" crossorigin="anonymous"> নাটকের শেষ অংশ The end of the drama is very beautiful and wonderful 2023 - Sukher Disha...,কই শুনছো ঘুমালে নাকি? সাবিনার মায়ের ডাকে ভাবনাই ছেদ পড়লো সামাদ মিয়ার।

নাটকের শেষ অংশ The end of the drama is very beautiful and wonderful 2023

সামাদ মিয়া শান্তিপুরের শান্তিপ্রিয় একজন খুব সুন্দর মানুষ । জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তাকে ভালোবাসে। এক কথায় তাদের সম্ভ্রান্ত পরিবার। ছেলে মেয়ের দুটো দেখতেও যেমন সুন্দর তেমনি শিক্ষা দীক্ষায় গ্রামের অন্য ছেলেমেয়েদের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

নাটকের শেষ অংশ The end of the drama is very beautiful and wonderful 2023

এইতো দু’বছর আগে ছেলে রাখি পাশের গ্রামে নিশ্চিন্তপুরের প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পেয়েছে। ৮৭% মার্ক নিয়ে সব বিষয়ে পাশ করলেও পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। চাকরির জন্য বিভিন্ন দিক থেকে কন্যা দায়গ্রস্থ পিতারা কন্যা দায়থেকে মুক্তির জন্য ছুটে আসে । কিন্তু সে নিজের ছোট বোন সাবিনার বিয়ে না দিয়ে সে কখনো বিয়ে করবে না। পূর্ব পাড়ার মাস্টার সুলাইমান এর ছেলে রহমান খুব ভালো ছেলে ও রাকিবের বন্ধু। মাঝে মাঝে রাকিবদের বাড়িতে বেড়াতে আসে, রাকিব বাড়ি না থাকলে সাবিনার সাথে অনেক সময় কাটিয়ে দেয়। রহমান, সোলায়মান যেমন আদর্শ শিক্ষক তেমনি আদর্শ মানুষ একটা বিশেষ নীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে।

তাই সামাদ মিয়া রহমানকে জামাই করবে,কিন্তু সাবিনা কে বিয়ে করার প্রস্তাব শোনার সাথে সাথে সামাদ মিয়ার বাড়িতে ছুটে এসে রহমান রাকিবকে বলে, দেখো রাকিব সাবিনা পাত্রী হিসেবে ভালো ওর মতো মেয়ে আমি হয়তো জীবনে পাব না কিন্তু ও তোর বোন আমার বোনের মত। তাই আমি সাবিনাকে আমার বেকার জীবনের সাথে জড়াতে চাইনি। সাবিনার অনেক চাওয়া পাওয়া আছে যে গুলো বেকারত্বের কারণে আমি মেটাতে পারবো না। রহমানের কথাই রাকিব বলতে থাকে বাড়ির সবাই খুশি হয়েছিল তার মহত্ত্বের জন্য। মনে মনে তাকে ধন্যবাদ দিলাম। রহমানের প্রতি আমার স্নেহ আরো বেড়ে গেল।


কয়েকদিন পর নিশ্চিন্তপুরের শেখবাড়ি রাজেশ শেখের ছেলের জন্য সম্বন্ধ নিয়ে এলো সাবিনার মামা রাজপুত্রের মতো চেহারা প্রথম দর্শন এই সবার মন জয় করেছে ছেলেটা। শেখ বাড়ি আদি বুনিয়াদি এবং গৃহস্থ্য বলা যায় বেশ বড়লোক। ছেলের সালাউদ্দিন সরকারি চাকরি না করলেও কোম্পানির কাজে মোটা অংকের বেতন পাই। তাই আত্মীয়-স্বজন মিলে 19ই ফাল্গুন বিয়ের দিন ধার্য করেছে।

বুবাই বৈবাহিক সম্বন্ধ পাকা হতেই সালাউদ্দিন মাঝে মাঝে রাকিবদের বাড়িতে আসে। আনন্দ প্রিয় ছেলে বাড়ির সবার সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এই কয় দিনে। তবে যখন আসে ফোন করে আসে। আগামীকাল রাত্রে বিয়ে তাই বিকালে সাবিনাকে নিয়ে গেছিল বিয়ের বাজার
করতে। সাবিনার পছন্দমত বিয়ের সাজসজ্জা কিনবে বলে। এইতো রাত আটটার মধ্যে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরেছে ,বাড়ি ফিরে সাবিনা হাসতে হাসতে মাকে সব বলল।
কই শুনছো ঘুমালে নাকি? সাবিনার মায়ের ডাকে ভাবনাই ছেদ পড়লো সামাদ মিয়ার।


মেয়েটা সেই কখন আসছি বলে চলে গেল এখনো বাড়ি ফিরল না এত রাত পর্যন্ত তো কোনদিন বাইরে থাকে না।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল সামাদ মিয়া, এখন রাত এগারোটা। যে মেয়ে সন্ধ্যার পরে বাড়ির বাইরে যায় না । এ বিয়েতে সমর্থন না থাকলে সালাউদ্দিনের সাথে বাজার করতে যেত না, কিন্তু মেয়েটা গেল কোথায়।


শুনছো? আমি বলছিলাম তুমি একবার নিশ্চিন্তপুরে ফোন করো।
মাথা খারাপ এই রাতে কাউকে জানানো যাবে না তুমি বরং রাকিবকে ডেকে দাও ওর সাথে একটু পরামর্শ করি। মুখে কথাটা বললেও তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ছিল। জ্যোৎস্নার উজ্জ্বল রাত হলেও তাদের পরিবারের নেমে এসেছে অমাবস্যার কালো অন্ধকার। তাদের হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ মেরে যেন মেয়েটা নর কুণ্ডে ফেলে দিয়েছে। চিৎকার করে কিছু বলা বা হাত-পা ছোড়ার কোন ক্ষমতা তাদের নেই।

এইভাবে নির্বাক অবস্থায় যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে মানুষ নামক তিনটি প্রাণী। বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় এসেছে, তাদেরকে দেখে কিছু বলতে পারছে না। ভোর হতেই ক্যাটারিং এর ছেলেরা এসে পড়বেই তখন সামাদ মিয়া কি বলবে। পিঠে একটা বড় ব্যাগ ঝুলিয়ে ছুটতে ছুটতে রহমান বলল চাচা রাকিব তোমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে তোমরা কি সাবিনাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিলে?


সকলে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে রহমানকে প্রশ্ন করল কেন কি হয়েছে সাবিনার।
ওই তো পশ্চিম মাঠে রাখালি পুকুরের ধারে সম্ভবত আত্মহত্যা করে পড়ে আছে।
সবাই রহমানের কথাই বজ্রা হতের মত চিতকার করে কান্নায় ভেঙে পড়ল। ওদের কান্না শুনে বাড়িতে আসার আত্মীয়-স্বজন ও কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। সব শুনে তারাও রহমানের সাথে সবাই ছুটে চলে যেখানে সাবিনা পড়ে আছে। সবার আগে পাগলিনির মত বুকে করাঘাত করতে করতে দৌড়াতে থাকে সাবিনার মা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি জন্মদিনের মতো মৃত মেয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাবে এমন সময় রহমান সাবিনার মাকে টেনে সরিয়ে আনে।

by google image

যা করার পুলিশ এসে করবে,দেখে তো মনে হচ্ছে কেউ সাবিনাকে মার্ডার করেছে।

আকাশে রক্তে মাখা প্রভাত সূর্যটা মাথা উঁচু করে ধীরে ধীরে রক্ত চুষে নিচ্ছে। ভোরের আঁধার দূর হওয়ার আগেই বাতাসের বুকে ভর করে এই মর্ম পীড়া দায়ক ঘটনা সারা গ্রামের ছড়িয়ে পড়ল। এমনকি কাকতালীয়ভাবে যে পরিবারে সাবিনার আজ বিয়ের কথা সেই বাড়িতে সাবিনার মৃত্যুর খবর পৌঁছে গেল ।দেখতে দেখতে সারা গ্রাম আছড়ে পড়ল সাবিনা নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা। সাবিনাকে ঘিরে নিশ্চিন্তপুর থেকে সালাউদ্দিন ও তার পরিবারবর্গ এসেছে।

সালাউদ্দিন ভাবি বধুকে মৃত অবস্থায় দেখে উন্মাদের মতো বিলাপ করতে লাগলো। তার স্নেহ মায়া মমতা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত। কৌতুহলী জনতার মধ্যে কেউ কেউ মোবাইলে ছবি তুলে নিচ্ছে । সকল অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে কম বেশি রাজনীতির রং লাগে ।সাবিনার মৃত্যু রাজনীতি থেকে বাদ গেল না । মহিষবাথান এর ৪৭ নম্বর বুথের নির্বাচিত প্রতিনিধি পরেশ বাবু জনতার বাইরে গিয়ে একটু সময় নিয়ে থানায় ফোন করলেন। যথা সময়ে থানার বড়বাবু হাজির হলেন ।বিরোধী দলনেতা রহমানের খোজ করতে লাগলেন ও ক্যামেরাম্যানকে সযত্নে ফটো তোলার নির্দেশ দিলেন ।

বড় বাবু হাতে রুমাল দিয়ে সাবিনার ব্লাউজের ভিতর থেকে স্বয়ংক্রিয় মোবাইলটা টেনে হাতে নিলেন। ততক্ষনে রহমান বড়বাবুর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। রহমানকে হাতে পেয়ে সাবিনাকে প্রথম দেখা ও প্রথম সংবাদদাতা হিসাবে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। সামাদ মিয়া ও রাকিব চুপ থাকতে পারল না নিজেদের সব ভুলে রহমানের পক্ষ নিয়ে বড় বাবুর সাথে সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ল। লোকের ভয়ে রহমানের গায়ে হাত বুলিয়ে এই কেসের তদন্তে সুবিধার জন্য থানায় ডেকে নিয়ে গেলেন । সাবিনার মরদেহ পাঠানো হলো স্থানীয় সদর হাসপাতালে।


কথাই বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, যেটা ঘটার কথা ছিল কিন্তু ঘটলো তার বিপরীত। সাবিনার কাটা ছেঁড়া দেহটা হাসপাতাল থেকে আনতে গেলে অনুমতি প্রয়োজন তাই রাকিব ও তার দুই বন্ধু থানায় গিয়ে শুন্য বড়বাবু রহমানকে সন্দেহবাজন হিসাবে কোর্টে চালান করেছে। বড়োবাবু থানাতে নেই । ছোট বাবুর ওপর দায়িত্ব দিয়ে কোথায় গেছেন বলে যাননি। কিন্তু পরের দিন কেটে গিয়ে জানা গেল মাডার ও দর্শনা অপরাধে রহমানকে জামিন অযোগ্য ধারায় কেস দেওয়া

by google image

সোলাইমান সাহেব মনের দিক থেকে দারুণ ভেঙে গেলেন। পাড়ার অনেকের তাকে বুঝালো রহমান সম্পূর্ণ নির্দোষ। সে জেল থেকে ছাড়া পাবেই। সামাদ ও রাকিব এর কেসের সমস্ত দায় নিয়ে তাকে চিন্তা করতে বারণ করল। তারা বুঝালো মহামার চক্রান্তের শিকার। নির্দোষীকে বেশিদিন আটকে রাখা যায় না।

সকলে যাই বলুক একমাত্র সন্তানের কথা তিনি মাথা থেকে মুছে ফেলতে পারলেন না। কয়েক মাস যেতে না যেতে ই আদর্শ শিক্ষক সোলায়মান সাহেব সকলের মায়ের বাঁধন ছিন্ন করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। রহমানের সংসারে নেমে এলো শোকের ছায়া। রহমানের মা স্বামী হারা সন্তান হারা হয়ে পাগলিনীর প্রায়। সামাদ মিয়া রহমানের মাকে বড় বোনের আসনে বসিয়ে মাতৃজ্ঞানে বুকে টেনে নিলেন।


রহমানের জীবনের উপর দিয়ে এক এক করে বারোটা মাছ পেরিয়ে গেল। রহমানের উকিল রাকিবের রহমানকে করতে বারবার সরকারের চুক্তি জাল ছিন্ন করে নির্দোষ প্রমাণ করলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে জজ সাহেব পুলিশকে সঠিক ততন্তের নির্দেশ দিয়ে কয়েক মাস বাদে বাদে সুনানির দিন দিচ্ছেন।

২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কোর্টে দাঁড়িয়ে সাহিন সাহেব সরকারি সরকারি উকিলকে বসিয়ে দিয়ে বললেন, আমি আজ সাবিনা কুনের ব্যাপারে সকলকে নতুন গল্প শোনাবো তার আগে মহামান্য আদালতের কাছে একটা ভিডিও দেখার অনুমতি চাইছি জজ সাহেবের অনুমতিতে ভিডিও চালু করা হলো। পর্দায় দেখা গেল সাবিনার মৃত্যুতে একটি ছেলে অস্বাভাবিক শোকাহত এবং পাগলের মত বিলাপ করছে। সরকারি উকিলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাহীন সাহেব বললেন ওই যে ছেলেটিকে দেখছেন ওর যে বিরহকতা আপনার কি বাস্তব বলে মনে হচ্ছে না অভিনয়।


সবারই ব্যক্তির সম্মান সমান হয় না দেখতে অভিনয় হলেও বাস্তব।
তা ঠিক তবে এক্ষেত্রে যে অভিনয় সেটা আমি প্রমাণ করব। মহামান্য আদালতের কাছে নিশ্চিন্তপুরের শেখবাড়ি সালাউদ্দিন কে আদালতে হাজির করার অনুমতি চাইছি। অনুমতি দেয়া হলে সালাউদ্দিন সাহেব আসার পর শাহীন সায়েব তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন আপনাকে সেই সূদুর বর্ধমান থেকে এই বারাসাত কোর্টে নিয়ে আনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। মৃত সাবিনার সাথে আপনার বিয়ের সম্বন্ধ হয়েছিল তার এক বছর বাদে আমার মনের কৌতুহল চরিতার্থের জন্য কোর্টে করতে বাধ্য হলাম। আশা করি স্বামীর হত্যাকারী উপযুক্ত সাজা পাক আপনিও সেটাই চান। আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে আদালতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবেন।


আপনি তো মডার্ন কলেজের ছাত্র ছিলেন কত সালে ভর্তি হয়েছিলেন মনে আছে?
২০১৪ সালে।
কলেজ থেকে বেরিয়ে আসেন ২০১৭ সালের কয়েক মাস পর। আচ্ছা আপনি বলুন তো ওই সময় মানে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ওই কলেজের দাদা ছিলেন শান্তনু মাস্তান ভক্তরা থাকে সোনাদা বলে ডাকত। কলেজ নির্বাচনে বোমা ফাটানোর অপরাধে কয়েকবার ধরে নিয়ে গেলেও পার্টি লোক হিসাবে তাকে বেশিদিন থানায় রাখা যায়নি। আপনি চেনেন তাকে ,মাথা নিচু করে থাকবেন না কথার উত্তর দিন, তিনি বললেন হ্যাঁ আমিই সেই সোনাদা।

by google image

ধন্যবাদ সালাউদ্দিন সাহেব সত্য সত্য কথা বলার জন্য। ওই সময় মডার্ন কলেজ থেকে পাঁচজন ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায় আজও তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি 2017 সালে নভেম্বর মাসে কলেজের পেছনে একটি বড় আম বাগান আছে ওই আম বাগানে সোনালী নামের এক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর লাশ পাওয়া যায়। যাকে নৃশংস ভাবে মার্ডার ও ধর্ষণ করা হয়।


সরকারি উকিল প্রতিবাদ করে বলেন। আপনি গল্প শোনাতে গিয়ে মডার্ন কলেজের পাশে কথা মূলক কর্মকান্ডের সাথে সালাউদ্দিন সাহেবকে জড়াতে চাইছেন প্রকাশ্য আদালতে এইভাবে আপনি তাকে অপমান করতে পারেন না। উত্তরে শাহিন সাহেব বলেছিলেন এই মার্ডার কেসের তালিকায় অনেক কে রাখা হয় কিন্তু সাবিনা খুনের ব্যাপারে কেবলমাত্র রহমানকে সন্দেহ করে সাজিয়ে আসামি করা হয়েছে। সালাউদ্দিন সাহেবকে তালিকায় রাখা উচিত ছিল।

কারণ সাবিনার মোবাইলে সর্বশেষ করেছিলেন তিনি সালাউদ্দিন সাহেব। সরকারি উকিল বলল মহামান্য আদালত আমার বন্ধু উকিল প্রমাণ ছাড়া সরাসরি এভাবে আমার মক্কেল কে অপমান করতে পারেন না। সাহিন বললো ধন্যবাদ বন্ধু এই গল্প পরে বলছি তার আগে মর্ডান কলেজের গল্পটা শেষ করি আচ্ছা সালাউদ্দিন সাহেব মর্ডান কলেজে আপনি বল্টু নামে কাউকে চেনেন। না ওই নামে আমি আমার কোন বন্ধু ছিল না।


ও আচ্ছা মহামান্য আদালতে বল্টু কি হাজির করার অনুমতি চাইছি। অনুমতি দেয়া হলে শাহিন সাহেব বল্টুকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি চিনেন সোনাদাকে। বল্টু বলল হ্যাঁ ওই তো সোনাদা যার পাপের সঙ্গী হওয়ার কারণে আজও আমাকে জেলে পচে মরতে হচ্ছে সাবিনা ঐ ফোন করেছিল।
সরকারি উকিল ঠিকই তো একটা জেলখানার আসামী আপনার বন্ধু হতে পারেনা প্রমাণ ছাড়া আমার বন্ধু উকিল নতুন গল্প শোনাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন।
শাহীন বলল গল্প তো সবে শুরু শেষ পর্যন্ত শুনুন।


সরকারি উকিল বলল বেশ তো আপনার গল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আর একটি কথাও বলবো না।
শাহিন ধন্যবাদ বন্ধু বল্টু বাবু আপনি যেতে পারেন অতি পরিচিত বন্ধু চিনতে না পারলে খুব কষ্ট লাগে। দুঃখ করবেন না।
সালাউদ্দিন সাহেব বলুন আপনার কর্মস্থান বর্তমানে কত বছর হল বিয়ে করেছেন। কি হলো মাথা নিচু করে আসেন কেন।। বলুন। সালাউদ্দিন সাহেব বলল আমি এখনো বিয়ে করিনি বিয়ে করলে কি সাবিনাকে বিয়ে করতে চাইতাম।

শাহিন সাহেব বলল লেখেন স্যার আলাউদ্দিন সাহেব এখনো বিয়ে করেননি। আমি মহামান্য আদালতের কাছে বর্ধমান নিবাসী মার্জিনা বিবিকে হাজির করার জন্য অনুমতি চাইছি।
অনুমতি দেয়া হলো। এবার সালাউদ্দিন সাহেব কে বলল মার্জনা দিদির সঙ্গে আপনার কি সম্পর্ক।
সালাউদ্দিন বলল আমি ওকে চিনি না। আবার বললেন সত্যি করে বলুন।

সাহিন সাহেব লিখুন স্যার আলাউদ্দিন সাহেব মার্জিনা বিবিকে চেনেন না। এবার মর্জিনা বিবিকে বলা হলো আপনি সালাউদ্দিন কে চিনেন। তিনি বললেন, না।
আপনিও চেনেন না আচ্ছা মর্জিনা বিবি পথে আসার সময় চার ঘন্টা আগে আপনার কাছে কে ফোন করেছিল । মার্জিনা বলল আমার স্বামী। শাহীন বলল আপনি এবার সত্য কথাটাই বলেছেন, দেখি আপনার মোবাইলটা মার্জিন বললো আর সে তো গাড়িতে পুলিশ আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিল।


শাহীন বলল কিছু মনে করবেন না আপনার মোবাইল আমার কাছে। আপনার সঙ্গে তো একটি বাচ্চা ছিল ওকি আপনার সন্তান? মর্জিনা বললো হ্যাঁ ও আমার মেয়ে।
সাহিন বললো আপনার মেয়ের বয়স কত বলল চার বছর।ওকে আপনার পাশে ডাকি।

বেশ ডাকুন মহামান্য আদালতের কাছে মার্জিন বিবির মেয়েকে হাজির করার অনুমতি চাই। অনুমতি দেয়া হলো , শাহিন বলল ওই লোকটিকে চেনো , মেয়েটি বলল ও আমার আব্বু। শাহিন বলল আপনার মেয়ে ওর আব্বুকে চিনতে পারল আর আপনি আপনার স্বামীকে চিনতে পারলেন না। মাথা নিচু করে আছেন কেন। জানেন আদালতে মিথ্যা কথা বলা অপরাধ। সালাউদ্দিন সাহেব মিথ্যা বলেছেন। সময় এলে উনিও সত্যি কথা বলবেন। সরকারি উকিল বলল মহামান্য আদালত আমার বন্ধু অযথা আদালতে সময় নষ্ট করছে। স্বামী-স্ত্রী চেনা অচেনার সাথে শাবানা খুনের সম্পর্ক নেই। শাহিন বলল আচ্ছা জজ সাহেব আদালতে মিথ্যে কথা বলার অপরাধ কি।

স্যার তবে আমি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। স্যার ওই দুটো মোবাইলে একই নম্বর থেকে কল এসেছে। সালাউদ্দিন সাহেব পকেটে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। হাত উপরে রাখুন আপনারা সবাই একটা মোবাইলে রিংটোন শুনতে পাচ্ছেন আওয়াজটা সালাউদ্দিন সাহেব এর পকেট থেকে আসছে। আপত্তি থাকলে মোবাইলটা আমার হাতে দিতে পারেন ধন্যবাদ সালাউদ্দিন সাহেব আমার সহকর্মী বন্ধুর কোন কৌশল থাকলে বলতে পারেন।

সরকারি রুটি ধন্যবাদ আমাকে কথা বলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমি বুঝতে পারছি না আপনি কেন সালাউদ্দিন সাহেবকে ফোন করলেন কেনই বা তার মোবাইল?
শাহিন মহামান্য আদালতের কাছে আমি দুটো মোবাইল পেস করেছিলাম দুটো মোবাইলে একই নাম্বার থেকে ফোন করা হয়।যে নাম্বারটা আছে আমার হাতে এই মোবাইল যেটা একটু আগে সালাউদ্দিন সাহেব পকেটে ছিল। এই নম্বরটা থেকে ফোন করা হয় চার ঘন্টা আগে মর্জিনা বিবির মোবাইলে। ঠিক বলছি তো মার্জিনা বিবি ,জি হা।ঠিক বলেছেন।

শাহীন বললো চৌদ্দ মাস আগে এই একই নাম্বার থেকে 8.10 কে সাবিনা ফোন করা হয়। সাবিনা পরিচিতি নাম্বার পরিচিতি কণ্ঠস্বর প্রত্যাখ্যান করতে পারেনি কারণ কয়েক ঘন্টা পর বিয়ে হবে তার। এবার বলুন সালাউদ্দিন সাহেব আপনি কেন সাবিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। সালাউদ্দিন সাহেব বললো আমি ফোন করে সাবিনাকে ডাকলেও আমি তাকে মার্ডার করিনি। শাহিন বলল তাহলে কে হত্যা করতে পারে বলে আপনার মনে হয়।

সালাউদ্দিন সাহেব বলল রহমানই তাকে খুন করেছে। শাহীন বলল আপনি যখন রাত আটটা দশের পরে সাবিনার সাথে প্রেম আলাপ করছিলেন সেই সময় রহমান অতর্কিত এসে সাবিনার ওড়না দিয়ে তাকে শ্বাস করে খুন করে,এইতো। সালাউদ্দিন সাহেব বলল ঠিক তাই। শাহিন বলল দেখলে তো মনে হয় রহমানের থেকে আপনার গায়ে অনেক শক্তি। রহমান আপনার হবু স্ত্রীকে খুন করল আর আপনি তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন।


সালাউদ্দিন না মানে মানে করতে লাগলো। সত্যকে হাজারো মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না একদিন না একদিন সত্য ঘটনা প্রকাশ্যে আসবেই।
শুনুন আপনি রাত 8.10 সাবিনা কে ফোন করেন। সাবিনা বাড়ি থেকে হেঁটে আসতে সময় লাগে 10 মিনিট। পোস্টমর্টেম এর রিপোর্ট বলছে সাবিনা খুন হয়েছিল রাত্রি আটটা থেকে নটার মধ্যে। সেই সময় সাবিনার সঙ্গে আপনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। আরো শুনুন এই ১৪মাসে সাতবার শুনানি হয়েছে। সেই সোনানীতে ফরেন সিক রিপোর্ট ও মেডিকেল রিপোর্ট রহমান কে দোষী প্রমাণ করতে পারেনি।

সালাউদ্দিন সাহেবের মেডিকেল রিপোর্ট বলছে সালাউদ্দিন সাহেব সাবিনাকে ধর্ষণ করেছে। সাবিনা ও সালাউদ্দিনের মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে পেশ করছি। আমি সন্দেহাতীত ভাবে বলতে পারি যেহেতু আগে খুন ও পরে ধর্ষণ করা হয়েছে উভয় কাজ ই সালাউদ্দিন সাহেব করেছে। এবার আর কিছু বলতে না পেরে সালাউদ্দিন শাহেদ সব স্বীকার করে নিলেন । বললেন আমার অন্যায় হয়ে গিয়েছে আমি সব স্বীকার করছি। এবং আমাকে যা শাস্তি দিবেন আমি সব মাথা পেতে নেব
আমি সবশেষে বলবো এই অপরাধমূলক শাস্তির জন্য খুনির ফাঁসি হওয়া উচিত।

by google image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *