" crossorigin="anonymous"> বাংলা বিহার উড়িষ্যা নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলার সংক্ষিপ্ত জীবনীNawab is a good and wonderful personality 1 - Sukher Disha...,

বাংলা বিহার উড়িষ্যা নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলার সংক্ষিপ্ত জীবনীNawab is a good and wonderful personality 1

একটি কথা বলে রাখা ভালো এই যে আলিবর্দী খাঁ সিরাজ উদ দ্দৌলার নানা না দাদু এ বিষয়ে এখনও সঠিক জানা যায় না, কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন দাদু আবার কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন নানা। তবে বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ বলেন আলি বরদি খাঁ সিরাজ উদ দ্দৌলার দাদু , কারণ দাদুর রেখে যাওয়া সম্পত্তির মালিক তার নাতি রাই হয় সেই হিসাবে সিরাজ উদ্দৌলার দাদু হচ্ছেন আলিবর্দী খাঁ

বাংলা বিহার উড়িষ্যা নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলার সংক্ষিপ্ত জীবনী 10 November 2023


সিরাজ উদ দ্দৌলার দাদু নবাব আলবর্দী খাঁ খুব ভালো চরিত্রের লোক ছিলেন । নবাব আলীবর্দী খার চরিত্র কুলুষিত ছিল না । তিনি কোন সূরা বা মদ পান করতেন না । অন্দরমহলে একাধিক নারীর সঙ্গে মেলামেশা তিনি পছন্দ করতেন না । আলীবরদী খাঁর মসনদের রাজত্বকাল ছিল 16 বতসর । তবে এই সময়কালের বেশিরভাগ সময়ই তাকে যুদ্ধে কাটাতে হয়েছে । আলি বর্দির রাজনৈতিক তথা দৈনন্দিন কাজে প্রেরণা দিয়েছেন তার স্ত্রী সরিফ উন্নেসা ।

by google image


আলি বর্দির উপদেশ ছিল- ইংরেজদেরকে বাড়তে না দেওয়া । সেটা ভুলে যাননি সিরাজ মসনদে বসেই সিরাজ দুটো কাজকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন । 1) ইংরাজ বণিকদের দমন করা 2) নিজ পরিবারের মধ্যে যারা তার বিরোধিতা করেছে তাদেরকে শায়েস্তা করা ।
এদিকে আলি বর্দির রাজত্বকালে মারা গেছেন জগত শেঠ ফতেচাঁদ ‌। মহিমাপুর এর গদিতে বসেছে তার দুই নাতি মহাতাপচাঁদ ও স্বরূপ চাঁদ । মহাপচাঁদ বাংলার ইতিহাসে জগত সেট নামে পরিচিত


সিরাজ উদ দৌলা মসনদে আসীন হওয়ার পরপরই মাসি ঘষিটি বেগমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। কারণ ঘসেটি বেগমের ইচ্ছা ছিল সিরাজের ভাই নবাব হোক । কিন্তু চেষ্টা সফল হয়নি । ব্যবসা-বাণিজ্যের পর প্রদান নিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে বনমালিন্য হলে ১৭৫৬ সালের চৌঠা জুন কাশিমবাজার কুঠি দখল ও সে সময় ওয়াটস ও তার সহকর্মী কোলেট ও হেস্টিংস বন্দী হন ।

5 জুন তার সেনা দক্ষদের পরিবর্তন ঘটান ও 20 জুন কলকাতা প্রেসিডেন্সি আক্রমণ করে দখল নেন ও নামকরণ করেন আলিনগর । কলকাতা দখলের পর মুর্শিদাবাদের ফিরে এসে জানতে পারেন তাকে গতিচ্যুত করার জন্য মীরজাফরের সঙ্গে গোপনে পূর্ণিহার নবাব শওকত ষড়যন্ত্র চলছে ।

শওকত জঙ্গ সিরাজের মাসতুতো ভাই । সিরাজ পূর্ণিয়া অভিমুখে যাত্রা করেন ও পূর্ণিয়ার নিকট মনিহারীর যুদ্ধে শওকত জঙ্গ পরাজিত ও নিহত হন । সে সময় সিরাজউদ্দৌলা মূল উদ্দেশ্য ইংরেজ দমন ও পারিবারিক বিরুদ্ধতার অবসানের ক্ষেত্রে চরম সাফল্য আসে ও 2 কোটি 2 লক্ষ 50 হাজার টাকা ব্যয় করে মোঘল বাদশাহের আইনসঙ্গত ফরমান আদায় করে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব হন ।

by google image

বাংলা বিহার উড়িষ্যা নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলার সংক্ষিপ্ত জীবনী 10 November 2023


নবাব সিরাজউদ্দৌলার আলীবর্দী খার সময়ের বর্ষীয়ান রাজকর্মচারীদের সরিয়ে তরুণ ও তার সমবয়সী রাজ কর্মচারীদের বসান । এবং পুরানো কর্মচারীদের ক্ষমতাও খর্ব হয় । ফলে তারা ইংরেজদের সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ১৭৫৭ সালের ১লা মে জগত শেঠের বাড়িতে গোপন বৈঠকে মীরজাফর, রায় দুর্লভ,জগত শেঠ ও তার দালাল পাঞ্জাবি মহাজন উমিচাঁদ আর নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র চুক্তিবদ্ধ হন । এবং মুসাবিদা করেন মুন্সি নব কৃষ্ণ দেব ।বাংলা বিহার উড়িষ্যা নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলার সংক্ষিপ্ত জীবনী Nawab is a good and wonderful personality 1

এরপর ক্লাইভ চন্দননগর থেকে সৈন্য সামন্ত নিয়ে অগ্রসর হন মুর্শিদাবাদের পথে । ২২ শে জুন পলাশীর যুদ্ধে অবতীর্ণ হন । ওই যুদ্ধের মীরজাফর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি । তবু এরপরও মীরজাফরের কথাকে সরলভাবে বিশ্বাস করেছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ।

কিন্তু ফরাসি সেনা নায়ক সিনফ্রে, মীর মদন, মোহনলাল, সিরাজের পক্ষে যুদ্ধ করলেও মীরজাফর, রাই দুর্লভ, জগতশেঠের ষড়যন্ত্র ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সিরাজের পরাজয় হয় ।

by google image

মীর মদন ও মোহনলাল এর মৃত্যু হয় । ২৩ শে জুন বাংলা বিহার উড়িষ্যার ভাগ্য কাশে সূর্য অস্তমিত হয় । পরাজয় আসন্ন দেখে সিরাজ মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন ও গোবর নালা দিয়ে তার প্রিয়তমা পত্নী লুতফুন্নেছা ও শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সাধের হীরা প্রাসাদ ছেড়ে গোপনে রাজমহলের পথে রওনা হন । 30শে জুন 1757 মাঝপথে ভগবানগোলার কাছে দানশা ফকির সিরাজ কে ধরিয়ে দেয় । তাকে মুর্শিদাবাদের বন্দী করে আনা হয় ।

মির্জাফরের পুত্র মিরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ নামে এক বিশ্বাসঘাতক সিরাজকে হত্যা করে । হত্যা করার পর তার সিরাজের মৃতদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে নিয়ে গোটা শহর ঘোরানো হয়। তার সমাধি হয় দাদু আলীবর্দির কবরের পাশেই খোশবাগে ।

by google image

তারপর ২৯ শে জুন লর্ড ফ্লাইট মাত্র ৩০০ সিপাহী নিয়ে মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করেন । সারি সারি লোক দাঁড়িয়ে থেকে অবাক চোখে দেখেছে নতুন শাসকের কর্তা কে । কোন প্রতিক্রিয়া বা বিদ্রোহ ছিল না । কেননা তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল না ছিল আর না কোন বোধ । হাজার হাজার মানুষ ইচ্ছা করলে সেদিন ক্লাইভ ও তার সঙ্গীদের ধরাশায়ী করতে পারতো অনায়াসে, সে কথা ক্লাইভ ও স্বীকার করেছেন ।

by google image

সিরাজউদ্দৌলা এক বছরের কিছু বেশি সময় মসনদে বসেছিলেন । তার মধ্যে বেশিরভাগ সময় বিব্রত ছিলেন যুদ্ধে । তার কীর্তি হিসাবে বর্তমান হাজারদুয়ারির সামনে মদিনা মসজিদটি, যেটি সুদূর মদিনার মাটি বয়ে নিয়ে এসে স্থাপন করা হয়েছিল । মূল ইমামবাড়া তারিখ কীর্তি ।

বিরাজিল প্রাসাদ তারই ইচ্ছাতেই নির্মিত হয়েছিল যা তৎকালীন স্থাপত্য শৈলীর বিশিষ্ট নিদর্শন । বর্তমানে ভাগীরথীর ভাঙ্গনের তা সম্পুর্ন বিলুপ্ত । গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে অচিরেই প্রাণ হারাতে হলো হতভাগ্য সিরাজকে এবং মুর্শিদাবাদ এর ভাগ্যকাশেও সেদিন এই বীজ পোঁতা হল ধ্বংসের আর মুর্শিদাবাদে বীজ পোঁতা হল ইস্ট ইন্ডিয়া নামক বৃক্ষের ।

Read More>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *