" crossorigin="anonymous"> ধর্ম রাজনীতি ও মনুষত্ব 5November 2023 GREAT - Sukher Disha...,

ধর্ম রাজনীতি ও মনুষত্ব 5November 2023 GREAT

রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্ম এখন এগুলো মানুষের শত্রু হিসাবে দেখা দিয়েছে । রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার ধর্মকে মানুষের ভয়ংকর শত্রু চিহ্নিত করে দিয়েছে । আধুনিক যুগে মানুষের আমল পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে না মানুষের ধর্মান্ধতার । সারা ভারতের মানুষ আজ ধর্মান্ধ । আজ পৃথিবীর সকল দেশের মানুষ ধর্মের কাছে অন্ধ । একের পর এক দেশ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ।

ধর্ম রাজনীতি ও মনুষত্ব 5November 2023 GREAT


রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্ম এখন এগুলো মানুষের শত্রু হিসাবে দেখা দিয়েছে । রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার ধর্মকে মানুষের ভয়ংকর শত্রু চিহ্নিত করে দিয়েছে । আধুনিক যুগে মানুষের আমল পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে না মানুষের ধর্মান্ধতার । সারা ভারতের মানুষ আজ ধর্মান্ধ । আজ পৃথিবীর সকল দেশের মানুষ ধর্মের কাছে অন্ধ । একের পর এক দেশ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে । ইরাক আর্জেন্টিনা লেবালন ব্রাজিল চিলি অবশেষে ভারত বর্ষ ।

বঞ্চনা স্বৈরাচারী শাসক দুর্নীতি মানুষের প্রতি মানুষের অবহেলা ধর্ম নিয়ে হানাহানি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে । মানুষ মানুষের শত্রু আবার মানুষ এই মানুষের ত্রাণকর্তা ধর্ম রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদে সামিল হচ্ছে ।

আর প্রতিবাদ মানেই তো অশান্তি । শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে কি প্রতিবাদ বলা যায় ? না আজকের শাসকরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভাষা বোঝে ? না ভয় পাই ? ওই প্রশ্নটি এখন মানুষের মনে বড় হয়ে উঠেছে । মানুষ ভীত আতঙ্কিত ধর্ম নামক ঔষধ প্রয়োগ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে মাতাল করে রেখেছে । এক দুটি রাজনৈতিক দল পরিস্কার করে বলছে মুসলিমদের দেশ থেকে তাড়াও ।

গুলি মারো শালাকে । যেখানে মুসলিম দেখবে সেখানেই তাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করো । এ ভারত বর্ষ হিন্দুস্তান এখানে শুধুমাত্র হিন্দুদের জায়গা আর যদি কেউ থাকতে চায় তাকে হিন্দু হয়েই থাকতে হবে । সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে বাঙ্গালীদের এক উদার এবং আধুনিক চিন্তাভাবনা ছিল ।

by google image

কিন্তু আজ রাজনীতির চক্রান্তে তারা ধর্মপ্রাণ হয়ে উঠেছে । মানুষকে হত্যা করার প্ররোচনা দিচ্ছে । আমরা যে নিজেরাই সন্ত্রাসবাদ হয়ে পড়ছি তা ভাববার অবকাশ নেই । বড় মিথ্যাচারে নিজেকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছি । এই গোপন শত্রু যে নিজের ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে তার সাথে কে লড়বে ।


আমি নিজে কখনো কোন ধর্মের অনুসারী নই । আমাকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন যারা আমার পাশাপাশি বাস করেন তারা জানেন মানুষ হবার জন্য আমার লড়াই
এভাবে বাচাটা যে কত কঠিন আমি জানি । প্রতিনিয়ত আমাকে শুনতে হয় বিদ্রুপ । হিন্দু মুসলিম কেউ আমাকে মেনে নিতে পারেন না । যে জায়গায় বাস করি ৩০ বছর ধরে ,সেখানের মানুষ অবশেষে ক্লান্ত হয়ে আমার পেছনে লাগা ছেড়ে দিয়েছে ।

তারা মেনে নিয়েছে যে, আমার নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে । আমি কোন জাতের নই আমি মানুষ । কিন্তু আজ নতুন করে আমি মুসলমান বলে চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছি । আমি একজন লেখক নই একজন কবি নই আমি একজন মুসলিম ।

by google image

অথচ এমনটা হবার কথা ছিল না । বাংলার হিন্দু মুসলমানের মিলিত সংস্কৃতি বিশ্বের সমাদৃত । বাংলা রবীন্দ্রনাথ নজরুল বাঙালি জাতির মিলিত গৌরব । ছোটবেলায় আমার মা এক খালায় মুড়ি দিত, আমাদের মহিন্দারের ছেলে শান্তি বাউরী আমার সাথে খেত ।

কিশোর বয়সে সে আমি একসাথে ঘুরতাম । এবং একসাথে শুতাম । পাশের গ্রাম হিন্দুদের অনেকেই জানেন গোপীনাথপুর এর নাম । সেখানে আশি ঘর হিন্দু পরিবার । সব ঘরেই আমাদের গ্রামের মানুষদের নবান্নে নিমন্ত্রণ থাকতো । সেদিন আমাদের গ্রামেও উৎসব বলে মনে হতো । যেহেতু সব পরিবারের নিমন্ত্রণ তাই সবাই মাছ নিয়ে যেত উপহার ।

মাছ ধরার হিড়ি ক পড়ে যেত গ্রামে । দুর্গা পুজো কালীপুজো ঈদ মহরম হিন্দু মুসলমান মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত । মান সিংহ একটি মুসলিম মেয়ের প্রেমে পড়ে । কুড়ি বছর ধরে তারা গোপনে দেখা করতো । জানাজানি হলে মারো খেয়েছে । দুই গ্রামের লোক বিচার করেছে । তাদেরকে সতর্ক করেছে । কিন্তু তারা একে অপরকে ছাড়তে পারেনি । এসব বুঝে হিন্দু মুসলমান উভয়ই শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে ভেবে সিদ্ধান্ত নেয় ।

দুই গ্রামের মাঝে পাঁচ কাঠা জায়গা দিয়ে ওদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয় । সে গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আমার ছোটবেলার হোস্টেল ছিল জয়দেব দার আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু । সেখানে হিন্দু-মুসলিম ছাত্ররা একসাথে থাকতো । আলাদা কোন জাত বলে ভিন্ন হোস্টেল ছিল না । আর আমাদের মনেও কোন প্রশ্ন জাগেনি যে ও হিন্দু ও মুসলমান ।

এখন আমি মনে মনে ভাবি আমার ছেলেকে ভর্তি করতে হলে মুসলিম হোস্টেলে ভর্তি করতে হবে । কোন হিন্দু হোস্টেলে নেবে না । আমি কোন হিন্দু বাড়ি ভাড়া পাবনা । হিন্দু এলাকায় জায়গা জমি কিনতে পারবো না । এসব আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি । আমাদের মধ্যে জাত ও জাতীয় সত্তার লড়াই টা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে । ধর্ম এখনকার রাজনীতির আধার হয়ে উঠেছে । আর মানুষের নির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে ।

সংখ্যাধাদিক্ষ মানুষ রাজনীতির দুচক্রে পড়ে নিজেদের নির্মল হৃদয়ের সুন্দর অনুভূতিগুলো হারিয়ে ফেলছে । তবু বিশ্বাসে অটুট আমরা অনেক মানুষ তাই বহু মানুষকে পথে নামতে দেখা যাচ্ছে । প্রতিবাদে সামিল হচ্ছে । গোটা বাংলায় এক জাতি এক প্রাণ । বাঙালি কোন বিভাজন চায়না । পূর্বের অবাঞ্ছিত বিভাজনের ক্ষত আজও ক্রীড়া দেয় । বিভাজনের কাজটা পরে শাসক শ্রেণী । তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ । তার বিরুদ্ধে পথে নামা ।

by google image

ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার সময় (পূর্ব পাকিস্তান) পূর্ব বাংলা পাকিস্তান শাসকের অধীনে থাকবে এমনটাই হয়েছিল । কারন এখানে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি । এই দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধিতা তখনকার বাঙালিরা করেছিলেন । বাঙালিরা বলেছিলেন তাদের ভাষার কথা ঐতিহ্যের কথা ইতিহাসের কথা । তারা এও বলেছিলেন পাকিস্তানের মুসলমানেরা সকলে এক রাষ্ট্রের সকলে মুসলমান তাদের ভাষা এক নয় । এক জাতি । বাঙালিরা কিন্তু হলেও এক জাত ভুক্ত নয় ।

এখানে হিন্দু মুসলিম খৃষ্টান বৌদ্ধ শিখ সব জাতের মহামিলন ও সব ধর্মেরও । যাদের ভাষা হল বাংলা । যার ঐতিহ্যের অন্তর্গত হলো রাজা রামমোহন রায়, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মোশারফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম ।

বাংলা বলতে যারা শুধু হিন্দুদের বোঝে তারা জানে এই মিলিত শক্তি জাত পাতের ভাগ না করলে শাসক হিসাবে তাদের উপর প্রভুক্ত কায়েম করার ক্ষেত্রে বিপদে পড়তে হবে । এই কচক্রী মনোভাব নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে তারা চিহ্নিত করতে চাইছে মুসলমানেরা অনুপ্রবেশকারী । কিভাবে ? আসুন দেখে নেওয়া যাক ।

by google image

১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে হত্যা করে ইংরেজরা রাজ সিংহাসন তুলে নেয় নিজেদের হাতে। স্বাধীন নবাবের বংশধর এর কেউ কেউ আজও বেঁচে রয়েছে । রয়েছেন নবাব দরবারে যারা সৈনিক, কর্মচারী, মজুর শ্রমিকের কাজ করতেন তাদের বংশধরেরা । তাদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যায় তারা হত দরিদ্র, অশিক্ষিত প্রান্তিক মুসলমান । এখন তারা সরকারি নীতির শিকার । তাদের দিতে হবে নাগরিকত্বের প্রমাণ । ৩০০ বছর ধরে যারা বাংলায় পাঠ করছেন, যাদের ভাষা বাংলা যারা বাঙালি তাদের প্রমাণ করতে হবে তারা অনুপ্রবেশকারী নয় । কি আশ্চর্য । আমার পরিবার হিন্দু মুসলিম সংস্কৃতির বাহক ।

আমাকে প্রমাণ দিতে হবে আমি অনুপ্রবেশকারী নই । অথচ 500 বছর ধরে বাঙালি ঐতিহ্য বহন করে আসছে আমার পূর্বপুরুষেরা । তাদের লাইনে দাঁড়াতে হবে । অবাক হয়ে যায় যখন দেখি আমার সাথে যেসব হিন্দু বন্ধুরা ৩০ বছর পাশাপাশি সুখে-দুখে এক হয়েছিলাম তাদের ইদানিং ব্যবহার দেখে । কেউ কেউ বলছে আপনার চিন্তা কিসের, আপনি তো একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক আপনার প্রমাণ কেউ চাইবে না ।


এর চেয়ে লজ্জা আর কি হতে পারে । সমস্যাটা চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে ভারতীয় মুসলিমদের ক্ষেত্রে । অথচ শতাব্দী প্রাচীর এইসব মুসলিমরা কোন না কোন হিন্দু থেকে আসা মানুষ । শুধুমাত্র বিদেশী মুসলিমদের অত্যাচারে তারা ধর্ম ত্যাগ করেছিল এমনটা সম্পূর্ণ সত্য নয় । প্রবল হিন্দুত্ববাদের অত্যাচারে সংখ্যা ভিক্ষুক অন্তর শ্রেণীর হিন্দুরা মুসলিম ধর্ম কখনো খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করে ?

গোটা দেশে এখন সংখ্যালঘুদের বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে । এই থেকে অপরাধ কাজ করছে আমাদের সন্তানদের মধ্যে। আমার মেয়ে তো চাকুর জীবনে নানা অবাঞ্ছিত প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আমাকে একদিন আমাকে বলল আমার নামটা বদলে ফেলবো। পুরো হিন্দু নাম দেব। এই সত্য কোথায় ফেলবো ।


এতসবের পরও আমি বিশ্বাস করি মানুষ একদিন মানুষের মত আচরন করবে । তারা বুঝতে শিখবে এটা মানুষের সমস্যা। কোন সম্প্রদায়ের নয় । আবার আমরা বাংলার হিন্দু মুসলমানের মিলিত সংস্কৃতি তুলে ধরব । তারপর প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে । আসার কথা সারা দেশের ছাত্র সমাজ আন্দোলনে নেমেছেন । নিমেছে বুদ্ধি জীবীগন ও । আমি মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখি ।

Read More>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *