" crossorigin="anonymous"> মানবতার একমাত্র মুক্তি দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম GREAT 30 October 2023 - Sukher Disha...,

মানবতার একমাত্র মুক্তি দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম GREAT 30 October 2023

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মহান করুনাময় আল্লাহ প্রদত্ত শেষ নবী তথা বার্তাবাহক । শ্রেণী গোত্র ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠা এক অতি মহা মানব । যাহার তুলনা তিনি নিজেই । কারণ তাহার সমতুল্য কেউ নাই এবং দুনিয়া শেষ পর্যন্ত আর কেউ আসবেও না ।

মানবতার একমাত্র মুক্তি দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম GREAT 30 October 2023

যিনি আঞ্চলিকতা, প্রাদেশিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সাদাকালো ধনী-গরীব বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন । কল্যাণ আর কল্যাণে কেটেছে তার সমগ্র জীবন । করুনা ও কল্যাণময় ব্যক্তিত্ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জীবনের সবকিছু দিয়ে মহান রবের হুকুম পালন করে গেছেন । স্রষ্টার সৃষ্টিকে দরদভরা হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছেন ।

জীবনের সোনালী দিনে ঐশ্বর্য ভোগের উপকরণ সবকিছু পেয়ে ও তিনি তা গ্রহণ করেননি । ত্যাগই ছিল তার জীবন । জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেঁদেছেন মানুষ আর মানুষের জন্য । তিনি ভেবেছেন, এবং মানুষকে ভাবতে শিখিয়েছেন । কণ্টকাকীর্ণ দুর্যোগ পূর্ণ সুদীর্ঘ পথ হেঁটেছেন । পৃথিবীবাসীকে দেখিয়েছেন অন্ধকার থেকে আলোর পথ । মুক্তির পথ । ভ্রাতৃত্বের পথ । শান্তির পথ । কল্যাণের পথ।


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মানব সম্প্রদায়ের কথা ভাবেননি । ভাবতেন তামাম জাহানের সমগ্র মাখলুকের কথা । বর্তমানের সঙ্গে ভেবেছেন অনাগত ভবিষ্যতের কথা । তিনি কেবল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন না । তার জীবন ছিল মানুষের সামগ্রিক জীবনের জন্য উজ্জ্বল নমুনা । জীবনের এমন কোন দিক নেই যেদিকে তিনি দৃষ্টি ও আলোকপাত করেননি ।

তার আবির্ভাব এর পর জ্ঞান-বিজ্ঞান সহ সামগ্রিক জীবনে মানবজাতির অগ্রগতির পথ উন্মুক্ত হয়েছিল । পরবর্তীতে তার রেখে যাওয়া পথ ও মতকে পাথেয় করে তার অনুসারীরা অন্ধকার পৃথিবীতে আলোর দিশা দেখিয়েছেন । বিগত দেড় হাজার বছর ধরে বিশ্বজুড়ে তিনি সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তি । সারা জাহান জুড়ে তারপর ও মতের অনুগামী । ভক্ত-অভুক্ত, ধনী- গরিব, অনাথ -আতুর সবাই নীরবে তার রেখে যাওয়া পথ ও আদর্শকে অনুকরণ করে মুক্তির দিশা খুঁজেছেন ও সফল হয়েছেন ।

by google image

মানবতার একমাত্র মুক্তি দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম GREAT 30 October 2023

মানুষের শোকে ছিল তার কান্না ভেজা চোখ । পরের কষ্টকে তিনি নিজের কষ্ট মনে করতেন । এ বিষয়ে এক ঘটনা বুখারী ও মুসলিম শরীফ থেকে জানা যায় । এক সাহাবীর কন্ঠে তিনি যখন সূরা নিসার ৪৩ নম্বর আয়াত “আর যখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, তখন আমি প্রতিটি উম্মতের মধ্যে থেকে একজন করে সাক্ষী দাঁড় করাবো এবং আপনাকে ডাকবো তাদের সাক্ষী হিসাবে ” এই আয়াত শুনতে পেলেন তখন তিনি অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন ।

এই ঘটনা থেকে উপলব্ধি করা যায় প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ কে কতটা ভালোবাসতেন । আবার এটাও চিন্তা করুন যে তিনি আল্লাহর সামনে জবাব দিহিতার বিষয়ে কতটা ভীত থাকতেন । ভয় ও ভালোবাসার কি অদ্ভুত মিশ্রণ । উম্মতের প্রতি নবীজির কত সহানুভূতি ও দরদ । প্রকৃতপক্ষে আল কোরআন তথা রাসুল সাঃ এর জীবনাদর্শ বিশ্ববাসীকে দিতে পারে ইহ লৌকিক সুখ/ পরকালের জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও মানুষের শেষ ঠিকানা জান্নাত ।

by google image


এক ব্যক্তি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) এর নিকট হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বলেছিলেন তুমি কোরআন পাঠ করো না ? চিনি ছিলেন মূর্তিমান আল কোরআন । বস্তুত এই মহা গ্রন্থে যা কিছু রয়েছে তার জীবন্ত উদাহরণ । হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি এ কিতাবের যাবতীয় আদেশ-নিষেধ নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করেছেন ।

তার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে নাযিলকৃত এ কালিমুল্লাহ শরীফে অজস্র আয়াতে তাকে সম্বোধন করে বাণী প্রদত্ত হয়েছে । ভুরি ভুরি আয়াতে তার বিষয়ে আলোচিত হয়েছে ।

by google iamge


রাসুল সাঃ সম্পর্কে যে আয়াতগুলি নাযিল হয়েছে সেগুলির বাংলা তরজমা তুলে ধরা হলো ।
1) তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম আদর্শ । (সুরা আহযাব আয়াত-21)
2) আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি (সূরা আম্বিয়া আয়াত – 107)
3) নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাসী তাদেরকে আপনি সতর্ক করুন আর নাই করুন কোন অবস্থাতে তারা ঈমান আনবে না ( সূরা বাকারা আয়াত – 64)

4) আমার হাত বান্দার উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছি এ সম্পর্কে যদি তোমাদের কারো সন্দেহ থাকে তাহলে এর সমতুল্য একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সূরা বাকারা আয়াত 23-24)
5) বলে দিন যে কেউ জিব্রাইলের শত্রু হয় যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশ ও কালাম আপনার অন্তরে নাজিল করেছেন । যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্ত কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সংবাদদাতা (সূরা বাকারা আয়াত – 97)


6) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্যটা ধর্ম সহ সংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী রূপে পাঠিয়েছি আপনি জাহান্নামীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না (সূরা বাকারা আয়াত 119)
7) বলুন, তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করছো ? অথচ তিনি আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা আমাদের জন্য আমাদের কর্ম তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম এবং আমরা তার প্রতি এক নিষ্ঠ (সূরা বাকারা আয়াত- 139)
8) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি অতএব অবশ্যই আমি আপনাকে সেই কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন এবং আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাকো সে দিকে মুখ করো (সুরা বাকারা আয়াত – 144)


9) আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে প্রস্তুত আমি সন্নিকটেই রয়েছি । যারা প্রার্থনা করে তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেয় যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে । কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয় বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য যাতে তারা সত পথে আসতে পারে (সূরা বাকারা আয়াত – 168)


10) আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি যিনি আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে আবৃত্তি করেন তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমরা তা জানতে না সে সম্পর্কে শিক্ষা দেন (সূরা বাকারা আয়াত 151)


11) তাদেরকে সত পথে আনার দায়িত্ব আপনার নয় আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা সত পথে পরিচালিত করেন (সূরা বাকারা আয়াত -276)
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শেষ নবী ভরি ভরি এত প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও তখনকার যেমন ওতবা, সাইবা,আবু জেহেল,আবু সুফিয়ান, হিন্দা তারা নবীজিকে নবী হিসেবে মানেননি । তারা আমার নবীদের উপরে অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে । যা অনেক বেদনাদায়ক ।

তবে শেষ বেলায় একটি কথা বলবো খাদ্য উপাদানের মধ্যে যত রকমের প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে সেগুলো একমাত্র দুধ ও ডিমের মধ্যেই বিদ্যমান । আর কোন খাবারের মধ্যে কিন্তু এই প্রোটিন ও ভিটামিন দুটি একসঙ্গে নেই । দুনিয়ার কোন খাবার খুঁজলেও আপনি প্রোটিন ও ভিটামিন একসঙ্গে পাবেন না কোন খাবারে । তাই দুধ আর ডিমকে সুষম খাদ্য বলা হয় ।


আমাদের নবীজি এমন এক মহামানব জিনার অনুসরণ করে চললে দুনিয়া ও আখেরাতে সব জায়গাতেই শান্তি পাওয়া যাবে । তার অনুসরণে কেউ যদি জীবন গড়ে তোলে , সে দুনিয়াও আখেরাতে সব জায়গাতেই সুখী মানুষে পরিণত হবে ।
শুধু তাই নয় আমার নবীজির অনুকরণে যদি দেশ ও রাষ্ট্র চালানো হয় তবে সে দেশ হবে পৃথিবীর সেরা । সে দেশে থাকবে না কোন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও থাকবে না কোন অসহায় দরিদ্র মানুষ।

Read More>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *