" crossorigin="anonymous"> চোর In the past this thief was a good and great person 2023 - Sukher Disha...,

চোর In the past this thief was a good and great person 2023

মানুষ পরিস্থিতির চাপে পড়ে অভাবের তাড়নায় ক্ষুধার জ্বালায় সম্মানের ভয়ে কত রকমের যে খারাপ কাজ করে থাকে তার হিসাব নেই এর জন্য মানুষকে শাস্তি দেয়া বাদ করা একদম ঠিক নয়

চোর In the past this thief was a good and great person 2023

সকাল থেকে খুব ব্যস্ত । আমাকে যেতে হবে ডায়মন্ড হারবারে । বাড়ি থেকে বেরোনোর একদম শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছি । হঠাত অফিস থেকে একটা ফোন এলো । ফোনটা রিসিভ করার পরেই আমার ব্যস্ততা দ্বিগুণ হলো । খুব ছোট থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কাটিয়েছি সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য বিভিন্ন কাজ করেছি । কখনো আসানসোলের ক্লিয়ারিতে আবার কখনো বাঁকুড়ার পুরুলিয়ার অসহ্য গরম সহ্য করেও কয়লা খাদানে টিকিট মাস্টারের কাজ, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় সুন্দরবন লাগোয়া এলাকায় বাঘ আটকাতে ফেন্সিং লাগানোর কাজ থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জারে হকারের কাজও করেছি ।

জীবন আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে বেরিয়েছে একটু সুখের সন্ধানে । পড়াশোনায় খুব একটা খারাপ ছিলাম না কোনদিন । নিত্য অভাব অনটন এর মধ্যে বিএ পাস করেছিলাম । বছর ১৫ আগে এক অর্থলগ্নী সংস্থায় রিজিওনাল ম্যানেজার ও হয়েছিলাম । একদিন এক সাংবাদিক এর নজরে আসতেই উনি সব শুনে উনার কাগজে কাজের অফার দেন । ছোটবেলা থেকে মানুষের মনের কাছাকাছি থাকতে চেয়েছিলাম, এই কাজটাই আমাকে খুব খুশি করেছিল।

চোর In the past this thief was a good and great person 2023

ডায়মন্ড হারবারে যাচ্ছি সাম্প্রদায়িক কালে বিধ্বংসীর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আসছে তছনছ হয়ে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গর দীঘা ও সুন্দরবন এলাকা আমাকে থাকতে হবে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেয়া দূর্গত মানুষের কাছাকাছি তাদের যন্ত্রণা অসহায়তা বিপদের কথা ভুলে ধরতে হবে জনমানুষে বাড়ি থেকে শিয়ালদা পৌঁছে ডায়মন্ড হারবারে যাওয়ার টিকিট কেটে ট্রেনে উঠে বুঝলাম ট্রেন ছাড়ার এখনো মিনিট বাকি আমার ব্যাগটা একটা সিটে রেখে একটা জলের বোতল কিনে ট্রেনে চলে এলাম কামড়ায় লোক বাড়তে থাকলো ব্যাগটাকে পাশের সিটে রেখে দিলাম জানালা দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম সূর্য একবার মেঘের আড়ালে যাচ্ছে আবার বের হচ্ছে এ যেন সূর্য ও মেঘের লুকোচুরি খেলা চলছে।

ট্রেনে আমি বরাবরই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি সেই মতো আজকের সংবাদপত্র টা ভালো করে চোখ গুলিয়ে নেওয়ার জন্য চোখ ফেললাম তার উপরে ট্রেন দুটো কি তিনটে স্টেশন এগিয়েছে সেদিকে আমার খেয়াল নেই আমি তখন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় লেখাটা নির্দিষ্ট মনে পড়ছে একজন অচেনা লোক বললেন আমি যদি আমার ব্যাগটা শিট থেকে সরাই তবে সে বুঝতে পারে ব্যাগটা সরানোর পরে লোকটা আমার গা ঘেসে বসলো। টেরেন গতি বাড়ি এসে আমার একটু শিমুনি আসছে এবার লোকটা আমাকে অপ্রস্তুত করে নিয়ে আমার নাম জানতে চাইলো আমি অস্বস্তি প্রকাশ করলাম লোকটা আমাকে বলল কিছু যদি মনে না করেন তবে আপনাকে একটা কথা বলি আমি অনুভব বলে একজনকে চিনতাম যার সঙ্গে আপনার চেহারার হুবহু মিল আছে ।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবার লোকটির মুখের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকাতেই মনে পড়ল বছর দশেক আগে আমি ওই লোকটির সঙ্গে চাকুরী করতাম এবার আমার পালা আরে আপনি আমার ভাই না একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম ঘটনায় আকস্মিকতায় ট্রেনের ওই কামরার লোকজন আহমেদ আমাদেরও দেখছে আমি যখন রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলাম তখন আমির ম্যানেজার । আমিরের মুখ থেকে শুনেছিলাম ওর বাড়ি ডায়মন্ড হারবারে একদম নদীর ধারে আমি তখন সবে পোস্টিং পেয়ে এসেছিলাম উত্তর ২৪ পরগনার বেড়াচাপাতি আমির আমার আসার দু’বছর আগেই বেড়াচাপাতে ছিল হঠাত একদিন ও সংস্থার ১০ লক্ষ টাকা চুরি করে পালাই। আর দিন পরে পুলিশ ওকে এরেস্ট করে আর ।

খোঁজ পায়নি আসলে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ মনে করিনি । আমির ছিল প্রচন্ড আন্তরিক মিশুকে পরোপকারী । কিন্তু সেদিন কেন টাকা চুরি করেছিল ওকে দেখে আমার মনের মধ্যে এই প্রশ্নটা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল কথা বলতে বলতে আমার অবশেষে ডায়মন্ড হারবারে এসে পৌঁছলাম আমার পত্রিকা অফিস থেকে একজন ক্যামেরাম্যানকে পাঠাবে তার কাছে ফোন করে বুঝতে পারলাম

image by google

তার আসতে এখনো আধ ঘন্টা দেরি এক সুদর্শন মার্জিত ছেলে আমিরের পিছনে নামল সে আমিরকে বলল বাবা তোমার দেরি হলে আমি চললাম ব্যস্ত আছি ছেলেটি যে আমিরের এটা আমার বুঝতে বাকি থাকলো না আমি অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করতে লাগলো আমাকে চা খাওয়ানোর জন্য চা খাওয়ার পরে পাশের একটা খেলার মাঠে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে আমি জানতে চাইলাম সেদিন তুমি চুরি করেছিলে কেন এ কথা শুনে সে কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ থেকে বলল ।

দাদা আমাদের বাড়ি হারবারের শিমুলিয়া গ্রামে নদী পাশ দিয়ে প্রবাহিত প্রতিবছর নদীর জলে বাঁধ ভেঙ্গে বাড়িঘর সব ভাসিয়ে নিয়ে যেত বাবা মা আমি মিলে সবার মাথা গোজার আশ্রয় বানাতাম আমি চাকুরী পেলাম বিয়ে করলাম সংসারের হাল ফেরানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু প্রকৃতির কাছে বারে বারে হার মানতেই থাকলাম আমাদের সন্তান হলো খুব ভালো পড়াশোনায় আমি চাকরি করলেও চিন্তা করতাম ওর পড়াশোনার ভবিষ্যত নিয়ে ইতিমধ্যে আমি অনাথ হলাম ছেলে আমার হাইয়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দিল।

জেলায় দশের মধ্যে রেজাল্ট করল আমার রক্তচাপ আরো বেড়ে গেল অপ্যক্ত আনন্দে হাসলে ও আমি তার প্রকাশ করতে সমর্থ্য হলাম না যা মাইনে পাই সংসার আর ছেলের পড়াশুনা কোনমতেই চলে। জয়েন্ট এন্টার্স দিল ডাক্তারিতে চান্স পেল ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল পড়াশুনা করাতে অনেক টাকা খরচ সে আমি কোথায় পাবো। বাড়ির পাশের এক ফসলি জমিটা বেঁচে ও লাখ ৮ বাকি । আমি তখন টাকার জোগাড়ে মরিয়া ।ভাবলাম নিজের গায়ের রক্ত কিংবা প্রয়োজনে নিজের কিডনি বেঁচে ছেলেকে আমি ডাক্তার বানাবো । সারারাত ঘুমোতে পারলাম না অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ রাতেই টাকা যোগাড় করব ।

কালেকশন এর ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৮ লক্ষ নিয়ে পালালাম । তার আগে অসুস্থতার কারণ দেখে অফিস থেকে 5দিন ছুটি ম্যানেজ করেছিলাম । টাকা নিয়ে খুব ভোরে বাড়ি ফিরে সকালে ছেলেকে নিয়ে ওই দিনে ভর্তি করলাম ডাক্তারিতে ।

অফিস খুললে আপনারা আমাকে আর টাকা না পেয়ে পুলিশের সাহায্য নিয়ে আমাকে এরেস্ট করলেন। বউ আমাকে জেলখানায় দেখতে গিয়েছিল ওকে আমি সব ঘটনার কথা বলেছিলাম । ও ওর বাবার বাড়িতে চলে গেল ।

বিচারের আমার চার বছরের জেল হল । যে ছেলেটা আমার সঙ্গে কথা বলে গেল ও আমার ডাক্তার ছেলে আজ এ তল্লাদের একমাত্র এম বি বি এস ডাক্তার আজ আমার কত গর্ব বলুন না দাদা। আমি লক্ষ্য করলাম আনন্দে আমিরের চোখের কোন চিকচিক করছে, ছেলে ডাক্তারি পড়ে ফেরার পর আমি সব ঘটনাও ওকে বলেছি আমি আজ আমি আর আমার ছেলে গিয়েছিলাম সেই সংস্থায়।। রজত তাকে দেখলাম ।

প্রথমে আমাকে চিনতে পারেনি ঘটনার কথা বলে সেই ৮ লক্ষ টাকা ফেরত দিলাম এইসব আপনাকে ও বলতে পেরে আমিও অনেকটা ভারমুক্ত হলাম হঠাত আমার ক্যামেরাম্যান এর ফোনে আমার সম্বিত ফিরলো পরে ভাবছিলাম আমাদের দেশের বড় বড় কোম্পানিদের সরকার সাহায্য করে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালালেও তারাই আবার সরকারের ঋণ পায়। আর গরিব ঘরের মেধাবী ছেলেকে ডাক্তারি অসহায় বাবার সামনে চুরি ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকে না না হলে তার ভবিষ্যত এরকম মৃত্যু হয়।

Read More>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *