" crossorigin="anonymous"> ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও তার উপকারিতা The good great 2023 - Sukher Disha...,

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও তার উপকারিতা The good great 2023

সামাজিক জীবনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম । মহান আল্লাহ যেমন ন্যায় বিচারক তেমনি মানবজাতিকে তাদের জীবনের সবদিকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন । কিন্তু ন্যায় বিচারের পরিচয় কি । ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব কতটুকু ? ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল ও উপকারিতা কি? এ সম্পর্কে ইসলামের দিক নির্দেশনা কি ।

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও তার উপকারিতা The good great


ন্যায় বিচারের পরিচয় আরবি আদল শব্দের অর্থ হলো ন্যায়বিচার । তাই ন্যায় বিচার হলো আদল – ইনসাফ করা । ভারসাম্য রক্ষা করা ইত্যাদি । ইসলামী শরীয়তে ন্যায়বিচার হল কোন বস্তুকে সমান অংশের অধিকারীদের মধ্যে এমনভাবে ভাগ করে দেওয়া যাতে কারো অংশে বিন্দু পরিমাণও কম বা বেশি না হয় । অর্থাত যার যতটুকু প্রাপ্য আছে তা আদায়ের জন্য সুব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার নাম ন্যায় বিচার।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এবং সাহাবায়ে কেরামগণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।
ন্যায় বিচারের গুরুত্ব মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কথা-বার্তা,কাজ-কর্ম, আচার-আচরণ, বিচার-ফায়সালা, লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয় যুদ্ধ – সন্ধি, ভোগ ব্যবহারে সততা,নায়-নীতি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার নামেই ন্যায় বিচার । সুষ্ঠু সমাজ বিকাশে তথা ইনসাফ ও ন্যায় নীতি ভিত্তিক আদর্শ সমাজ নির্মাণে ন্যায়বিচারের ভূমিকা অতিব গুরুত্বপূর্ণ । কেননা আদল বা ন্যয় বিচারই হচ্ছে মানুষের পারস্পরিক সম্বন্ধ, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি । সমাজ সংরক্ষণ, শাসন পরিচালনা এবং পারস্পারিক সম্বন্ধ রক্ষা ও উন্নয়নের প্রতিটি প্রেক্ষাপটে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনস্বীকার্য ।


ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুফল
1) ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা- যে সমাজে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন আছে সেখানে প্রতিটি মানুষের জানমাল মান সম্মান ও অধিকার নিরাপদ । কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে যদি উপযুক্ত বিচার ফায়সালা বা ন্যায় বিচার করা হয় , কারো পক্ষপাতিত্ব করা না হয় কেবল তখনই সে সমাজে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা হতে পারে । এজন্য মহান আল্লাহ তা’আলা এ মর্মে নির্দেশ দেন আর যখন মানুষের মধ্যে ফায়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে কতই না সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা ।


2) সামাজিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠা-সমাজ জীবনে মানুষকে অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় ।সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বিরোধী ততপরতা যেমন চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক, ছিনতাই, খুনখারাবি, হত্যা-লুন্ঠন,জুলুম অত্যাচার-অনাচার, অবিচার- ব্যভিচার,শোষণ – নিপীড়ন ইত্যাদি কার্যকলাপ সমাজকে কুলসিত ও বিপর্যস্ত করে তোলে । এসব সামাজিক অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সে সমাজে অন্যায় ও অপরাধ প্রবণতা সংক্রামক ব্যাধির মতো বিস্তার লাভ করবে । ফলে সে সমাজের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং শান্তি শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে । সে সমাজ আর মানুষের বসো উপযোগী থাকবেনা । সুতরাং সামাজিক শান্তি – শৃঙ্খলা ও সুখ সমৃদ্ধির জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা একান্ত অপরিহার্য ।


3) অধিকার প্রতিষ্ঠা – সমাজের শক্তিশালীরা যেন দুর্বলের ওপর অত্যাচার করতে না পারে অন্যের সম্পদ যাতে জোরপূর্বক হোক দখল করে নিতে না পারে সবাই যেন পূর্ণ মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্য সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা একান্ত প্রয়োজন ।



4) ব্যবসা-বাণিজ্যে মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে লেনদেনে সুষ্ঠু অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ন্যায় বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম । দ্রব্য সামগ্রীতে ভেজাল দেওয়া ওজনে কম বেশি করা পণ্যের ত্রুটি গোপন করে বাজারজাত করা এসবই ব্যবসায়িক অসাধুতা সুষ্ঠু অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্তরায় । আল্লাহ তায়ালাল ঘোষনা আর পরিমাণ ও ওজন ইনসাফ এর সঙ্গে পরিপূর্ণ করে দেবে ।


5) প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রশাসন ব্যবস্থাকে মজবুত ও সুসংহত রাখতে অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই । ন্যায়বিচার পরিপন্থী প্রশাসন ব্যবস্থা বেশিদিন টিকতে পারে না । একসময় প্রশাসনের প্রতি জনগণ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে । ফলে প্রশাসনিক অবকাঠামো ভেঙে যায় । তাই প্রশাসনিক মজবুতি ও সুস্থতার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম ।

by google image


6) সাম্য প্রতিষ্ঠার ন্যায়বিচার সমাজের সকল কর্মকান্ড যদি ন্যায়বিচারের সঙ্গে হয়,তবে সমাজের প্রতিটি লোকের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত হয় । ন্যায় বিচার বা ন্যায়দন্ডের ছায়াতলে সবাই ভাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হয় । পক্ষান্তরে ন্যায়বিচার এর অভাবে প্রতিহিংসা দানা বাঁধতে থাকে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হয় । ফলে একটা সময় চরম পরিণতি অনিবার্য হয়ে ওঠে । এ জন্যই মহান আল্লাহ বলেন নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ ন্যায়বিচার ও নিকট আত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালংঘন থেকে নিষেধ করেছেন । থেকে নিষেধ করেন তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।

7) সাক্ষ্য ও বিচারকার্যে আল্লাহর দেওয়া আইন কোরআন ও নবীজি সাঃ এর সুন্নাহ অনুযায়ী বিচার কার্যে এবং সাক্ষ্য প্রদানে শত্রু মিত্র বন্ধুবান্ধব নিকট আত্মীয় বাবা-মা ছেলে-মেয়ে আপন পর উঁচু-নিচু। সবার প্রতি সমান আচরণ করতে হবে।


এক্ষেত্রে কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী । এ মর্মে মহান আল্লাহতালা ঘোষনা করেন হে মুমিনগণ তোমরা ন্যায়ের উপর সুপ্রত প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষী রূপে । যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা বাবা-মার অথবা নিকট আত্মীয়র বিরুদ্ধে হয়। যদি সে বৃত্তশালী হয় কিংবা দরিদ্র তবে আল্লাহ উভয়ের ঘনিষ্টতর । সুতরাং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না । আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা এড়িয়ে যাও তবে আল্লাহ বলেন তোমরা আল্লাহ তোমরা যা করো সে বিষয়ে অবগত ।

by google image


8) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ন্যায় বিচার– ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জিত হয় । এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় শুধু তাই নয় আল্লাহ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারীকে ভালোবাসেন । মহান আল্লাহর ঘোষণাও এমনই হে মুমিনগণ তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হিসাবে সদা দণ্ডায়মান হও । কোন কমের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের কোন ভাবে প্ররোচিত না করে যে , তোমরা ইনসাফ করবে না । তা তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করো নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ সেই বিষয়ে অবগত।


অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ ন্যায় বিচারকারীদের ভালোবাসেন বলে ঘোষণা দেন , তারপর যদি দলটি ফিরে আসে তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সঙ্গে মীমাংসা ও ন্যায় বিচার কর নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচারকারীদের ভালবাসেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব কত বেশি, তা একটি হাদিস থেকে প্রমাণিত পরকালের সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর আরশের নিচে স্থান পাবেন। তার মধ্যে প্রথম শ্রেণি হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী ইমামগণ । এর চেয়ে বড় সুখবর আর কি হতে পারে । আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতকে কোরআন সুন্নাহর সঠিক নির্দেশনায় সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার তৌফিক দান করুন।

by google image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *