্ষা করছে না । কেউ ছাদে বসে কাদছে । কেউ জড়োসড়ো হয়ে রানীর পাশে বসে আছে । আবার কেউ নারকেল গাছের উপর বসে ভীত চোখে বারান্দার দিকে চাইছে । রানীকে দেখলাম ক্ষোপের একটি কোণে মরার মত বসে আছে । কিন্তু রাজাকে কোথাও দেখতে পেলাম না ।

হঠাত বারান্দায় মেঝের উপর আমার দৃষ্টি পড়ল । যা দেখলাম তাতে আমার সমস্ত শরীর শিওরে কেঁপে উঠলো । মেঝেতে রাশি রাশি পালক ছড়ানো রয়েছে । আর জায়গায় জায়গায় রক্তের বড় বড় দাগ । প্রকৃত ঘটনা বুঝতে আমার বাকি রইল না । কোনের কাছে একটা মই দাঁড় করানো ছিল । রাতে সেই মই দিয়ে উঠে বিড়াল রাজাকে ধরে নিয়ে গেছে ছেঁড়া পালক আর রক্তের প্রাচুর্যে বুঝলাম রাজা , রাজার মতো মতোই লড়াই করে মরেছে আর । থাকতে পারলাম না । আমি জোরে জোরে চিতকার করে কাঁদতে লাগলাম।

আজ প্রায় 40 বছর হলো রাজাকে হারিয়েছি । তারপর অনেক পাখি পুষেছি অনেক দেশ ঘুরেছি অনেক কাজ করেছে কিন্তু সে রাজাকে ভুলতে পারেনি । তার সেই বাকুম বাকুম এখনো আমার কানে ধ্বনিত হচ্ছে তার সেই সুন্দর চেহারা এখনো আমার স্মরণে আঁকা রয়েছে । আর তার সেই করুন গৃহ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি আজও আমার অন্তরের ব্যতীত করে তুলেছে ।

Read More>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *