" crossorigin="anonymous"> ম্যালেরিয়া রোগ কি, কিভাবে এই রোগ ছড়ায়, কিভাবে চিকিতসা করবেন ,আর এর রোগের প্রতিকার কি,এবং এই রোগ থেকে খুব সাবধানে থাকবেন Great 12december 2023 by sukherdisha.com - Sukher Disha...,

ম্যালেরিয়া রোগ কি, কিভাবে এই রোগ ছড়ায়, কিভাবে চিকিতসা করবেন ,আর এর রোগের প্রতিকার কি,এবং এই রোগ থেকে খুব সাবধানে থাকবেন Great 12december 2023 by sukherdisha.com

ম্যালেরিয়া রোগ সম্পর্কে কোন কিছু জানে না এরকম লোক খুব কম পাওয়া যাবে। ম্যালেরিয়া একটি মশা বাহিত রোগ । বিশেষ করে মশার কামড়ে এই রোগ হয়ে থাকে । কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলে এই রোগ থেকে বাঁচা যায় ।

ম্যালেরিয়া রোগ কি,কিভাবে এই রোগ ছড়ায়, কিভাবে চিকিতসা করবেন ,আর এর রোগের প্রতিকার কি,এবং এই রোগ থেকে খুব সাবধানে থাকবেন

সুদূর অতীতেও এই রোগ ছিল এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে । অনেক পুরানো দিনের রোগ বলে এই রোগকে ছোটখাটো রোগ ভেবে অবহেলা করা একদম ঠিক না । পৃথিবীর প্রত্যেকটি ম্যালেরিয়া প্রবণ দেশের মধ্যে ভারতবর্ষ অন্যতম স্থান দখল করে আছে বেশ কয়েক বছর থেকে । প্রতিমাসে পৃথিবীতে প্রায় দু লাখ মানুষ মারা যায় এই ম্যালেরিয়ার কারণে তার মধ্যে সিংহভাগই শিশু । দক্ষিণ-পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার শহর ও শহরের আসেপাশে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । মানুষের যাতায়াত এখন আগের থেকে অনেক বেড়েছে ।

এক শহর থেকে অন্য শহর এক দেশ থেকে আরেক দেশ এমনকি এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে মানুষের ঘন ঘন যাতায়াত আদান-প্রদান বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়া রোগের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে । অতীতে একটা সময় ম্যালেরিয়া একেবারে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছিল । কিন্তু আজ এই ম্যালেরিয়া কোন কোন দেশে মহামারী রোগ হিসেবে মাথাচাড়া দিয়েছে । ঘনবসতিপূর্ণ মানুষের বসবাস, পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার কারণে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের গতি আশানুরূপ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স সীমা নেই । সব বয়সেই ম্যালেরিয়া হতে পারে । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে শিশু আর বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে । ৬ মাস বয়সের কম বয়সী শিশুদের ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম ।

কারণ এই ছয় মাসের মধ্যবর্তী সময়ে বাচ্চার মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাচ্চার শরীরে প্রভাব বিস্তার করে থাকে । তারপরেই ৬ মাস বয়সের পর থেকে বাচ্চার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে । তখন বাচ্চার ৬ মাস বয়সের পর থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে । বাচ্চার বয়স যখন পাঁচ বছর পূর্ণ হয় তখন থেকে তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আবার বাড়তে থাকে ।

বিশেষ করে পুরুষরাই এই ম্যালেরিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হয় । কারণ তারা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম অন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে বেশিরভাগ সময় কাজ কর্মের খাতিরে যাতায়াত করে । এই কারণে তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । তবে আমাদের দেশে মেয়েদের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম । মেয়েরা বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকে এবং তারা বেশিরভাগ সময় শরীর ঢাকা কাপড় পড়ে থাকে এইজন্য তাদেরকে এই মশাই আক্রান্ত করতে পারে না তার কারণে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ঝুঁকি অনেকাংশে কম ।


মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়ার সম্ভাবনা বেশি । তবে গর্ব অবস্থায় ম্যালেরিয়া হলে ভয়ের কারণও অনেক বেশি । যেমন গর্ভবতী মায়ের ম্যালেরিয়া হলে বাচ্চার মৃত্যু বা হঠাত গর্ভপাত হতে পারে । এদিক দিয়ে উন্নত দেশ গুলিতে এই গর্ভবতী মায়ের ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা অতি নগণ্য ।

অজ্ঞানতা, অপুষ্টি, ও অসচেতনতার কারণে উন্নয়নে ব্যাহত দেশগুলির মানুষের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেশি । তবে উন্নত দেশগুলোতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ নেই বললেই চলে । ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা , বা যেখানে সূর্যের আলো কম পৌঁছায় , কম আলো বাতাস যুক্ত সাতসেতে এলাকায় ম্যালেরিয়া অধিক দেখা যায় ।

আগেকার দিনে ম্যালেরিয়া শুধু গ্রাম অঞ্চলেই বেশি দেখা যেত । গ্রামে চাষীদের বিশেষ করে যারা চাষাবাদ করে তাদেরই এই রোগ বেশি হতো । কিন্তু বর্তমানে শহরাঞ্চলেই এ রোগের প্রকোপ বেশি বেড়ে চলেছে । অপরিকল্পিত আবাসন, ময়লা আবর্জনার অপরিষ্কার, জল নিষ্কাশনের অসুবিধা এইসব কারণে শহরের দিকে এইসব রোগে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ।

খোলা জায়গায় ঘুমানো, মশারি না টানিয়ে ঘুমানো, বাড়িঘর পরিষ্কার না রাখা ম্যালেরিয়া বৃদ্ধিতে বেশি সহায়তা করে । ব্যবহার না করা পাত্র, ডাবের খোসা, ক্যারিব্যাগ, পুরানো টব, টায়ার, ইত্যাদিতে জল জমে থাকলে তাতে মশার বংশবিস্তার করতে সুবিধা হয় । শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল নিষ্কাশনের সুবিধা না থাকায় বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল মশার বিশাল প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে ধরা হয় ।


আমাদের দেশে ম্যালেরিয়া রোগ বিশেষ করে গরমের সময় বেশি দেখা যায় । জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে গরমের সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এই সময় মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত বেশি হয় । আবার যখন 20 থেকে 30 ফারেনহাইট তাপমাত্রা থাকে তখন এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে । বৃষ্টির সময় ম্যালেরিয়া রোগের মশার বংশবিস্তার করতে খুব সুবিধা হয় । তবে অতিমাত্রায় বৃষ্টি এর বংশবৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ।

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ গুলি কি কি দেখে নেওয়া যাক

অন্যান্য জ্বরের থেকে এই জ্বর একটু আলাদা । অন্যান্য জ্বর গুলি শরীরে ধীরে ধীরে তার প্রকাশ পায় । কিন্তু এই ম্যালেরিয়া জ্বর প্রধান লক্ষণ দুইটি হলো প্রচন্ড শীত লাগা এবং অতি কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা । এইভাবে যদি জ্বর আসে, তাহলে ভাবতে হবে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রমণ করেছে । তাছাড়া বাচ্চাদের অনেক সময় এই জ্বরের লক্ষণগুলো হল তাদের পেটে গোলমাল করবে পেট ফাঁপা পায়খানা পরিষ্কার হওয়া এবং পেটে যন্ত্রণা করা ও হালকা শ্বাসকষ্ট হতে পারে ।

তবে বিশেষ করে ছয় মাসের পর থেকে আর পাঁচ বছরের আগের পর্যন্ত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসাটা বেশিরভাগ লক্ষ্য করা যায় না । এর পরিবর্তে ঘুম ঘুম ভাব, খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব, মাথায় যন্ত্রণা প্রভৃতি লক্ষ্য করা যায় । পাঁচ বছরের বয়সীরা ম্যালেরিয়াতে আক্রমণ হলে প্রথমে প্রচন্ড ঠান্ডা ও পরে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা ও সেই জ্বর ক্রমেই বাড়তে বাড়তে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে । খিচুনি, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া, শরীরের রক্ত কমে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, মাঝে মাঝে জ্ঞান শূন্য হওয়া, ইত্যাদি হলো এই রোগের জটিলতার লক্ষন।

এইগুলি হল ম্যালেরিয়া রোগের বিপদ সংকেত

ম্যালেরিয়ায় যারা আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণ গুলি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে । না হলে রোগী মারা যেতেও পারে । পানি অথবা খাবারের প্রতি খুব বেশি অরুচি । ঘন ঘন বমি হওয়া, খিচুনি ও ঘুম ঘুম ভাব, মাঝে মাঝে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, ও শরীরে অত্যন্ত ক্লান্তি দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি পারা যায় চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে ।


রক্তের মধ্যে ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে কিনা জানার জন্য উপযুক্ত পরীক্ষা করতে হবে । ম্যালেরিয়া সন্দেহ করলে যে কোন সময় তার পরীক্ষা করা যেতে পারে । তবে ঔষধ শুরু করার আগে এর পরীক্ষা করে নেয়া ভালো । যদি প্রথম পরীক্ষায় কিছু ধরা না যায় তাহলে পরপর তিনবার পরীক্ষা করে জানতে হবে । এখন মাইক্রোস্কোপ ছাড়াও ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা করা যায় । এই পরীক্ষা করতে খুব কম সময় লাগে ।

ম্যালেরিয়া রোগের চিকিতসা কিভাবে করবেন

চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো রোগ দ্রুত সনাক্তকরণ ও রুগীকে এই রোগ থেকে সারিয়ে তোলা। একমাত্র চিকিতসায় বলতে পারে রোগী কি ধরনের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ভাইভ্যাক্স না ফ্যালসিপেরাম । ম্যালেরিয়া রোগের অন্য সব ওষুধ থাকলেও ক্লোরো কুইন সব থেকে বেশি কাজ দেয় তবে মাঝ পথে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিলে হবে না পুরো কোর্স কমপ্লিট করতে হবে । তবে এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যাবে । তবে বর্তমানে এখন বাজারে এর থেকে অনেক ভালো ওষুধ এসেছে
। এই রোগের জটিলতা দেখা দিলে খুব দ্রুত চিকিতসা শুরু করতে হবে । তবে যেখানে সব রকমের ব্যাবস্থা আছে সেই রমক হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে এর চিকিতসা করতে হবে ।

কিভাবে এই ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিরোধ করা যায় দেখা যাক

ম্যালেরিয়া রোগ যেমন অন্য রোগের থেকে আলাদা । তেমনি এই রোগের বাহিত যে মশা সেই মশার চালচলন আলাদা । এই মশা সন্ধ্যা ও ভোরের দিকে বেশি কামরায় । তাই রাতকে দু ভাগে ভাগ করে । সন্ধার পর থেকে মশা তাড়ানোর ক্রিম লাগাতে পারেন বিশেষ করে খোলা জায়গা গুলোতে । তবে এই ক্রিমের কাজ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আবার শোয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আবার ক্রিম লাগাতে হবে কিংবা শোয়ার সময় অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে শুতে হবে ।

তবে মশারি ব্যবহার না করলে মশা তাড়ানোর ধুপ, ম্যাট, বা ইলেকট্রিক অলআউট অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে । বাড়িঘর ও আশেপাশে যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে । ছাদের জল ট্যাংকি খোলা রাখা যাবে না , খালি টপ, বা কোন কিছুর কৌটা

ম্যালেরিয়া রোগ যেমন অন্য রোগের থেকে আলাদা । তেমনি এই রোগের বাহিত যে মশা সেই মশার চালচলন আলাদা । এই মশা সন্ধ্যা ও ভোরের দিকে বেশি কামরায় । তাই রাতকে দু ভাগে ভাগ করে । সন্ধার পর থেকে মশা তাড়ানোর ক্রিম লাগাতে পারেন বিশেষ করে খোলা জায়গা গুলোতে । তবে এই ক্রিমের কাজ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আবার শোয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আবার ক্রিম লাগাতে হবে কিংবা শোয়ার সময় অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে শুতে হবে । তবে মশারি ব্যবহার না করলে মশা তাড়ানোর ধুপ, ম্যাট, বা ইলেকট্রিক অলআউট অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে । বাড়িঘর ও আশেপাশে যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে ।

ছাদের জল ট্যাংকি খোলা রাখা যাবে না । খালি টব, বা কোন কিছুর কৌটা, উল্টো করে রাখতে হবে নচেত ভেঙে ফেলতে হবে । কোথাও কোন কিছুতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না । ঔষধ খেয়ে ম্যালেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পদ্ধতিটি সর্বজনসম্মত নয় । বিশেষ করে ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকায় বা কোন জঙ্গলে বেড়াতে গেলে অবশ্যই সমস্ত শরীর ঢাকা পোশাক পরতে হবে ।

বিশেষ করে রাত্রিবেলায় খোলা জঙ্গলে যাওয়া যাবেনা আর যদি যেতেই হয় তাহলে হাতে পায়ে ক্রিম ব্যবহার করতে হবে, মশা তাড়ানোর জন্য । প্রত্যেকদিন রাত্রিবেলায় অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে । ঔষধ শুরু করার পর ম্যালেরিয়া নির্ণয় করা খুব কঠিন । তাই ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো । জ্বর হলেই যে ম্যালেরিয়া ওষুধ খেতে হবে এমনটা নয় । এসব গুলো মেনে চললে ম্যালেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে ।

Read More>>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *