" crossorigin="anonymous"> GREAT কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023 - Sukher Disha...,

GREAT কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023

হযরত আলীর ইন্তেকালের পর তার পুত্র ইমাম হাসান খেলাফত ত্যাগের পর ইসলামী দুনিয়ায় এক নতুন বংশ ক্ষমতা লাভ করেছিল যা উমাইয়া বংশ নামে প্রতিষ্ঠিত । এই উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আমির মোয়াবিয়া । কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন

GREAT কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023

যে বাইতুল মাল (সরকারি কোষাগার) জনগণের সম্পত্তি ছিল তা উমাইয়া বংশের পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল । নিজেদের খেয়াল খুশি মতো তারা সরকারি পোষাকারের টাকা ব্যবহার করতো । ওমর বিন আব্দুল আজিজ(দ্বিতীয় ওমর) শাসকদের মধ্যে ব্যতিক্রমী ছিলেন তিনি বায়তুল মাল কে জনগণের সম্পত্তি বলে মনে করতেন । মুসলিশ উস সুরার বিলোপ সাধন তারা করেছিলেন । ফলে মানুষের স্বাধীন চিন্তা, সরকারি নীতির সমালোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায় ।


ইসলাম বিশ্ব ভাতৃত্বের শিক্ষা দেয় । এখানে জাতিগত প্রাধান্যের কোনো স্থান ছিল না । কিন্তু উমাইয়া শাসকরা জাতিগত প্রাধান্যের উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন । তারা বলতেন উমাইয়া খেলাফত আরবদের দ্বারা গঠিত এবং আরবদের জন্য সংরক্ষিত ।
মদিনার গুরুত্ব কমে গিয়েছিল । অথচ উমাইয়াদের পূর্বে মদিনা ছিল ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সভ্যতা সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল । ওমাইয়ারা ক্ষমতায় লাভ করলে সিরিয়ার দামাস্কেসের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায় । মুয়াবিয়ার শক্তির কেন্দ্রস্থল ছিল দামেস্ক বা দামাস্কাস।

কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023


পবিত্র চার খলিফারা ভোগবিলাসী ছিলেন না । তারা ছিলেন প্রকৃতপক্ষে জনগণের খাদেম বা সেবক । তারা সাধারণ মানের পোশাক পরিধান করতেন এবং অনাড়ম্বর বাসগৃহে বসবাস করতেন । তারা রাত্রের অন্ধকারে আত্মগোপন করে প্রহরিহীন অবস্থায় প্রজা,সাধারণের অবস্থা দেখে বেড়াতেন । কিন্তু উমাইয়া শাসকরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন । এমনকি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেহরক্ষী মোতায়েন করতেন । সর্বোপরি ইসলামের রীতিনীতি অনুসারে পবিত্র খলিফারা জীবন যাপন করতেন । মদ্যপান, জুয়া খেলা, ঘোড়দৌড়, নৃত্য গীত, নারী নির্যাতন প্রভৃতি ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে তারাযুক্ত ছিলেন না । তারা জনগণের কাছে আদর্শবাদী খলিফা হিসেবে পরিচিত ছিলেন । কিন্তু উমাইয়াদের সময়ে ইসলামী সমাজ কলুষিত হয়েছিল ।

কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023


আমির মোয়াবিয়া
আমির মোয়াবিয়া 606 খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন কোরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের পুত্র। প্রথম জীবনে মোয়াবিয়া ইসলাম ধর্ম ও মুহাম্মদ (সাঃ)এর বিরোধী ছিলেন । মক্কা বিজয়ের পর তিনি ও তার পিতা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন । মুয়াবিয়া ছিলেন হযরত ওমরের সমসাময়িক । কঠোর পরিশ্রম ও সকল শাসন পরিচালনার জন্য তিনি ওমর(রাঃ) এর নিকট প্রশংসা অর্জন করেন এবং সিরিয়া প্রদেশের শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন ।

হযরত আলী (রাঃ) মৃত্যুর পর ইমাম হাসান খেলাফত লাভ করলে মোয়াবিয়া তাকে পরাজিত করেন । ৬৬১ সালে মোয়াবিয়া সমগ্র ইসলামী সাম্রাজ্যের খেলাফত লাভ করে উমাইয়া শাসনের প্রতিষ্ঠা করেন ।


শাসক হিসাবে মুয়াবিয়া যোগ্য ছিলেন । পূর্ববর্তী খলিফাদের সময়ে ইসলামী সাম্রাজ্যের সমস্ত রকম অশান্ত,বিশৃঙ্খলা বিদ্রোহ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করেছিলেন । আরবের পূর্ব পশ্চিমে ইসলামী সাম্রাজ্যকে তিনি সম্প্রসারিত করেছিলেন । প্রজাদের কল্যাণ সাধনের তিনি বহু রাস্তাঘাট নির্মাণ, খাল খনন, ডাক ব্যবস্থা এবং রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন । তার সময়ে রাজধানী সিরিয়ার নমস্কাস প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে জগত জোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ।


ইয়াজিদ
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পূর্বেই তার পুত্র ইয়াজিদকে খেলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন । ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে মহাবিহার মৃত্যুর পর তিনি সিংহাসনে বসেন । কিছু মক্কা ও মদিনা লোক বিভিন্ন কারণে তার বিরোধিতা করেছিল । তারা চরিত্রহীন, নীতি জ্ঞানহীন, পাপী ইয়াজিদকে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না

by google image


কারবালার হত্যাকান্ড
মরুভূমির দেশ আরব ।এই দেশের ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত কারবালার মাঠ । মোয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজীদ এর শাসনকালে কলঙ্কময় ঘটনা ঘটেছিল । মহানবীর(সাঃ) দৌহিত্র ইমাম হোসাইন(রাঃ) সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কারবালার মাঠে ইয়াজীদ বাহিনীর হাতে সপরিবারে শাহাদাত বরণ করেছিল । এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা (কারবালার হত্যাকান্ড) ইসলামের ইতিহাসে এক সুদুর প্রসারী প্রভাব ফেলেছিল ।


কারবালার হত্যাকাণ্ডের ফলে মুসলিম বিশ্ব দু ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছিল । মুসলিমদের ঐক্য ভেঙে যায় এবং উমাইয়া ও আব্বাসী বিরোধী তীব্র আকার ধারণ করেছিল । এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইসলামের শিয়া ও খারিজি নামে দুটি দলের বিরোধ চরমে ওঠে । প্রতিবছর 10ই মহরম মর্সিয়া গেয়ে মাতম করার রীতি চালু হয় । শিয়া মতবাদের বিশ্বাসী মুসলমানরা এই দিনে নিষ্ঠুর সেই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে হায় হোসেন ধ্বনিতে আকাশ বাতাস ভারী করে তোলে ।


হারারার যুদ্ধে জয়লাভ করে ইয়াজিদের বাহিনী তিন দিন ধরে মদিনা লুট করেছিল । প্রায় দুই মাস ধরে পবিত্র মক্কা নগরী অবরোধ করে রেখেছিল । 683 খ্রিস্টাব্দে ইয়াজিদ বাহিনী মক্কা দখল করে এবং কাবা গৃহে অগ্নিসংযোগ করেছিল ।
সর্বোপরি কারবালার নির্মম হত্যাকাণ্ড ইসলামী বিশ্বে সর্বত্র ত্রাসের সঞ্চার করেছিল । পারস্যে জাতীয় চেতনার উন্মেষ হয়েছিল । এই বোধ পরবর্তীকালে উমাইয়া বংশের ধ্বংস সাধনে আব্বাসীয়দের সহায়তা করেছিল ।

কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023


সুমাইয়া বংশের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শাসকগণ
আব্দুল মালিক- মারওয়ানের মৃত্যুর পর তার পুত্র আব্দুল মালিক ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন । তার সিংহাসন লাভ উমাইয়া শাসনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । বিদ্রোহ দমন, শান্তি শৃঙ্খলা,হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারে এবং সুশাসন তার শাসনকাল কে স্মরণীয় করে রেখেছে ।
তিনি বহু কাজ করেছিলেন । সরকারি দপ্তরে আরবি ভাষা চালু হয়েছিল । তার উল্লেখযোগ্য সংস্কার হলো আরবি মুদ্রার প্রচলন ও জাতীয় টাকশাল নির্মাণ । তার সময়ে আরবিলিপির উন্নতি বিধান পরিলক্ষিত হয়। ডাক বিভাগের উন্নতি সাধন করেছিলেন । অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য রাজস্ব সংস্কার করেছিলেন ।


আব্দুল মালিক একজন খ্যাতনামা নির্মাতা ছিলেন । জেরুজালেমে কুব্বাতুল সাকরা নামে বিখ্যাত মসজিদ নির্মাণ করেন । এছাড়া আকসা মসজিদ তিনি তৈরি করেন । 705 খ্রিস্টাব্দে আব্দুল মালিক ইন্তেকাল করেন । অনেকে তাকে উমাইয়া বংশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা বলেন


প্রথম ওয়ালিদ
আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর 705 খ্রিস্টাব্দে আলওয়ালির সিংহাসনে আরোহন করেন । তার সময়ে সাম্রাজ্যের পূর্ণ শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরাজিত ছিল । এ সময়ে এশিয়া ও খারেজীদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল । তার সময়ে বহু অঞ্চল সমরখন্ড হিন্দু আফ্রিকার ওই স্পেন মুসলিম আধিপত্যে আসে । তার সময়ে ভূমধ্যসাগরে মুসলিম নৌ বাহিনীর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায় । শান্তি প্রতিষ্ঠাতা ও বিজেতা হিসাবে তিনি উমাইয়া ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছেন ।


কলেজ ছিলেন দয়ালু । তিনি বহু জনহিত কর কাজও করেছিলেন । বহু বিদ্যালয় স্থাপন হাসপাতাল এবং অন্ধ অচল ও পাগলদের জন্য তিনি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । তিনি সম্রাজ্যের সর্বত্র রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং কূপ খনন করেছিলেন । তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা সংস্কৃতির অনুরাগী ছিলেন । তার উতসাহে মক্কা মদিনা কুফা ও বসরা সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল ।


সোলাইমান
আব্দুল মালিক তার পুত্র ওয়ালিদ, সুলাইমান ও দ্বিতীয় ইয়াজিদকে পরপর সিংহাসনে র উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন । সুলাইমান ছিলেন একাধারে নিষ্ঠুর খলিফা ও অন্যদিকে তিনি ছিলেন দয়ালু ও স্পষ্টবাদী । তিনি আরাম প্রিয় ছিলেন । তিনি ন্যায় বিচার পছন্দ করতেন এবং ধার্মিক জ্ঞানী ও দয়ালু মানুষদের কথা শুনতেন । তিনি হারেমের আমোদ প্রমোদ ও দাস-দাসীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকতে ভালোবাসতেন ।

তিনি ধার্মিক দরবেশদের পৃষ্ঠপোষকতাও করতেন । তিনি ইয়ামেনি আরবদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করাই হিজাজী আরবরা তার উপর অসন্তুষ্ট ছিল । তার সময়ে আরবদের গোত্র কলহ ভীষণভাবে বেড়ে গিয়েছিল । অনেকে বলে থাকেন তার সময় থেকে উমাইয়া শাসন পতনের সূত্রপাত হয়েছিল ।

কারবালার হত্যাকাণ্ড ও উমাইয়া বংশের পতন 2023


দ্বিতীয় ওমর
খলিফা সুলাইমান এর মৃত্যুর পর ওমর বিন আব্দুল আজিজ (দ্বিতীয় ওমর) সিংহাসন আরোহন করেন । সুমাইয়া শাসকদের তুলনায় উন্নত এবং মহত চরিত্রের অধিকারী হওয়ায় তাকে উমাইয়া সাধকও বলা হয় । দ্বিতীয় ওমরের মত একজন ধার্মিক ও ন্যায় পরায়ন ব্যক্তির খেলাফত লাভ উমাইয়া শাসন ব্যবস্থার উপর এক গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল ।
প্রথম ৪ পবিত্র খলিফার মত তিনি ধার্মিক, কর্তব্যনিষ্ঠ, সরল এবং সত প্রকৃতির খলিফা ছিলেন ।

এজন্য অনেকে তাকে পঞ্চম ধার্মিক খলিফা বলে থাকেন । তার সময়ে ইসলাম ধর্ম আফ্রিকা স্পেন ও সিন্ধু উপত্যকায় প্রসার লাভ করেছিল । ধনী-দরিদ্র আরব অনারব সকলের তার নিকট সমান ছিল ।

তিনি ছিলেন গরিবদের প্রকৃত বন্ধু । গরিব সাধারণ মানুষের মঙ্গল সাধনের তিনি অনেক কাজও করেছেন । এছাড়া হযরত আলী (রাঃ) বংশধরদের প্রতি সম্মান ও ভালো ব্যবহার করেছিলেন । আরব ও অনারব মুসলমানদের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ তার অন্যতম কৃতিত্ব । একজন খাঁটি মুসলমান হিসাবে ইসলাম প্রচারের কাজে তিনি নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন । বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচারক দল প্রেরণ করেন । দ্বিতীয় ওমর কাবা গৃহের সংস্কার সাধন করেন এবং সৌন্দর্যমন্ডিত করেন । তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন । খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি উদারনীতি নিয়েছিলেন ।


দ্বিতীয় ইয়াজীদ ও হিসাম
দ্বিতীয় ওমরের মৃত্যুর পর আব্দুল মালিকের তৃতীয় পুত্র দ্বিতীয় ইয়াজিদ সিংহাসনে বসেছিলেন । শাসক হিসাবে তিনি ছিলেন অযোগ্য । তার সময়ে সাম্রাজ্যের চারিদিকে বিদ্রোহ দেখা দেয় । এই বিদ্রোহ দমন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন । দ্বিতীয় ইয়াজীদের মৃত্যুর পর তার ভাই হিসাম সিংহাসনে বসেন । শাসক হিসাবে হিশাম যথেষ্ট যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন । সাম্রাজ্যের নানা রকম গোলযোগ, অরাজকতা, বিদ্রোহ তিনি কঠোর হাতে দমন করেছিলেন ।

দরবার ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ তিনি দূর করেছিলেন । তার উদার শাসননীতি দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গিয়েছিল । তিনি ছিলেন উমাইয়া বংশের শেষ গৌরব খলিফা । তার পরবর্তী শাসকরা দ্বিতীয় তৃতীয় ওমাইয়া, দ্বিতীয় মারওয়ান অযোগ্য ও দুর্বল ছিলেন । এদের সময় থেকেই উমাইয়া শাসন পতনের দিকে চলে গিয়েছিল ।
উমাইয়া বংশের পতন
উত্থান পতন পৃথিবীর চিরন্তন নিয়ম । উমাইয়া বংশও এর ব্যতিক্রম নয় ।৬৬১ খ্রিস্টাব্দের মোয়াবিয়ার হাত ধরে যে বংশের সূচনা হয়েছিল ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় মারওয়ানের সময় এর পতন ঘটে ।


এই বংশের পতনের কারণগুলির অন্যতম হলো
ক) ইসলামের মৌলিক আদর্শে আঘাত –
হযরত আলী (রাঃ) ও তার পরিবারকে খেলাফত থেকে বঞ্চিত করে জোর করে ক্ষমতা দখল করায় ইসলামের মৌলিক আদর্শে আঘাত হানা হয় যা উমাইয়া খলিফাদের পতন কে ত্বরান্বিত করেছিল ।
খ) রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা- এই শাসনের পতনের অন্যতম কারণ ছিল গণতন্ত্রের বদলে স্বৈরতন্ত্র প্রবর্তন । এছাড়া বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি কোষাগারকে (বায়তুল মাল) ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করা ।


গ) খলিফাদের অযোগ্যতা ও বিলাসিতা – বেশিরভাগ খলিফাই অযোগ্য ছিলেন । তাদের সময়েই সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল । তাদের বিলাসবহুল জীবন ও এই বংশের পতন ডেকে এনেছিল । রাজকোষ কিছুদিনের মধ্যেই শূন্য হয়ে পড়ে ।
ঘ) উত্তরাধিকার নীতির অভাব – উত্তরাধিকারের কোন নিয়ম না থাকায় সিংহাসন নিয়ে পিতা – পুত্র আমির – ওমরাহদের মধ্যে কলহ লেগে থাকত । এভাবে উমাইয়া বংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল ।
ঙ) চরিত্রহীনতা- কয়েকজন শাসক কে বাদ দিলে এই বংশের খলিফারা চরিত্রহীন ছিলেন । তারা মদ্যপান বিদেশি রমনী ও কৃতদাসদের সাথে মেলামেশা করতেন । এই চরিত্রহীন শাসকরা জনগণের ফেরার পাত্রে পরিণত হয়েছিল ।


চ) সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ – সৈন্যদের বেতন বাকি পড়ায় বিপদের সময় অসন্তুষ্ট হয়ে তারা শত্রুপক্ষ যোগদান করে উমাইয়া সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়েছিলেন ।
ছ) মক্কা মদিনার অবমাননা- পবিত্র মক্কার কাবাঘর ধ্বংস সাধন এবং মদিনার পবিত্রতা নষ্ট প্রভৃতি কারণ মুসলমানদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছিল
জ) আরব অনারব বৈষম্য- অনারবদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও মনোভাব এই বংশের পতনের অন্যতম কারণ ।
ঝ) শিয়া ও সুন্নির বিরোধিতা- উমাইয়া শাসকদের প্রতি শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের বিরূপ মনোভাব ম্রাজ্যের অস্তিত্বকে মারাত্মক আঘাত হানে । খারেজি সম্প্রদায়ক উমাইয়া বিরোধী কার্যকলাপে সামিল হয়েছিল ।

আমির মোয়াবিয়া তার পুত্র ইয়াজিদকে সিংহাসনে বসিয়ে খোলাফায়ে রাশেদীনের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিনাশ ঘটান এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের সূচনা করেন । উমাইয়া শাসকরা খোলাফায়ে রাশেদীনের ধর্মীয় আধ্যাত্মিক মর্যাদাকে নষ্ট করেছিল ।

Read More>>>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *