" crossorigin="anonymous"> বটবৃক্ষ বা বাবা মায়ের গুরুত্ব Mother ia a good and great personality 2023 - Sukher Disha...,

বটবৃক্ষ বা বাবা মায়ের গুরুত্ব Mother ia a good and great personality 2023

সকালে ঘুম ভাঙতেই ভীষণ দুশ্চিন্তায় মনটা খারাপ হয়ে যায় শাকিলের। তবুও, হয়তো প্রকৃতির তাড়নায় তাকে আস্তে আস্তে উঠে বুঝতে হয়, মনটাকে না হলেও দেহটা কি অনিচ্ছা সত্ত্বেও টেনে নিয়ে যায় সে রান্না করে দিকে। কারণ সকালে চা খাওয়ার অভ্যাস তার অনেকদিনের। আগে প্রতিটা দিন শাকিল এর সকাল হতো গরম চা হাতে তানিয়ার আদরের ডাকে। সেটা তো এখন অনেক পুরাতন হয়ে গেছে।

বটবৃক্ষ বা বাবা মায়ের গুরুত্ব Mother ia a good and great personality 2023


চা খাওয়ার পর সারাটা সকাল ব্যস্ত থাকে রান্নার কাজে। সকাল বেলার খাওয়া সেরে দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে কাজে বেরিয়ে যায় তার একমাত্র ছেলে। আর ফিরে আসে সেই রাত্রিবেলায়। ছেলেকে সমস্ত কিছু গুছিয়ে দেওয়ার পর সারাটা দিন একরকম একা একাই ঘরে বন্দী হয়ে থাকে শাকিল। আসলে শাকিলের এই একমাত্র ছেলের জন্যই দুনিয়ায় বেঁচে আছে। তাকে ঘিরেই তার যত স্বপ্ন আর যত চিন্তার কারণ।

শাকিলের ছেলে ছাড়া তার জীবনের সকল স্বপ্ন একদম ফুরিয়ে গেছে বলাই ভালো। তিন বছর হলো প্রায় সে হাড়ে হাড়ে প্রতিটি পদক্ষেপে বুঝতে পারছি সে। যে গৃহে গৃহিণী থাকে না সে গৃহের কোন মান মর্যাদা নেই এটা সবাই জানে। সে ছেলে হয়ে একা একা আর কত সাম লাবে। ঘর বাহির সকল কিছুই তাকে একা একা সামলাতে হয়। জীবনের সমস্ত কিছু হারিয়ে ও চরম আঘাত পেয়ে শুধুমাত্র ওই ছেলের দিকে তাকিয়ে সমস্ত কিছু তাকে মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। এবং ঐ ছেলের জন্য তাকে বেঁচে থাকতে হয়।


খুব ছোটবেলা থেকে সৌরভ সবরকম খেলার মনোযোগ প্রিয় ছিল। শাকিল তাকে সব সময় খেলার প্রেরণা বা সাহস দিতো। একবার স্কুলের স্পোর্টসের সময় মাঠেই লং জাম ও হাই জাম এর জন্য মনে হয় মাটি কাটার সময় তার কোদালের সামনে পা পড়ে যায় এবং এক কপি তার পায়ের দুটি আঙুলের মাথা কেটে যায়। তখন সৌরভ মনে হয় তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। এই অবস্থাতেই প্রায় তাকে চার-পাঁচ মাস ঘরে বসে কাটাতে হয়।

তার সব থেকে প্রিয় ছিল ক্যারামবোর্ড খেলা ঘরে একা সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকতেছে তাই ওর মাকে বলে আমাকে একটা ক্যারামবোর্ড কিনে দেবে? মায়ের কাছেই ছিল তার যত আবদার তানিয়া সেদিন শাকিলকে বলে ছেলের জন্য বাজারে গিয়ে ক্যারাম বোর্ড কিনে এনেছিল তানিয়া আর শাকিল দুজনে। শাকিল অবসর সময়ে তার ছেলের সঙ্গে ক্যারাম বোর্ড খেলতো গুটির ওপর গুটি সাজিয়ে পকেটের খেলা বা এটাকে তালগাছ বলা হয়। সেই বয়সেই তার নিশানা এদিক ওদিক হলেও গুটি গুলোকে বেশিরভাগই সে পকেটস্থান করতে পারত। শাকিল আনন্দের সাথে ছেলেকে উতসাহিত করত খেলাটা যদিও শাকিলি তার ছেলেকে শিখিয়েছিল।


কুড়ি বছরের ছেলে সৌরভ আজ তিন বছর হল তার মাকে হারিয়েছে। মাকে হারানোর পর থেকে কেমন যেন খামখেয়ালি ভাবে একা একাই চলতে থাকে সৌরভ। তার মধ্যেই চলে এলো সেই মহামারী বা করো না কালের লকডাউন। ঘরে বসে বসে পড়াশোনা না করে সব সময় মোবাইল দিয়ে ব্যস্ত থাকতো । শাকিল ছেলেকে নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়ে গেল। কিভাবে ছেলেকে তার এই মোবাইলের নেশা থেকে বের করে আনা যায়। বর্তমানে তার আত্মীয়-স্বজন বলতে আর কেউ নেই। তানিয়া চলে যাবার পর সবাই কেমন যেন সম্পর্কের অটুট বন্ধন সেই সুতোটা কে যেন কেটে দিয়েছে।

ছেলেটাকে নিয়ে দু নৌকার মাঝে অথৈ জলে পড়েছে শাকিল। নিজের সুখ দুঃখের এমনকি ছেলের ব্যাপারে কারো সঙ্গে সে যুক্তি পরামর্শ করবে এমন কেউই নেই তার। খুব কাছের দু একজন যারা সত্যি সত্যি শাকিলের ভালো চাই, যারা তার অত্যন্ত কাছের মানুষ তাদের সঙ্গে শাকিল এ ব্যাপারে আলোচনা করে। তার ছেলেকে নিয়ে কি করা যায়, তারা তাদের মত করে বুদ্ধি দিয়েছে শাকিলকে।


আসলে মা মারা যাবার পর মায়ের স্মৃতি টাকে মনে করে সে যেন কষ্ট না পাই এই জিনিসটাকে ভোলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে শাকিল। তাই ছেলেকে সে বকাবকি করে ঠিকই কিন্তু পরক্ষণে আবার তাকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করে। স্ত্রী মারা যাবার পর শাকিল ভীষণভাবে বেসামাল হয়ে পড়ে। সেই সময়ই ছেলেটাও কেমন যেন অন্য পথে চলে যায়। জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে শাকিল এর হঠাত নজর পড়ল তার ছেলের দিকে।

চিন্তা করল সে ছেলেকে কিভাবে খারাপ পথ থেকে ভালো পথের দিকে ফিরিয়ে আনা যায়। মনে মনে ভাবলো পড়াশোনা তো আর হলো না আর বর্তমানে চাকরির যে অবস্থা তাতে পড়াশোনা করে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নাই।। তাই একটা যেকোনো কাজে কোথাও লাগিয়ে দিলে সে কাজটাও শিখতে পারবে এবং সে তার অন্যদিকে তাকানোর সময় ও থাকবে না। সেইমত চিন্তা ভাবনা করে ছেলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাকে একটা হাতের কাজে লাগিয়ে দিল শাকিল।

বটবৃক্ষ বা বাবা মায়ের গুরুত্ব Mother ia a good and great personality 2023


বেশ কিছুদিন এভাবেই পার হয়ে গেল। তারপর হঠাত করেই কাজ বন্ধ করে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। আজকাল তার আচার-আচরণটাও কেমন যেন আগের মত নাই। কোন দিকেই তার খেয়াল নাই ,না ঘরবাড়ির দিকে না তার বাবার দিকে ।কথাও খুব কম বলে। একদিন দিন রাতে শাকিল সৌরভের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দেখল বিমর্ষ হয়ে চোখ বুজিয়ে খাটের উপরে হেলান দিয়ে বসে আছে সৌরভ।

শাকিল আস্তে আস্তে তার কাছে এগিয়ে গেল মাথায় হাত রেখে বলল মায়ের জন্য খুব মন খারাপ করছে। হঠাতই সৌরভ উগ্র মেজাজ শাকিলকে বলে উঠলো তুমি এখন যাও তো এখান থেকে, আমার কিছু ভালো লাগছেনা। আমাকে এখন একা থাকতে দাও। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর মুখ নিচু করে চলে এলো শাকিল। এবং আসার সময় বল লো ঠিক সময় খেয়ে নিস।


বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে কেটে গেল। রাতের খাবারের সময় হয়ে এলো, শাকিল ছেলেকে ডেকে বলল সৌরভ খেতে আয়। সৌরভ বললো, আমি খাব না আমার এখন খিদে নেই তুমি খেয়ে নাও। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ শাকিল। মনে মনে ভাবলো মায়ের জন্য হয়তো তার কষ্ট হচ্ছে। হাজার হোক মায়ের দাবী আবদার গুলো সে তো আজকাল আর পায়না। তাই হয়তো সে এমন করছে। মাথা ঠান্ডা করে ছেলের কাছে গিয়ে দেখল এলোমেলো ভাবে ছেলে শুয়ে আছে বেশ কয়েকবার ডাকলো। চোখ মেলতে পারছে না দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে এইটুকু সময়ের মধ্যে ছেলে এতটাই ঘুমিয়ে পড়ল যে ,সে চোখ খুলতে পারছে।

যতবার ডাকছি ততবারই বে হুসের মতো একটু তাকিয়েই আবার ঢলে পড়ছে। শাকিলের মনে একটু সন্দেহ হলো তা সত্ত্বেও খাবার নিয়ে গিয়ে তা মেখে ছেলেকে খাইয়ে দিতে গেল। কিন্তু সে কিছুই ছিল না। এদিকে ছেলে না খেলে সাকিল ও খেতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর খাবারের প্লেটটা পাশে রেখে সে নিজের ঘরে চলে এলো, এবং চুপচাপ বসে থাকলো। সেও কিন্তু ঈদের জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছে।

বরাবরই সে সবকিছু সইতে পারতো কিন্তু খিদে লাগলে আর থাকতে পারতো না। সেটা তানিয়ায় একমাত্র ভালো জানতো। এখন আর সে কষ্টটা কে বুঝবে । মনে মনে অনেক কিছু ভাবছে। তানিয়ার কথা পুরানো দিনের কথা খুব মনে পড়ছে। সেই ব্যথায় শাকিলের বুকটা টনটন করে উঠছে। তানিয়াকে নিয়ে অনেক ভাবতে ভাব তে অনেক রাতে আস্তে আস্তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে তাকে বুঝতেই পারেনি

by google image

সেদিনও রাতের বেলায় সামান্য একটা কথা নিয়ে ছেলের সঙ্গে অনেক কথা কাটাকাটি হলো। এবং বেশ উগ্র মেজাজেই শাকিলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এসে ঘরে ঢুকে গেল। সৌরভ ও ধৈর্য না রাখতে বেশ কয়েকটা চড়া কথাও বলে ফেলল। সৌরভ ঘর থেকে বলল আমি কিছু খাবো না তুমি খেয়ে নাও। আজও সেই একই অবস্থা। শাকিল কিছু না বলে নিজের ঘরে চুপচাপ বসে থাকলো। বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করে অল্প কিছু খেয়ে শুয়ে পড়লো। ছেলেকে আর ডাকল না।


সকালে ঘুম ভাঙতেই ভীষণ দুশ্চিন্তায় মনটা খারাপ হয়ে যায় শাকিলের। তবুও, হয়তো প্রকৃতির তাড়নায় তাকে আস্তে আস্তে উঠে বসতে হয়, মনটাকে না হলেও দেহটা কে অনিচ্ছা সত্ত্বেও টেনে নিয়ে যায় সে রান্না ঘরের দিকে। কারণ সকালে চা খাওয়ার অভ্যাস তার অনেকদিনের। আগে প্রতিটা দিন শাকিল এর সকাল হতো গরম চা হাতে তানিয়ার আদরের ডাকে। সেটা তো এখন অনেক পুরাতন হয়ে গেছে।


চা খাওয়ার পর সারাটা সকাল ব্যস্ত থাকে রান্নার কাজে। সকাল বেলার খাওয়া সেরে দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে কাজে বেরিয়ে যায় তার একমাত্র ছেলে। আর ফিরে আসে সেই রাত্রিবেলায়। ছেলেকে সমস্ত কিছু গুছিয়ে দেওয়ার পর সারাটা দিন একরকম একা একাই ঘরে বন্দী হয়ে থাকে শাকিল। আসলে শাকিলের এই একমাত্র ছেলের জন্যই দুনিয়ায় বেঁচে আছে। তাকে ঘিরেই তার যত স্বপ্ন আর যত চিন্তার কারণ।

শাকিলের ছেলে ছাড়া তার জীবনের সকল স্বপ্ন একদম ফুরিয়ে গেছে বলাই ভালো। তিন বছর হলো প্রায় সে হাড়ে হাড়ে প্রতিটি পদক্ষেপে বুঝতে পারছি সে। যে গৃহে গৃহিণী থাকে না সে গৃহের কোন মান মর্যাদা নেই এটা সবাই জানে। সে ছেলে হয়ে একা একা আর কত সাম লাবে। ঘর বাহির সকল কিছুই তাকে একা একা সামলাতে হয়। জীবনের সমস্ত কিছু হারিয়ে ও চরম আঘাত পেয়ে শুধুমাত্র ওই ছেলের দিকে তাকিয়ে সমস্ত কিছু তাকে মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। এবং ঐ ছেলের জন্য তাকে বেঁচে থাকতে হয়।


খুব ছোটবেলা থেকে সৌরভ সবরকম খেলার মনোযোগ প্রিয় ছিল। শাকিল তাকে সব সময় খেলার প্রেরণা বা সাহস দিতো। একবার স্কুলের স্পোর্টসের সময় মাঠেই লং জাম ও হাই জাম এর জন্য মনে হয় মাটি কাটার সময় তার কোদালের সামনে পা পড়ে যায় এবং এক কপি তার পায়ের দুটি আঙুলের মাথা কেটে যায়। তখন সৌরভ মনে হয় তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। এই অবস্থাতেই প্রায় তাকে চার-পাঁচ মাস ঘরে বসে কাটাতে হয়। তার সব থেকে প্রিয় ছিল ক্যারামবোর্ড খেলা ঘরে একা সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকতেছে তাই ওর মাকে বলে আমাকে একটা ক্যারামবোর্ড কিনে দেবে?

মায়ের কাছেই ছিল তার যত আবদার তানিয়া সেদিন শাকিলকে বলে ছেলের জন্য বাজারে গিয়ে ক্যারাম বোর্ড কিনে এনেছিল তানিয়া আর শাকিল দুজনে। শাকিল অবসর সময়ে তার ছেলের সঙ্গে ক্যারাম বোর্ড খেলতো গুটির ওপর গুটি সাজিয়ে পকেটের খেলা বা এটাকে তালগাছ বলা হয়। সেই বয়সেই তার নিশানা এদিক ওদিক হলেও গুটি গুলোকে বেশিরভাগই সে পকেটস্থান করতে পারত। শাকিল আনন্দের সাথে ছেলেকে উৎসাহিত করত খেলাটা যদিও শাকিলি তার ছেলেকে শিখিয়েছিল।


কুড়ি বছরের ছেলে সৌরভ আজ তিন বছর হল তার মাকে হারিয়েছে। মাকে হারানোর পর থেকে কেমন যেন খামখেয়ালি ভাবে একা একাই চলতে থাকে সৌরভ। তার মধ্যেই চলে এলো সেই মহামারী বা করো না কালের লকডাউন। ঘরে বসে বসে পড়াশোনা না করে সব সময় মোবাইল দিয়ে ব্যস্ত থাকতো ।

শাকিল ছেলেকে নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়ে গেল। কিভাবে ছেলেকে তার এই মোবাইলের নেশা থেকে বের করে আনা যায়। বর্তমানে তার আত্মীয়-স্বজন বলতে আর কেউ নেই। তানিয়া চলে যাবার পর সবাই কেমন যেন সম্পর্কের অটুট বন্ধন সেই সুতোটা কে যেন কেটে দিয়েছে।

ছেলেটাকে নিয়ে দু নৌকার মাঝে অথৈ জলে পড়েছে শাকিল। নিজের সুখ দুঃখের এমনকি ছেলের ব্যাপারে কারো সঙ্গে সে যুক্তি পরামর্শ করবে এমন কেউই নেই তার। খুব কাছের দু একজন যারা সত্যি সত্যি শাকিলের ভালো চাই, যারা তার অত্যন্ত কাছের মানুষ তাদের সঙ্গে শাকিল এ ব্যাপারে আলোচনা করে। তার ছেলেকে নিয়ে কি করা যায়, তারা তাদের মত করে বুদ্ধি দিয়েছে শাকিলকে।


আসলে মা মারা যাবার পর মায়ের স্মৃতি টাকে মনে করে সে যেন কষ্ট না পাই এই জিনিসটাকে ভোলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে শাকিল। তাই ছেলেকে সে বকাবকি করে ঠিকই কিন্তু পরক্ষণে আবার তাকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করে। স্ত্রী মারা যাবার পর শাকিল ভীষণভাবে বেসামাল হয়ে পড়ে। সেই সময়ই ছেলেটাও কেমন যেন অন্য পথে চলে যায়। জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে শাকিল এর হঠাৎ নজর পড়ল তার ছেলের দিকে।

চিন্তা করল সে ছেলেকে কিভাবে খারাপ পথ থেকে ভালো পথের দিকে ফিরিয়ে আনা যায়। মনে মনে ভাবলো পড়াশোনা তো আর হলো না আর বর্তমানে চাকরির যে অবস্থা তাতে পড়াশোনা করে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নাই।। তাই একটা যেকোনো কাজে কোথাও লাগিয়ে দিলে সে কাজটাও শিখতে পারবে এবং সে তার অন্যদিকে তাকানোর সময় ও থাকবে না। সেইমত চিন্তা ভাবনা করে ছেলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাকে একটা হাতের কাজে লাগিয়ে দিল শাকিল।


বেশ কিছুদিন এভাবেই পার হয়ে গেল। তারপর হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। আজকাল তার আচার-আচরণটাও কেমন যেন আগের মত নাই। কোন দিকেই তার খেয়াল নাই ,না ঘরবাড়ির দিকে না তার বাবার দিকে ।কথাও খুব কম বলে। একদিন দিন রাতে শাকিল সৌরভের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দেখল বিমর্ষ হয়ে চোখ বুজিয়ে খাটের উপরে হেলান দিয়ে বসে আছে সৌরভ।

শাকিল আস্তে আস্তে তার কাছে এগিয়ে গেল মাথায় হাত রেখে বলল মায়ের জন্য খুব মন খারাপ করছে। হঠাৎই সৌরভ উগ্র মেজাজ শাকিলকে বলে উঠলো তুমি এখন যাও তো এখান থেকে, আমার কিছু ভালো লাগছেনা। আমাকে এখন একা থাকতে দাও। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর মুখ নিচু করে চলে এলো শাকিল। এবং আসার সময় বল লো ঠিক সময় খেয়ে নিস।


বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে কেটে গেল। রাতের খাবারের সময় হয়ে এলো, শাকিল ছেলেকে ডেকে বলল সৌরভ খেতে আয়। সৌরভ বললো, আমি খাব না আমার এখন খিদে নেই তুমি খেয়ে নাও। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ শাকিল। মনে মনে ভাবলো মায়ের জন্য হয়তো তার কষ্ট হচ্ছে। হাজার হোক মায়ের দাবী আবদার গুলো সে তো আজকাল আর পায়না। তাই হয়তো সে এমন করছে। মাথা ঠান্ডা করে ছেলের কাছে গিয়ে দেখল এলোমেলো ভাবে ছেলে শুয়ে আছে বেশ কয়েকবার ডাকলো। চোখ মেলতে পারছে না দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে এইটুকু সময়ের মধ্যে ছেলে এতটাই ঘুমিয়ে পড়ল যে ,সে চোখ খুলতে পারছে। যতবার ডাকছি ততবারই বে হুসের


মতো একটু তাকিয়েই আবার ঢলে পড়ছে। শাকিলের মনে একটু সন্দেহ হলো তা সত্ত্বেও খাবার নিয়ে গিয়ে তা মেখে ছেলেকে খাইয়ে দিতে গেল। কিন্তু সে কিছুই ছিল না। এদিকে ছেলে না খেলে সাকিল ও খেতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর খাবারের প্লেটটা পাশে রেখে সে নিজের ঘরে চলে এলো, এবং চুপচাপ বসে থাকলো। সেও কিন্তু ঈদের জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছে। বরাবরই সে সবকিছু সইতে পারতো কিন্তু খিদে লাগলে আর থাকতে পারতো না।

সেটা তানিয়ায় একমাত্র ভালো জানতো। এখন আর সে কষ্টটা কে বুঝবে । মনে মনে অনেক কিছু ভাবছে। তানিয়ার কথা পুরানো দিনের কথা খুব মনে পড়ছে। সেই ব্যথায় শাকিলের বুকটা টনটন করে উঠছে। তানিয়াকে নিয়ে অনেক ভাবতে ভাব তে অনেক রাতে আস্তে আস্তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে তাকে বুঝতেই পারেনি

by google image

পরদিন সকালে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে দেখল যেখানে তার জন্য চা রাখা হয় সেখানে আছ চা নেই। মনটা একটু আনমনা হয়ে অভ্যাসমতো ফোনের দিকে হাত বাড়ালো। ফোনটা নিয়ে খুলতেই দেখলে বাবার একটা মেসেজ, মেসেজটা পড়তে লাগলো

তাতে লেখা আছে স্নেহের সৌরভ আমায় ক্ষমা করিস বাবা আমি কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি তোর ব্যবহারটা ঠিক আগের মত নেই। আমি জানিনা তুই কেন এমন ধরনের ব্যবহার করছিস তুই তো ভালোই জানিস তোর মায়ের মৃত্যুর পর আমার মানসিক অবস্থা ভালো নেই তবুও আমি সব সময় চেষ্টা করি তোকে তোর মায়ের স্নেহের ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। কোনরকম কোন অভাব যাতে তোর না হয় সে চেষ্টাই করি আমি।

তোর মায়ের স্নেহ ভালোবাসা হয়তো তোকে আমি দিতে পারিনি কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি সব সময় তোকে ভালো রাখতে। তোর যাতে কোন কষ্ট না হয়, তুই যাতে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারিস সেই চেষ্টায় সব সময় করছি। আমি জানিনা হয়তো আমি তোকে আমার অজান্তে অনেক আঘাত দিয়েছি , কষ্ট দিয়েছি। তোর মা চাইতো তার সৌরভ যেন একটা মানুষের মত মানুষ হয়।

কিন্তু ইদানিং দেখছি তুই যে ধরনের ব্যবহার করছিস তাতে মনে হয় আমাকে আর তোর কোন প্রয়োজন নেই। হয়তো তোর মায়ের স্নেহের আঁচলের ছত্রছায়া দিতে আমি পারবো না কিন্তু তোর পাশে বট বৃক্ষের মতো দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় আমি ব্যর্থ হলাম। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিস। তোর মা নেই, চাইলে আমি তো আমার সুখ খুঁজে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। তোর মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম।সেটা যখন হলো না তখন আমি চললাম তোর মায়ের কাছে। সাবধানে থাকিস ভালো থাকিস বাবা।ইতি তোর বাবা।

মেসেজটা পড়ার পর সৌরভ তার বাবাকে পাগলের মতো খুঁজতে লাগলো ,বাবার ঘরে নেই, বারান্দায় নেই, রান্নাঘর বাথরুম ছাদ কোথাও নেই। তাহলে বাবা গেল কোথায় হঠাৎ মনে পড়ল তার বেসমেন্টের কথা।দেখিতো বেসমেন্টে আছে কিনা কারণ তার মনে পড়ে সেই ছোটবেলার কথা কতবার দেখেছি, বাবার যখন খুব মন খারাপ হতো তখন বেসমেন্টে গিয়ে বসে থাকতে একা। মা গিয়ে তখন ডেকে আনতো ।

সৌরভ দৌড়ে যায় বেসমেন্টে। গিয়ে দেখে তার ক্যারামটা আর তাতে গুটিগুলো তালগাছের মতো সাজিয়ে বসে আছে তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। সৌরভ ছুটে গিয়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে খুব আদর করে বলে বাবা আমায় ক্ষমা করো, আমি খুব অন্যায় করেছি তোমার সাথে ।আমার ভুল বুঝতে পেরেছি তুমি আমাকে ক্ষমা করো বাবা মায়ের আঁচল তো আমি আর কখনো পাবো না বাবা কিন্তু আমি আমার বটো বৃক্ষসমূহ বাবাকে হারাতে চাই না। আমায় ক্ষমা কর বাবা।আমি তোমায় কথা দিচ্ছি আর কখনো বে হিসেবে চলবে না আমি খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিলাম ।বাবা আমায় তুমি ক্ষমা কর শাকিল বাবু ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন কে বলল তুই খারাপ ছেলে। কিন্তু আমার সেই জন্য ছেলে।

Read More>>>>>>




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *