" crossorigin="anonymous"> তবুও জোসনা জাগে Jochana looks very beautiful and amazing at night 2023 - %sitena

তবুও জোসনা জাগে Jochana looks very beautiful and amazing at night 2023

রক্ষিত বেলতা অটো স্ট্যান্ডে এসে কাইফ নেমে ৫০ টাকার নোটটা ধরিয়ে দিতে ড্রাইভার কিছুটা বিরক্ত হলো , একটু পরে তার ন্যায্য ভাড়া নিয়ে বাকি খুচরা ফেরত দেয়।
পূর্ব-পশ্চিম বরাবর পাকা রাস্তা রাস্তার পাশে প্রচুর সবুজ গাছপালা উপরে অনাবিল মিল আকাশ।

তবুও জোসনা জাগে Jochana looks very beautiful and amazing at night 2023


কতদিন পর এত বড় নীল আকাশ দেখল সে।
এত বড় নীল আকাশ দেখতে কেবল তাদেরই ভালো লাগে যাদের মন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকে আকর্ষিত হয়।
হেমন্তের শেষ বেলায় সোনালী রোড গাছের উপরে এসে পড়েছে।।
সবুজ বৃক্ষের সবুজ পাতা সোনালী রোদ আর নীল আকাশ ফাঁকা রাস্তা সবমিলিয়ে কাইফের বুকের জমাট বেদনায় একটু উষ্ণ ভালো লাগার বাতাস লাগে।
চোখদুটোতে একটু সুখের পরশ বুলিয়ে নেয়।


কতদিন পর যে কাইফ বাইরে এসে দাঁড়ালো,
একাকী বসবাস করতে করতে যদি হাপিয়ে উঠেছে সে।
তাকিয়ে থাকে আমাদের বাড়ির দিকে। বিশাল জায়গা নিয়ে বাড়িটা করা। বড় একটা টিনের ঘর। যেন সৌখিন দাদার আমলের করা। এটা ছোটখাটো একটা গরিবানা অট্টালিকা বলা যায়।

by google image

ঘুরে আমাদের বাড়ির গেটে যেতেই দেখে কেয়ারটেকার বুলু মিয়া টিনের গেট খুলে দাঁড়িয়ে আছে। কতদিন পর তার মালিককে প্রাণবন্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল বুলু মিয়া।
কাইফ কাইফ স্বভাব সুলভ ভাবে অতি আস্তে বুলু মিয়ার কাঁধে হাত রাখে।
কি খবর বুলুমিয়া কেমন চলছে।
ভালোই চলতেছে মিয়া ভাই
অবাক হয়ে নিচু শরে বলে বুলুমিয়া।


এগিয়ে যাই কাইফ, একেবারে বারান্দার কাছে। দুপাশে ফুটে আছে গোলাপ আর হাসনাহেনা।
এখন কি কামিনী ফোটার সময় ? একটু থমকে দাঁড়ায়। দুটো গাছিই দিলনোয়াজের পছন্দে লাগানো। সইফ বার বার বারন করেছিল । কামিনী আর হাসনাহেনার কড়া সুবাসে নাকি সাপ আসে। কিন্তু দিল নোয়াজের পছন্দ সে এই দুটি গাছ লাগাবেই।
দুই গাছের ফোঁটা ফুলের গন্ধ বাতাসে মিশে রয়েছে। প্রতিটি নিশ্বাসে ও প্রশ্বাসে ফুলের গন্ধ বুকের ভেতরে ভালোবাসার বৃষ্টিবাহি মেঘ তৈরি করছে।কাইফ অবাক হয়ে যায়।
খোলা জায়গায় বসে দুই খালামা পিয়াজ রসুন আদা ছিলছে।


সইফকে ঢুকতে দেখে চুপ হয়ে যায় দুজনে।
কতদিন পর দেখল তারা ওদের মালিক কে।
তারা বলে উঠলো, চা বানাইয়া দিবো বাবা।
সইফ বলল দাও
সে গোয়ালের দিকে এগোতেই বুলু মিয়া লাইট জেলে দেয়।


দেখতে পাই তিনটে দুধের গায়ের বাছুর তিন জায়গায় বাধা। বুকের ভেতরটা দুলে উঠে ,মায়ের কাছে সন্তান নেই।
এক মগ গরম চা আর এক বাটি মুড়ি নিয়ে বুলু মিয়া ঘরে ঢুকে । মিয়াভাই রাইতে থাকবেন তো । খাইবেন কি।
থাকি কি বলো । যা ইচ্ছে খাওয়াও।
গলায় উতফুল্লতা প্রকাশ পাই ঠিক আগের মত । বুলুমিয়া তাকিয়ে থাকে সইফের দিকে।
সইফ চা খেতে শুরু করলো ।


ঠিক আছে। শোনো কালকের সব ঠিক আছে তো । কোন কিছুতে কোন কোমতি নেই তো।
বুলু মিয়া বলল আপনি সব নিজের চোখে দেখুন এই বলে তিনি চলে গেলেন।
আস্তে আস্তে চা শেষ করে অফিসের খাতা পত্র দেখতে থাকলো।
মলি বিকেল থেকে সইফকে দেখছে না। সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়ে অপেক্ষা করতে করতে মনে করতে থাকে কোথায় যেতে পারে। আমাদের বাড়ির কথা সবার আগে মনে হয়। গত কয়েকদিনের আচরণে বাতিল করে দেয়। বড় বুবুর বাসায় যেতে পারে। যাক তাহলে ভালো হয়েছে ।সামলে নিক নিজেকে।তবুও জোসনা জাগে Jochana looks very beautiful and amazing at night 2023


মলি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশে চোখ রাখি সন্ধ্যার মিলান আলো হয়ে গড়ে পড়ছে সামনের ছয় তলার উপর দিয়ে কতদিন ভালো করে আকাশ দেখে না ওর সমস্ত অনুভূতি অবস হয়ে ছিল। আত্মীয়-স্বজনরা মলির দিকে আঙ্গুল তুলল তখন শইফের দিকে তাকিয়ে দেখেছে শেখানো রয়েছে তাই করার প্রধান অস্ত্র।
তারপর থেকে বলিও অপপ্রতিরোধ্য বেদনা একা একাই বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সইফ ভেতরে ভেতরেই হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছে। অন্য আরেকজনের সর্বহারা বেদনা গ্রাস করে রেখেছে দুজনকে।
ভাগ্নি কাহিমের নম্বর থেকে রিং বাজছে। ফোন ওপেন করে হ্যালো বলতেই
মামি।


তোমরা কেমন আছো
ভালো আছি মামী। মামী একটা কথা মামার দিকে খেয়াল রাখবেন। দেখলাম রাস্তায়। কাল দুপুরে আমাদের যেতে বললেন সেখানে। দুপুরে নাকি আমাদের বাড়িতে মিলাদ হবে। আমার কাছে মামাকে ঠিক মনে হলো না। ওর সঙ্গে সৌজন্যমূলক কথা বলে ফোনটা কেটে দেয়।
আমাকে ঠিক মনে হলো না মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগে এই কথাটা। তখনই মনে হল দুদিন আগে পাশের রুমে বসে কথা বলছিল বুলু মিয়ার সাথে।
সইফের যদি কিছু হয়ে যায়।


চা শেষ করে ভেতরে রান্নাঘরে দিকে রায়।
বুলু মিয়া হবে তো সবার। কম হবে নাতো।
মিয়া ভাই কি রে কন না।
ছাগলের গোস্ত, মুরগির গোস্ত,
ইলিশের মাথা দিয়া ডাল, বেগুন ভাজা বোয়াল মাছ আর আলুর বিরিয়ানি আর মিষ্টি আর দই।


থাক কারো খাওয়া নিয়ে কথা বলোনা। রিজিকের মালিক আল্লাহ।
বলে আর দাঁড়ায় না। বারান্দায় চলে আসে। রকে বসে পড়ে।।
আজ পূর্ণিমা চাঁদের আলোর প্লাবনে ভেসে যাচ্ছে হেমন্তের চরাচর।


সবুজ পাতায় রূপালী চাঁদের আলো পিছলে পড়ছে। হলুদ গাঁদার রঙ আরো মোহনীয় হয়ে উঠছে। পাশের পাকা ধানের ক্ষেতে ঝিরিঝিরি বাতাসের সমৃদ্ধ বাদ্য।

image by google

সইফ পা জোড়া শিথিল করে ছড়িয়ে দেয়।
কবে কখন কোথায় কিভাবে যেন ওর মাথায় শিল্প সাহিত্যের পোকা ঢুকে যায়।
শিল্প সাহিত্যের সেবাও করতে পারেনি।
চাকুরি চালিয়ে নিতে পারেনি যতবার ব্যাবসা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছে ততবার মুখ থুবড়ে পড়েছে।
মলি এলো,অবস্থা আগের মত।নড়ে চড়ে বসলো সইফ।


যে কোনো কাজে গেলেই সবাই মোটা অঙ্কের ঘুষ চায়।সইফ ঘুষ দিতে চায় না।সে ব্যাতিক্রম কিছু করতে চাই ঘুষ না দিয়ে।মলি হাল ধরলো।
দুজনে মিলে গড়ে তুললো অর্গানিক ফুডের যোগান দেবার জন্য সস্তি আউটলেট।
এখানে টিকে থাকতে হলে যে পরিমাণ চাতুর্যের দরকার হয় সেটা ছিল না সাইফের।তবে এবার মাঠ ছাড়বেনা দাতে দাত ঘষে দাড়িয়ে থাকবে।
বুলুমিয়া এসে বললো,মিয়া ভাত রান্না হয়ে গেছে আসেন ভাত খাবেন।


নিজে খেলো ও বুলুমিয়াকে বললো তুমিও খেয়ে শুয়ে পড়ো।
বাবুর্চি,কসায় সবাই সময় মত আসবে তো।
আপনি কোন চিন্তা করবেন না সব আগের মতই হইবে এতদিনের সাথে কালকের বিষয়টি এক নয়।
বুলু মিয়া জানি কালকের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা । এটা তার মালিকের কলেজে বন্ধুদের নিয়ে আয়োজন সেজন্য সে বাড়তি পরিশ্রম করে সব ঠিক রেখেছে।

কামিনী ছায়ার সাথে হাসনাহেনা গাছের একটা ডালের ছায়া মিলে একটা ছবির সৃষ্টি করেছে।
মনে হচ্ছে একটা শিশুকে কোলে নিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে আছে কেউ। ছায়াটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওর চোখ জলে ভরে ওঠে।
এমনই এক জোসনা রাতে হাসপাতালে নিচতলায় ওয়েটিং রুমে বসেছিল। হাসপাতালে সামনে মসজিদে এশার নামাজ শেষে, হাসপাতালের সিড়িতে দাড়াতে শিশুর কান্নার শব্দে বুঝতে পারে সইফ বাবা হয়ে গেছে।
সেদিন অপরিসীম আনন্দ নিয়ে সইফ রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল হঠাত বিদ্যুত চলে যায় সমস্ত রাস্তা ভরে গিয়েছে পূর্ণিমার আলোতে।

by google image

সইফ নিজের তুল তুলে হৃদপিণ্ড কোলে বাড়ির গেটে নামার সময় রিক্সার ঝাকুনিতে বাবুসোনার ঘুমটা ভেঙে সাইফের বুকের কাছের জামা নরম হাতে খামচে ধরে।
আহা কি আনন্দ,কি সুখ অনুভব করে সে।

সেদিনও অদ্রিকে নিয়ে বেরোবার মুখে হঠাত বিদ্যুত চলে যায় । কেউ একজন খোনা গলায় বলে উঠলো কারেন্ট যাওয়ার সময় পাইল না।
ওর কাঁধে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু বহনের দায়। তবুও মনে হচ্ছিল মায়াবী চাঁদনী রাতে পৃথিবীতে এসেছিল ঠিক তেমনি আলোর প্লাবনে চলে যাচ্ছে পৃথিবী ছেড়ে সাইফকে সম্পূর্ণ আধার করে।
আজ কেন কেমন একটা ছবি ওর কাছে পাঠালো কে পাঠালো। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন মেয়ে যখন স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেয় তখন আইন সমাজ আত্মীয়-স্বজন তাকে নানাভাবে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে কেউ বোঝেনা তার মা বাবার কি করতে পারতো ।তাদের মনের অবস্থা কেমন।


হঠাত মলির কথা মনে পড়ে আদ্রি চলে যাবার পর এই তিনটে মাস একটি কথাও বলেনি ওর সাথে। কি হয়েছিল সেদিন জানে না সইফ । ভেসে আসার কথা থেকে জেনেছে প্রতিদিন অনলাইনে খাবার অর্ডার করে এনে যতটা নিজে না খাই তার থেকে বেশি ফেলে দেয়।
এতে মৌলি বকাবকি করেছে আর তাতেই মেয়ের অভিমান হয়েছে।
সব মিটে গেলে মলি অনেকবার বলতে চেয়েছে সইফ কিছু তেই কোনো কথা শোনেনি।

by google image

চাঁদের আলোতে গলে গলে পড়ছে ওদের এতদিনের ভুল বোঝাবুঝি। নিজেদের ভেতরের অমসৃণ বেদনা কুয়াশায় স্বচ্ছ শিশিরের মত টুকটাক ঝরে।
হেমন্তের মিহি হিমেল বাতাস আর মসৃণ চাঁদের আলোতে দুটো শরীর অনিবার্য তৃষ্ণায় উষ্ণ হয়ে ওঠে।
চরাচর ভেসে যাচ্ছে চাঁদের কোমল মোহন আলোর প্লাবনে ।

Read More>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *