" crossorigin="anonymous"> কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প Knowledge is an important and extraordinary thing in human life 1 - Sukher Disha...,

কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প Knowledge is an important and extraordinary thing in human life 1

এই বিশ্ব ধরাধাম এ মানুষ এসেছে আপন সুন্দর কর্ম দ্বারা এ জাহানকে আরো সুন্দর করতে । এবং তার সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে পরকালীন জীবনে শান্তি লাভ করতে । তারা তাদের কর্ম ও নিজের যোগ্যতায় প্রমাণ করেছে ভোগে নয় পরকালের চিন্তায় আপন প্রকৃত সুখ ।

by google image

কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প 15 November 2023

সুলতান পিতা মাতা হারা এক এতিম বালক । ছোটবেলায় সে পিতা-মাতাকে হারিয়েছে এবং তার চাচার কাছে সে স যত্নে বড় হয়েছে । গরিব খেটে খাওয়া দরিদ্র জসিম তার পরকালে পাড়ি দেওয়া মৃত্ ভাইয়ের স্মৃতি হিসেবে নিজের ভাইপোকে নিজের পুত্র স্নেহে লালন পালন করে বড় করেছে । নিজের সয়-সম্পত্তি যতটুকু ছিল সব বিক্রি করে নিজের ভাইপোকে সে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে তুলেছে ।

এখন সুলতানা শিক্ষিত পড়াশোনা শেষ করা এক যুবক । জসিমের মনের ইচ্ছা সুলতানা এখন ভালো একটা চাকরি পাকা আর তার কনিষ্ঠ কন্যা কে সে বিয়ে করুক । জসিমের মনের যে ইচ্ছা সেটা কিন্তু কোনদিন সুলতান কে সে বলেনি । তবে কোনভাবে তার চাচার মনের ইচ্ছাটা সুলতান বুঝতে পেরেছে । এম এ পাস করে এখন প্রায় সুলতান বসেই আছে এবং এর মধ্যে কয়েক বছর কেটে গেছে । তার ভাগ্যে এখনো কোনো চাকুরি জোটেনি । তবে সে টিউশনি করে যা উপার্জন করে তাতে তাদের চারজনের সংসার দিব্যি সুন্দর চলে যায় ।

এবং এই টিউশনের টাকা দিয়েই সে পুরাতন বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি তৈরি করেছে । তাদের সারাদিনের খাবার নিয়ে কোন চিন্তা করতে হয় না । সবাই ভদ্রলোকের যে পোশাক সে পোশাকেই পরে তারা । সুলতান সরকারি কোনো চাকরি পায়নি তাই এখন সে বিয়ে করার কথাও ভাবে না । কিন্তু এখন জসিমের বেশ বয়স হয়েছে । সেই ভাবে এখন সে হাঁটতেও পারে না, বেশিরভাগ সময় শুয়েই থাকে। এখন জসিম কে অসুস্থ বললেই চলে , সে মনে মনে ভাবে কখন যে তার ভাইয়ের মতো সে পরলোকে যাত্রা করবে সে বিষয়টা নিয়ে ভয় করে সে ।

এইভাবে জসিম একদিন তার ভাইপো সুলতানকে ডেকে বলেন সুলতান আমি তো অসুস্থ প্রায় কখন যে বড়লোকের যাত্রা করবো সেটা বলা যায় না , তাই বলছিলাম তোমার বোন সোহানা কে এখনো বিয়ে দিতে পারলাম না । কোন একটা সুযোগ্য পাত্র বা ভালো জামাই পেলে তার হাতে তোমার বোনকে তুলে দিতে পারলে আমি শান্তিতে মরতে পারতাম । সুলতান কিন্তু তার চাচার ইঙ্গিত সে মনে মনে বুঝতে পারে । তাই সুলতান ও সে মনে মনে চাচার ইচ্ছার উপর রাজি হয়ে যায় । সোহানা দেখতে বেশ সুন্দরী পড়াশোনাও বেশ ভালো ।

তাছাড়া সোহানা, সেই ছোটবেলা থেকে তার সামনেই মানুষ হয়েছে তাই তার সে বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই । সে তার চাচীকে বলে তোমাদের মনের যে ইচ্ছা সেই ইচ্ছা পূরণ করার ব্যবস্থা করতে আমি এতে সম্মতি দিচ্ছি, মানে আমি সোহানা কে বিয়ে করতে রাজি আছি । সুলতানের এই কথা শুনে তার চাচীর বেজায় খুশি হয়ে যান । তার চাচাতো আনন্দ ধরে রাখতে পারছিল না । এইভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই একটি শুভদিনে সুলতান ও সোহানার বিয়েও হয়ে যায় । এখন তাদের চারজনের সুখের সংসার । সুলতান ও সোহানার সুখের সংসারে আর একজন সদস্য প্রবেশ করার ইঙ্গিত দেয় ।

মানে সোহানা মা হতে চলেছে এই আড়াই বছরের মধ্যেই । এবং নির্দিষ্ট টাইমে তাদের এক সন্তান হয় যারা তার নাম রাখে সোহেল । আর একটা কথা যেটা হচ্ছে বিয়ের পরপরই কিন্তু সুলতান একটি কোম্পানিতে ভালো সম্মানের চাকরি পেয়েছে । সেই কারণে তাকে একটু দূরে থাকতে হয় । প্রতি মাসের শেষের দিকে দুই একদিনের জন্য সে বাড়ি আসে । তার শশুর শাশুড়ি স্ত্রী ও তার একমাত্র সন্তানের সঙ্গে সে দুই তিন দিন কাটিয়ে যায় । এই এক মাসের তাদের যত কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগে সব কিন্তু কিনে দিয়ে আবার তার গন্তব্যস্থলে ফিরে যায় । এভাবে চলতে থাকে তাদের দিন ।

সুলতানের আচার-আচরণ, চাকুরী জীবনের অন্যান্য কলিকদের সঙ্গে তার ব্যবহার , এবং তার কাজের প্রতি যে আগ্রহ সেইসব দেখে তার কোম্পানির মালিক অত্যন্ত খুশি হয়ে যায় । সুলতান চাকরি তে যুক্ত হওয়ার পর এই কোম্পানির যা উন্নতি হয়েছে তা কল্পনার বাইরে । অফিসের অন্যান্য সদস্যদের দেখাশোনা করা এবং হিসাব ঠিক রাখার যে পারদর্শিকতা তা কিন্তু সুলতানের কম নেই ।

কোম্পানির ম্যানেজার খলিল সাহেব কাকে নিয়ে খুব ভাবনা চিন্তা করে এবং মনে মনে বলে যাক আমরা একটা কাজের ছেলে পেয়েছি যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায় । খলিল সাহেব ভাবতে থাকে তার একমাত্র মেয়ে হাসিনাকে খুব আনন্দ ফুর্তি করে বিয়ে দিয়েছিলেন জেলার সব থেকে বড় লোক,ও ধনী, অনেক সম্পদের মালিকের ছেলের সঙ্গে । কিন্তু সেই ছেলের নোংরা ব্যবহার ও নেশাগ্রস্ত ও খারাপ জায়গায় যাতায়াত সেই কারণে তার মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়েছে সে । এখন তিনি মনে মনে এই সুলতানের মতোই একটা চরিত্রবান পাত্র খুঁজছেন যেখানে তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যায় । ঘরে তো আর বেশি দিন রাখা যায় না ।

সে মনে মনে ভাবে সুলতান তার মেয়ের জামাই হলে খুবই ভালো হয় । এ বিষয় নিয়ে খলিল তার মেয়ে হাসিনা ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছে । খলিল তার মেয়েকে নিজের অফিসেই কিছু কিছু দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন যাতে তার একাকীত্ব কাটানো যায় সেই ভেবে । সেই কারণে সুলতানের সঙ্গে হাসিনার কিছু হালকা সম্পর্ক তৈরী হয় । হাসিনা তার বাবার যে ইচ্ছা সে বিষয়ে সে না করেনি ।

by google image

কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প 15 November 2023


খলিল সাহেব এসব ভাবতে ভাবতে একদিন সুলতানের গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । সামনে মাসের শেষের দিকে সুলতানের বাড়িতে যাই । তার চাচার সাথে খলিল সাহেব এ বিষয়ে কথা বলে । জসিম সাহেব সুলতানের অফিসের মালিক খলিল সাহেব সমস্ত কিছু জানার পর এ বিষয়ে রাজি হন । জসিম সাহেব সুলতান কে এসব না জানিয়েই তিনি রাজি হয়ে যান । সুলতান মাসের শেষে বাড়ি আসার পরে তাকে এসব কথা জসিম সাহেব বলেন ।

কিন্তু সুলতান কোন ভাবে রাজি হন না । সুলতান বলে আমি চাকরি ছেড়ে দিতে রাজি তবু ও আমি একাজ করতে পারবো না । তাছাড়া আমার স্ত্রী ও একটি ছেলে সন্তান আছে । আমি তাদের দিকে তাকিয়ে একাজ কিভাবে করতে পারি ।


খলিল সাহেব বলেন আমাদের নবীজি (সাঃ) একাধিক বিয়ে করেছিলেন । তাছাড়া আমাদের ইসলাম ধর্মে একাধিক বিয়ের বিধান আছে । এসব বুঝিয়ে খলিল সাহেব সুলতান কে বোঝানোর চেষ্টা করে । সুলতান যখন শুনলো আমাদের নবীজি (সা্ঃ)একাধিক বিয়ে করেছিলেন বা আমাদের ধর্মে এই একাধিক বিয়ের হুকুম আছে তখন কিছুটা ইচ্ছা প্রকাশ করে । তবে সুলতান এসব নিয়ে কিছুদিন ভাবার জন্য তাদের কাছে সময় নেই ।

সুলতান তার চাচা ও চাচীকে এসব নিয়ে ভালো করে ভাবতে বলে । সুলতানের চাচা ও চাচী বলে তুমি যা ভালো বোঝো তাই কর । সুলতান এবার তার নিজের স্ত্রীকে কথা জানাই । হাসিনা তাকে বলে পৃথিবীতে সব কিছুর ভাগ দেয়া যায় কিন্তু নিজের স্বামীর ভাগ দেওয়া যায় না । শরীয়তে যেহেতু একাধিক বিবাহের হুকুম আছে সেহেতু আমি আপনাকে বারণ করতে পারবো না । তবে আপনার মনে আমার জন্য একটা নির্ভরযোগ্য জায়গা চায় , আর আমার আপনার সন্তানের একটা নিরাপদ আশ্রয় । আগে কথা দেন এসব থেকে আমাদের কে বঞ্চিত করবেন না ।

by google image

কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প 15 November 2023


দুই একদিনের ছুটিতে সুলতান বাড়িতে এসেছিল সেই ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় সে কর্মের জায়গায় ফিরে যায় । তার অফিসের মালিক তাকে ডেকে আবার এ বিষয়ে জানতে চাই । তখন সুলতান বলেন আমি এক গরিব ঘরের সন্তান আর একটা ছোটখাটো চাকরি করি । আমি আপনার মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র নই । আপনি অন্য কোন অবিবাহিত ছেলে দেখে আপনার মেয়ের বিয়ে দেন সে ওখানেই অনেক সুখে থাকবে । খলিল সাহেব বলেন আমি তোমার সবকিছু জেনেই এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি । আমি আবার মেয়ের বিয়ের অন্য জায়গায় আর দিতে চাই না । শুধু তুমি রাজি হয়ে যাও ।

আর তোমার ছেলে ও সন্তান তাদের যে অধিকার মে অধিকার থেকে কখনো বঞ্চিত হবে না । সুলতান তুমি আরো কিছু সময় ভেবে দেখো । এদিকে হাসিনা তার মাকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানের বাড়ির দিকে রওনা হয় । ওখানে গিয়ে সোহানা ও হাসিনা মিলে অনেক গল্প গুজব করে । হাসিনা সোহানাকে বলে বোন হিসাবে তোমাকে আমার হৃদয়ে স্থান দেওয়ার সুযোগ পেলে এবং তোমাকে আমার পাশে পেলে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করব । সুহানার কথা শুনে হাসিনা বুঝতে পারে এ বিষয়ে কারো সম্মতি আছে । তাই সে খুশিমনে বাড়ি ফিরে যায় । কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প Knowledge is an important and extraordinary thing in human life 1

একটি নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে খলিল সাহেব তার মেয়েকে সুলতানের হাতে তুলে দেন । এবং সুলতানের হাতে তার কোম্পানির সমস্ত হিসাব-নিকাশ এবং দায়-দায়িত্ব তুলে দেন জামাই সুলতানের হাতে । সুলতান শ্বশুরের সমস্ত সম্পত্তি পেয়ে বেশ খুশি আছে । এদিকে প্রায় তিন-চার বছর কেটে যায় । হাসিনার একটা সমস্যা আছে । হাসিনাকে অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে কিন্তু কোন সন্তান হয় না । অনেক চিকিৎসা করার পরও কোন লাভ হয়নি । শেষমেষ হাসিনা জানতে পারে তার আর কোন সন্তান হবে না ।

by google image

কিছু জ্ঞান অর্জুনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গল্প 15 November 2023

ওদিকে সুলতানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী সোহানা বেশ অসুস্থ । দিন দিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে । ডাক্তারের অনেক পরীক্ষার পর জানা গেছে সুহানার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে । খুব দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে । ডাক্তারেরা বলে এক্ষুনি অপারেশন করতে হবে । ও কিডনির ব্যবস্থা করতে হবে । না হলে সে মারা যাবে । কিন্তু সোহানার রক্তের গুরু গ্রুপের সঙ্গে কারো মিল হচ্ছে না ।

সোহানার বড় বোনের সঙ্গে তার রক্তের মিল থাকলেও কিন্তু সোহানা তাকে কিডনি দিতে রাজি নয় । পত্রিকায় অনেক বিজ্ঞাপন দেয়া দেওয়ার পরেও কোন লাভ হচ্ছে না । এই সময়েই জানা যায় হাসিনার সঙ্গে সোহানা রক্তের মিল আছে । হাসিনা সোহানাকে কিডনি দিতে পারে । হাসিনা সোহানাকে কিডনির দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায় । হাসিনাকে সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও সে কারো নিষেধ শুনেনি ।

সবার নিষেধ উপেক্ষা করে হাসিনার একটা কিডনি সোহানাকে দান করে । হাসিনা বলে সোহানা খুবই ভালো মেয়ে সে যা করেছে অন্য কোন মেয়ে তা করতে পারবেনা সে তার স্বামীর ভাগ আমাকে দিয়েছে ও আমার একাকীত্ব জীবনে একজন সঙ্গী এনে দিয়েছে , একটা জায়গা করে দিয়েছি আমি আমার দেহের একটা অংশ দিয়ে তাকে আমি তার ঋণ শোধ করলাম । তাছাড়া আমার থেকে সোহানার বেঁচে থাকা বেশি জরুরী , কারণ তার একটি ছেলে আছে আর আমি তো নিঃসন্তান তাই আমি ওকে একটা কিডনি দান করলাম ।

by google image


এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যের ব যে রক্তের বিনিময়ে রক্ত দিয়েই তার ঋণ শোধ করতে হবে । সুহানা যেমন হাসিনাকে সাহায্য করেছে তেমনি হাসিনাও সোহানাকে তার জীবনের একটা অংশ দিয়ে সাহায্য করেছে । প্রতিটি মানুষ এই রকমই হওয়া উচিত ।

তবে মানুষ এই ধরাধামে এসে তাদের নিজের দায়িত্ব এবং কর্তব্য নিজেরাই ভুলে গেছে । এখন প্রতিটি মানুষ হয়ে উঠেছে স্বার্থ ত্যাগী । কিন্তু এই পৃথিবীতে কোথাও কোনোভাবে লুকিয়ে রয়েছে সত্তিকারের মানুষ যারা নিজের স্বার্থ ত্যাগী এবং ভোগবিলাস কিংবা ভোগবাদী এই জিনিসটাকে ভুলে গিয়েছে ।

Read More>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *