" crossorigin="anonymous"> জিন জাতির আদি ইতিকথা good 24 October 2023 - Sukher Disha...,

জিন জাতির আদি ইতিকথা good 24 October 2023

আভিধানিক অর্থে আরবরা ঐ সমস্ত বস্তুকে জিন বলে যাহা দেখা যায় না । মানে অদৃশ্য । এজন্য তাহারা ফেরেশতাদেরকেও জিন বলে । বেহেস্ত যেহেতু আমরা দেখতে পাই না এজন্য আরবি অভিধানে জান্নাত বলে ও অবিরাম শাস্তির জায়গা। তোমাকে জাহান্নাম বলে ।

জিন জাতির আদি ইতিকথা 24 October 2023


ইসলামী পরিভাষায় জিন শব্দের অর্থ এমন একটি বিশেষ মতলুক যাহা আল্লাহতালা আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন । জ্বীন তার আসল বস্তুর মূল ধাতুর সূক্ষ্মতার দরুন এমন ক্ষমতা রাখে যে তার ইচ্ছা অনুসারে সে যে কোনো রূপ বা আকৃতি ধারণ করতে পারে । যখন যে জিনিসের রূপ প্রয়োজন যেমন কখনো মানুষ ছেলে বা মেয়ে কিংবা কখনো কোন জন্তু জানোয়ার যেমন গরু, ছাগল,সিংহ, শিয়াল,কুকুর, বিড়াল এই সব রূপ ধারণ করতে পারে নিজের ইচ্ছা মতো।

by google image


আমরা যাকে ভূত বা প্রেত বলে থাকি , আসলে এগুলো কিছুই নয় সবই জিনের খেলা , জিন বিভিন্ন আকৃতির রূপ ধারণ করে কখনো কখনো ভালো রূপে আবার কখনো খারাপ রূপে ভয় দেখায় মাত্র , তবে সব সময় ওদেরকে দেখা যায় না ।


ইদানিং আধুনিক শিক্ষিত সমাজের একাংশ জিন সম্প্রদায় সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার শিকার । তারা এর অস্তিত্বের প্রতি অজানা বাক্য পোষণ করে । কিন্তু যেহেতু সরাসরি দেখা যায় না তাই মানা যায় না তাই এটা কোন যুক্তি নয় । বিভিন্নভাবে তার শক্তির বিকাশ বা অস্তিত্ব লক্ষ লক্ষ মানুষ অবরোহ প্রত্যক্ষ করছেন । জিনে আক্রান্ত হাজার হাজার রোগী প্রতিনিয়ত আমরা দেখতে পাচ্ছি । যারা জানেনা তারা এগুলোকে রোগ বলে আখ্যা দেন । কিন্তু ডাক্তারি চিকিতসায় এর কোন সুফল ও হয় না । যাহা একমাত্র কোরআনের দোয়াই সফলতা লাভ করে ।

by google image

জিন জাতির আদি ইতিকথা 24 October 2023

একটি কিতাবে তার লেখক জিন জাতির জন্ম সম্পর্কে লিখেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা তাহার কুদরতের দ্বারা একটি আগুন সৃষ্টি করেছিলেন যার মধ্যে নূর ও জুলযত উভয়টাই বিদ্যমান ছিল । নূরের দ্বারা ফিরিশতা,জুলমাত (ধোয়া) দ্বারা শয়তান এবং আগুন দ্বারা জিন সৃষ্টি করেছেন ।
ফিরিশতারা নূর বা জ্যোতি দ্বারা সৃষ্টি হওয়ায় সম্ভবতঃ আল্লাহর কথা মেনে চলতে শুরু করল । বিভিন্ন প্রকার অন্যায় অত্যাচার নাফরমানীর থেকে পবিত্র রইল । আর শয়তান জুলমত বা ধোঁয়া থেকে সৃষ্টির কারণে সে স্বাভাবিকভাবে কুফর , শুকরিয়া না করা, অলসতা এবং অহংকারে লিপ্ত হলো । জ্বীন সৃষ্টির উপাদান যেহেতু নূর এবং জুল্মতের মধ্যবর্তী বস্তু আগুন থেকে সৃষ্টি সে জন্য তাহাদের কেহ কেহ ঈমানের নূরে নূরান্নীত আবার কেউ কেউ আল্লাহর নাফরমানি করে গুমরাহ হয়েছে ।


জিন জাতির অস্তিত্ব কুরআন হাদীস থেকে প্রমাণিত । কোরানুল করিমে জিন নামে একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে । যেখানে জিনেদের সম্পর্কেই বলা হয়েছে । হাদিস পাকে বহু ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে বহু বুযুর্গানে দ্বীনের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে । সাধারণ মানুষও এই জিনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে ।

by google image

পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা নারে সামুম সৃষ্টি করেছেন ,যাতে ধোঁয়া ছিল না । ধোঁয়া বিহীন আগুন কে নারে সামুম বলে । ঐ আগুন দিয়ে আল্লাহ জিনকে সৃষ্টি করেছেন ।
আল্লাহ তায়ালা প্রথমত আগুনের দ্বারা এক বিরাট মাখলুক সৃষ্টি করলেন যার নাম রাখা হল মা রেয তার জন্য একজন নারী সৃষ্টি করলেন । তার নাম রাখা হলো মার যা। এই মারেয ও মারযা থেকে জিন জাতির বংশবৃদ্ধি হতে থাকে । পরবর্তীকালে তারা নানা দলে ভুক্ত বিভক্ত হয়ে পড়ে । এতদ্বারা বুঝা যায় যে জিন জাতির সৃষ্টি ও বৃদ্ধি হযরত আদম (আঃ) এর অনুরূপ । শুধুমাত্র পার্থক্য হলো মানুষ মাটির তৈরি আর জ্বীনারা আগুনের তৈরি ।


হযরত শাহ আঃ আজিজ(রহঃ) তার জগতবিখ্যাত তফসীরে কোরআনে জিন সৃষ্টির ঘটনা এইভাবে উল্লেখ করেছেন যে আল্লাহতালা এমন মাখলুক ও সৃষ্টি করেছেন যার নিজস্ব শক্তি জ্ঞান যৌন ক্ষুধা গজব ও রাগ শক্তির উপর প্রবল ছিল । জিন জাতি ও মানুষের রুহের সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্য আছে । শুধুমাত্র এতোটুকু পার্থক্য যে মানুষ চারটি মূল ধাতু দ্বারা তৈরি যেমন মাটি পানি আগুন বাতাস আর জিনেরা শুধুমাত্র আগুন ও বাতাসের সমষ্টি ।


ইহা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে জিন জাতি আগুনের সৃষ্টি তারা নিজ ইচ্ছামত বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে । তিনি আরো বলেন যেহেতু জিনদের বাহ্যিক শরীর মানুষের রুহের সাদৃশ্য খুব সুখ্যাতিসূক্ষ্ম এই কারণে সে যখন তা রুহের সঙ্গে মিশে যায় তখন তার সূক্ষ্মতা আরো বেড়ে যায় এই জন্যই সে বিভিন্ন সুরত বা রূপ আকৃতি ধারণ করতে পারে । রূপ আকৃতির পরিবর্তন বহু সময়ে মানুষের মধ্যেও দেখা যায় যেমন ভয়-ভীতির সময় রাগ বা আসক্তির সময় একরকম আনন্দ খুশির সময় অন্যরকম সুরত হয়ে থাকে । জীবজগতের মধ্যে এমন আছে যে গিরগিটি পলকে পলকে লাল নীল রূপ ধরে । তেমনি জিনেরাও ঐরকম রূপ পরিবর্তন করতে পারে ।


মোটকথা ইহারা অনেক সময় নিজেদের আসল আকৃতি বাকি রেখেও মানুষের লোমকূপ ও রগের সাহায্যে দেহ মধ্যে প্রবেশ করে বিভিন্ন রূপান্তর সৃষ্টি করে থাকে । আবার কখনো মোটা ও বিরাট আকার বা আকৃতি ধারণ করতে পারে ভালো মন্দ ও ভয়-ভীতির সুরত গ্রহণ করতে পারে । জিনদের অবাধ্যতা ও নাফরমানি দেখে আল্লাহ তায়ালা একের পর এক আট শত নবী পাঠিয়েছিলেন । একজন করে পাঠাতে লাগলেন আর জ্বিনেরা তাহাদিগকে শুধু হত্যা করতে লাগলেন ।

by google image

যখন পৃথিবীতে জিনদের বংশবৃদ্ধি পেল আল্লাহ তাআলা তখন তাহাদিগকে এবাদত করার হুকুম দিলেন আল্লাহর আদেশে এবাদত আরাধনা শুরু হলো এভাবে ছত্রিশ হাজার বছর অতিবাহিত হল । অতঃপর ধীরে ধীরে তারা কুফরি ও শিরক এবং অহংকারে লিপ্ত হল । তাদের অহংকার এত বেশি বেড়ে গেল যে আল্লাহ তাআলা তাদের উপর গজব নাজিল করলেন । সমুদয় খোদার দ্রোহী ও অহংকারীদের কে আল্লাহ ধ্বংস করে দিলেন । ধর্মভীরুদের মধ্যে যারা ছিলেন তন্মধ্যে একজনকে শাসক বানিয়ে ততদারা নতুন শরীয়তের প্রচলন করলেন । এভাবে পুনরায় ৩৬ হাজার বছর কেটে গেল । কিন্তু তারপর ব্যাপক আকারে খোদা দ্রোহিতা ও নাফরমানি শুরু হল যত যার জন্য তারা আজাবে ইলাহীতে নিমজ্জিত হলো ।


অতঃপর যারা অবশিষ্ট রইল তাদের জন্য নতুন শরীয়ত ও নতুন শাসকের ব্যবস্থা করা হলো । কিন্তু এবারও ৩৬ হাজার বছর অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার তাহারা ফিতনা-ফাসাদ শুরু করলো , আবার তারা আজাবে এলাহীতে গ্রেফতার হল । পুনরায় নতুন শাসক ও শরীয়ত প্রদান করা হলো । কিছুদিন ঠিকমত চলার পর সত শাসকের ইন্তেকাল হলে যোগ্য সত লোকের অভাবে তাদের নাফরমানি আরো বেড়ে গেল । আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা পাঠিয়ে দুষ্ট নফরমান জিনদের শায়েস্তা করলেন তারা বহুজিন কে হত্যা করল এই হলো জিনদের ১ লক্ষ ২৪ হাজার বছরের কর্মকাণ্ড ও কলঙ্কময় ইতিহাস


জিনেদের মধ্যে একজনের নাম ছিল আজাজিল । এই আজাজিল পরে শয়তান হয়েছিলেন । শয়তানের আসল নাম আজাজিল । চিরস্থায়ী অভিশপ্ত হওয়ায় তাহার নাম আজাজিল থেকে ইবলিসে রূপান্তরিত হয়েছে।তার আসল রূপ বিকৃত করে এত ভয়ংকর করা হয়েছে যে যেন কেউ তার আসল রূপ দেখলেই মারা যায় । চিরকালের জন্য তাহাকে বেহেস্তে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একমাত্র আত্মগরিমা অহংকারে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর একটি হুকুম অমান্য করার কারণে এই শাস্তি তাকে প্রদান করা হয়েছে ।

এমনভাবে যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে বুক ফুলিয়ে চলে তারা দেখতে মানুষ হলেও আসলে তারা মানব রূপী শয়তান । আল্লাহর সর্বাপেক্ষা বড় আদেশ নামাজ আদায় না করে আজ বহু মানব শয়তানের শিষ্য হতে চলেছে ।
একটি সেজদা করেনি বলে আজাজিল ইবলিশে পরিণত হয়ে গেছে । আর যারা প্রত্যেকদিন 40 টি ফরজ ওয়াজিব আর সেজদা তরক করেছে তাদের হুকুম বা শাস্তি কি হওয়া উচিত ।

Read More>>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *