" crossorigin="anonymous"> The Great মুর্শিদাবাদের নদ নদী জলাশয় পুরাতত্ত্ব ও তার আর্থ সামাজিক গুরুত্ব 1November 2023 - Sukher Disha...,

The Great মুর্শিদাবাদের নদ নদী জলাশয় পুরাতত্ত্ব ও তার আর্থ সামাজিক গুরুত্ব 1November 2023

প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগের প্রথমার্ধ পর্যন্ত নদী অববাহিকাকে বুকে আঁকড়েই গড়ে উঠেছে জনপদ । প্রসার লাভ ঘটেছে জনবসতির । নদীকে সম্বল করেই বেঁচে ছিল মানুষ । কৃষিত আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট নির্ভর ছিল নদীর ওপর । নদীময় ছিল মানুষ মানবজীবন ।

মুর্শিদাবাদের নদ নদী জলাশয় পুরাতত্ত্ব ও তার আর্থ সামাজিক গুরুত্ব 1November 2023

নদীকে কেন্দ্র করেই যত আনন্দ সুখ ও দুঃখ । নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে নদী খাত খাল বিল দিঘী পুকুর এবং শেষ ব্যবস্থার নানান প্রক্রিয়া । প্রাচীনকালে নদীকেন্দ্রিক সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি মূলত ছিল সেখানকার আর্থসামাজিক প্রক্রিয়ারই শ্বাস-প্রশ্বাস যাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে মানব সভ্যতার প্রথম সোপান ।কয়েকটি দৃষ্টান্তেই এর গুরুত্ব প্রমাণিত হয় । শেষ ব্যবসাকে কতটা গুরুত্ব দেয়া হতো মনুর একটি বিধান থেকে তা জানা যায় ।

সেচ ব্যবস্থার ক্ষতি করলে তাকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছেন মনু। বিষ্ণুরও বিধান আছে শেষ ব্যবস্থার কেউ ক্ষতি করলে তাকে সেচ প্রকল্পটি মেরামত করে দিতে হবে এবং সঙ্গে এক হাজার রূপার মুদ্রা জরিমানা দিতে হবে । এই দুটি বিধান থেকে বুঝতে পারা যায় ব্যক্তিগত স্তরে জল বন্টন নিয়ে সমাজ গোষ্ঠীতে তখন বিরোধের সৃষ্টি হতো ।

আবার কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র সম্পর্কিত বই থেকে যে যুগের নদী ব্যবস্থার কথা জানা যায় যেমন “The great Mauryan Emperors,who in the third century BEFORE CHRIST ruled over a land bigger than the present British Empire ,maintained a regular department of irrigation and Navigation.

The officers looked after maintenance of irrigation canals,levied taxes on water,and controlled navigation” মৌর্য যুগে শেষ ব্যবস্থার সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিবরণ রয়েছে মেগাস্থিনিস সম্পর্কিত গ্রন্থে – “Megasthenes refers to sluices on rivers in order to ensure distribution of water to cultivators.

Inspection of these irrigation sluices was entrusted to a type of royel officer called agoranomy.Arthashastra laid down different retes of water from cultivators,the difference in rate depending on methods of procuring water form cultivators,the difference in rate depending on methods of procuring water for irrigation fields”

by google image

মুর্শিদাবাদের নদ নদী জলাশয় পুরাতত্ত্ব ও তার আর্থ সামাজিক গুরুত্ব 1November 2023


এই নদী কেন্দ্রিক সেচ ব্যবস্থার ফলে কৃষি সম্প্রসারণ আমাদের অর্থনীতিকে শক্তবৃতের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল আবার এই নদী বন্যার ফলে আমাদের অর্থনীতির কাঠামোকে কিভাবে বিপর্যস্ত করেছে এই নদীই তার দৃষ্টান্ত রয়েছে অনেক । গঙ্গা শোন ঘাগরা গন্ডক ও পুনপুন এই পাঁচ নদীর সংযোগস্থলেই ভারতের রাজধানী এবং বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছিল পাটলিপুত্র নগরটি । ঐতিহাসিক সাক্ষ্য প্রমাণে জানা গেছে ভয়ংকর বন্যার কারণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এই শহরটি । The Great মুর্শিদাবাদের নদ নদী জলাশয় পুরাতত্ত্ব ও তার আর্থ সামাজিক গুরুত্ব 1November 2023

খনন কার্যের ফলে জানা গেছে প্রত্যেক বছর বন্যার কারণে ও মাটি চাপা পড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় মগধের নগরকেন্দ্র গুলি । খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গড়ছিল পূর্ব ভারতের রাজধানী ও প্রাচীন শহর । পনেরশো সাতাত্তর খ্রিস্টাব্দে এক ভয়ংকর মারামারিতে জনশূন্য হয়ে পড়ে এই শহর । ভূমিস্তর নেমে গিয়ে শহরের বর্জ্য পদার্থের ড্রেন গুলি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অতিমাত্রায় জঙ্গলের উন্নতিতে এই বিপর্যয় ।

নদীর সহযোগিতার ফলেই মিশর ব্যাবিলন তিন ভারতবর্ষ প্রভৃতি দেশগুলি যেমন সবুজের দেশ হয়ে ওঠে । কিন্তু দুঃখের বিষয় এই নদীই আবার চীনের দুঃখের কারণ হয়ে ওঠে । চীনের হোয়াংহো নদী তার প্রমাণ । নিয়ন্ত্রণ হারালেই নদী একটি জনপদকে ধ্বংস করে দেয় নিমেষেই । পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছিল চীনে ১৯৯১ সালে । তখন প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল । তারপরে আবার চিনে ১৯৮৯ সালের বন্যা পীড়িত মানুষের সংখ্যা ছিল এক কোটি ।

সেদিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন্যাটি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের ২০০০ সালে । এই বন্যায় বন্যা পীড়িত মানুষের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১৮ লক্ষ প্রায় । ফলে আমাদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে নদীর উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে বিভিন্ন জলাশয় কে কাজে লাগিয়ে মানুষ যেমন কৃষি সম্প্রসারণ ও অর্থনীতির সমৃদ্ধি ঘটিয়েছেন তেমনি নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে পথে পা বাড়িয়েছেন। যদি এবং বিভিন্ন জলাশয় গুলি এভাবেই আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে ।

by google image


গ্রাম বাংলার শরীর জুড়ে শিরা ধমনীর মতো ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য নদ নদী খাল বিল দিঘী ও পুকুর । এইসব জলাশয় এর প্রভাব আমাদের জনজীবনে অপরিসীম । নদীপথেই যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য মুর্শিদাবাদ একসময় হয়ে উঠেছিল বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী । মাছ চাষ মাছ শিকার ও নানাবিধ ব্যবসার সুবিধার জন্য নদী উপত্যকায় ডেরা বেঁধেছিল মতস্যজীবীরা ।

বিহারের যাদ ব এবং গোয়ালারা তৃণ ক্ষেত্রের মধ্যে আস্তানা গেড়েছিল এখানেই । জলপথকেই জনপদ করে তুলেছিল বলেই নদীর ঢেউয়ে জন্ম নিয়েছিল আব্বাস উদ্দিনের ভাটিয়ালি গান । নদী কথা জেনেছিলেন বলেই জন্ম নিয়েছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি।

by google image


নদী সংশ্লিষ্ট ভূপ্রকৃতি গত পরিবেশ ও জলপথ যোগাযোগ ও বাণিজ্য পথ সুবিধা জনিত কারণেই একসময় মুর্শিদাবাদ সামন্ত শাসিত ভারতবর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল । মুর্শিদাবাদ ও নদ-নদী খাল বিলে অন্য জেলা থেকে পিছিয়ে নেই । ভাগীরথী বিভাগ করে গেছে মুর্শিদাবাদ কে । ভাগীরথীর পূর্ব দিক অর্থাত ভাগীরথী পদ্মা অববাহিকা বাগড়ি এবং ভাগীরথীর পশ্চিম দিক অর্থাত ময়ূরাক্ষী ভাগীরথী অববাহিকা রাঢ় অঞ্চল নামে পরিচিত ।


মুর্শিদাবাদ জেলার উত্তর পূর্বে প্রবাহিত গঙ্গা ও পদ্মা । দক্ষিনে নদিয়া ও বর্ধমান জেলা । দক্ষিণ-পূর্বের কিছু অংশ জলঙ্গী নদী এবং পশ্চিমে বীরভূম ও বিহারের সাঁওতাল পরগনা অবস্থিত । জেলায় পাঁচটি মহকুমার ২৬ টি ব্লকের ২৬ টি পঞ্চায়েত সমিতির ২৫৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত । গ্রামের সংখ্যা ২২২৬ টি পৌরসভা ৭টি । জেলার ভৌগোলিক আয়তন ৫ লাখ ৩১ হাজার ৬১১ হেক্টর ।

by google image


মুর্শিদাবাদ জেলার উত্তর পূর্বে প্রবাহিত গঙ্গা ও পদ্মা । দক্ষিনে নদিয়া ও বর্ধমান জেলা । দক্ষিণ-পূর্বের কিছু অংশ জলঙ্গী নদী এবং পশ্চিমে বীরভূম ও বিহারের সাঁওতাল পরগনা অবস্থিত । জেলায় পাঁচটি মহকুমার ২৬ টি ব্লকের ২৬ টি পঞ্চায়েত সমিতির ২৫৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত । গ্রামের সংখ্যা ২২২৬ টি পৌরসভা ৭টি । জেলার ভৌগোলিক আয়তন ৫ লাখ ৩১ হাজার ৬১১ হেক্টর । বনাঞ্চল 13 হাজার হেক্টর। চাষযোগ্য জমির পরিমাণ 3 লাখ 85 হাজার 520 হেক্টর ।

জেলার প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পুকুর এবং জলাশয় এর আয়তন ৮২ হাজার হেক্টরের বেশি । মাছ চাষ জলার পরিমাণ ৪১ হাজার হেক্টর । জেলার নদনদী খাল বিল পুকুর অতিথির যেমন পুরা তাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে তেমনি এই জেলার অর্থ সামাজিক কাঠামোটা অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে জলাশয় এর উপর । শেষ প্রকল্পগুলি যথাযথ না হওয়ায় এখনও বেশিরভাগ চাষীকেই চাতকের মত চেয়ে থাকতে হয় আকাশের দিকে ।

আর এছাড়া এইসব জলাশয় এর জলে চাষীদের প্রয়োজন আংশিক পূরণ করতে সমর্থ হয় । ভাগীরথী ভৈরব জলঙ্গি জেলার প্রধান নদনদী । অনেক ছোটখাটো নদীখাতো আছে। এইসব নদী-খাত খাল বিল নদী গুলির সাথে চিড়া ধমনীর মত যোগসূত্র রেখে বইত । বর্ষার উদ্বৃত্ত জল যেমন এই সব নদী খাত দিয়ে বিলে পুকুরে ও দিঘিতে বয়ে যেত, খরাতে তেমনি এইসব জল দিয়ে চাষাবাদের সুবিধা পেত চাষীরা ।

বহরমপুর শহরে সারগাছি ভাবটা ও বেলডাঙায় এসব প্রাচীন শেষ ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ কে চিহ্নিত করা যায় । কিন্তু ধীরে ধীরে যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ রেললাইন পাকা রাস্তা নির্মাণের ফলে এদের নারীসূত্র ছিন্ন হয়ে যায় । জল নিকাশের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নদীগর্ভের নাব্যতা কমে যেমন জল ধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে তেমনি খাল বিল গুলি ক্রমশ মুজে গিয়ে চাষ জমিতে পরিণত হয়েছে । ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যাও এর একটি অন্যতম কারণ ।

by google image


ব্যবসার কারণেই জিয়াগঞ্জের বালুচর ও কাশিমবাজারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ছিল । ভৈরব ছিল তার মূল বাণিজ্য পথ । এই নদীর দুপাশে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা ও হস্তশিল্প কেন্দ্র । এই নদীর তীরেই চক ইসলামপুর ফতেপুর তরতিপুর ভগিরাতপুর প্রভৃতি গ্রামগুলি রেশম ও সুতিবস্ত্র কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল । ডোমকলে বাজিতপুর এবং জিতপুরের সমৃদ্ধি ঘটেছিল শঙ্খ বণিকদের জন্যই । নদী তীরে এইসব হস্তশিল্পীরা গ্রামগুলির ভিত্তি দিয়েছিল।

মুর্শিদাবাদে একসময় মুক্ত ও ঝিনুকের চাষ হতো । গ্রীক লেখকরা এর উল্লেখ করেছেন । মুর্শিদা বাদ এর খাল বিল দিঘিতে বড় বড় ঝিনুকের পেটে মুক্তোর দানা পাওয়া যেত । লালবাগের মতিঝিলে মুক্তোর চাষ হতো বলে অনুমান করা হয় । ভান্ডারদহ বিলটি ইংরেজ আমলে মুক্তোর জন্য নিলাম হতো । ঢাকা থেকে বণিকরা এইসব মুক্তোর ব্যবসা করতে আসতেন । কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারে সেসব এখন হারিয়ে গেছে ।

Read More>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *