" crossorigin="anonymous"> শিশু শ্রমিক/অসহায় শ্রমিক 15October 2023 great - Sukher Disha...,আমরা আমাদের স্কুলের নাম শাহাদিয়াড় হাই হাই মাদ্রাসা

শিশু শ্রমিক/অসহায় শ্রমিক 15October 2023 great

আমরা আমাদের স্কুলের নাম শাহাদিয়াড় হাই হাই মাদ্রাসা । স্কুলটি আমাদের গ্রাম ছেড়ে বেশ কিছুটা দূরে মাঠের এক প্রান্তে অবস্থিত । যদিও স্কুলটি ছিল দুই ভাগে বিভক্ত একটি বয়েজ একটি গার্লস । ছেলেরা যেত ছেলেদের স্কুলে আর মেয়েরা যেত মেয়েদের স্কুল । স্কুল ছুটির সময় খুব ভালো লাগতো ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকতো আর মেয়েরা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে থাকতো ।

শিশু শ্রমিক/অসহায় শ্রমিক 15October 2023 great


আমাদের স্কুলে আমরা কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গেই থাকতাম । একসঙ্গে চলে আসতাম একসঙ্গে ক্লাসে যেতাম একসঙ্গেই ক্লাস শেষে স্কুলের মাঠে গিয়ে বসতাম। আবার ছুটির সময় একসঙ্গে বাড়ি যেতাম। খুবই মজা হত ।

by google image

আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সবাই যে পড়াশুনায় একরকম ছিল তা নয়, আবার যে সবাই পড়াশোনা একদম খারাপ ছিল তাও নয় । তবে আমাদের মধ্যে সবথেকে পড়াশুনায় ভালো ছিল টনি। আমাদের ক্লাসে প্রথম স্থানে ছিল । শুধু আমাদের ক্লাসেই নয় প্রতিটি ক্লাসে সে প্রথম স্থানে থাকত । টনির পরিবার নেহাতেই দরিদ্র শ্রেণীর নিচ ই বসবাস করতো ।

টনির আব্বা দিনমজুরের কাজ করতো । টনির আরো বড় দুটি ভাই ছিল এবং টনির ছোটো তিনটি বোন ছিল এই ছিল তাদের পরিবার। টনি কে দিয়ে ভাই বোনের সংখ্যা ছিল ছয়জন । এই ৮জন সদস্য নিয়ে তাদের সংসার চলতো খুব কষ্টে । বাড়িতে কাজের লোক বলতে একমাত্র তার বাবা । তার বাবার আয়ের উপর নির্ভর করে চলতো তাদের পরিবার।

শিশু শ্রমিক/অসহায় শ্রমিক 15October 2023 great


যাই হোক ক্লাস নাইনের পরীক্ষা শেষে আমরা সবাই ক্লাস টেনে উঠে পড়লাম । সবাই ভালোভাবে পাস করেছিল । আবার সেই টনি আমাদের ক্লাসে প্রথম হল ।ক্লাস টেনে ওঠার পর রীতিমতো আমাদের ক্লাস কিছুদিন পরেই শুরু হয়ে গেল । আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল বছর শেষে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য । আমরা সবাই প্রায় একই সঙ্গে স্কুলে আসতাম । কিন্তু দেখলাম কয়েকদিন থেকে টনি স্কুলে আসছে না । টনের বাবা নাকি অসুস্থ ।

by google iamge


ভাই পারিবারিক সমস্যার কারণে তার বাবা-মা স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয় । আমরা সব বন্ধুরা মিলে গেলাম ওদের বাড়িতে । গিয়েই দেখি ওর বাবা বিছানায় পড়ে আছে । ওর আব্বা আম্মার কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম টনি একটি সাইকেল এর দোকানে কাজ করছে । ওর আব্বা মা ওদের অবস্থার কথা আমাদেরকে জানালেন ।

আমাদের সবার মন ভেঙে গেল । আমরা সবাই ভাবলাম গরিব হয়ে এ দুনিয়ায় আসা অপরাধ । আমরা বন্ধুরা, যতটা পারলাম তাদেরকে সাহায্য করলাম । টনির খোঁজ নিয়ে জানলাম ও আমাদের স্কুলের পাশেই একটা সাইকেল এর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছে দৈনিক 300 টাকা বেতনে

by google image


স্কুলে আসার পরে আমি ও আমার বন্ধুরা আশিক,ইকবাল,রহমান,ও গনেশ
সবাই মিলে ওই সাইকেলের দোকানে গেলাম টনির সঙ্গে দেখা করার জন্য। গিয়েই দেখলাম সাইকেলের দোকানে কাজ করছে এবং সমস্ত শরীর এমন ভবে কালিতে ভরে গেছে যে প্রথমে চিনতেই পারছিলাম না , ভালো করে দেখেই তারপরে চিনতে হল ।


আমরা জানা সত্বেও তাকে জিজ্ঞাসা করলাম সে কেন স্কুলে আসে না । তখন সে বলে তার বাবা-মা স্কুলে আসতে বারণ করেছে । তাকে বলেছে সাইকেলের দোকানে কাজ করে টাকা উপার্জন করে সংসার চালাতে এবং বলেছে তা তার তিন বোনের বিয়ে দিতে হবে । আমরা জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি লেখা পড়া লেখাপড়া করতে চাও ? তখন ছেলেটা বলল আমি স্কুলে যেতে চাই এবং লেখাপড়া করতে চাই ? কিন্তু কি করব আমাদের সংসারের যে অবস্থা তার ওপরেও আব্বাজান অসুস্থ তাই তারা আমাকে স্কুলে যেতে বারণ করে আমাকে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে ।

by google image


আমরা সবাই মিলে একটা যুক্তি করলাম যে টনির আব্বা আম্মার কাছে আমরা যাব এবং আমরা একা যাব না । এই ঘটনাটা আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহাশয় কে গিয়ে বললাম তিনিও আমাদের সঙ্গে টনিদের বাড়ি যেতে রাজি হলো এবং বলল আমরা সবাই গিয়ে টনির আব্বা আম্মাকে বোঝাবো । তারপর একদিন স্কুলের ছুটির পর প্রধান শিক্ষক এবং আমরা টনির বাড়িতে গেলাম এবং তার বাবা মাকে বোঝালাম ।

ওকে সাইকেলের দোকানে কাজ না করিয়ে যদি পড়ালেখা করানো হয় তাহলে সে বড় হয়ে ভালো চাকরি করে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারবে এবং আপনার তিন মেয়ের বিয়ে দিতে পারবে । তার আব্বা মা তাদের সংসারের অবস্থার কথা বললেন । সেসব শুনে আমাদের হেড মাস্টারমশাই খুব ব্যতীত হলেন । তিনি তাদেরকে কিছু সাহায্য করবেন বললেন । এবং তার ছোট তিন বোনকেও স্কুলে ভর্তির কথা বললেন ।

তার আব্বা মা মাস্টারমশাই এর উপর ভরসা করে রাজি হয়ে গেলেন । এবং মাস্টারমশায়ের কথা শুনে টনির আব্বা মা তাকে স্কুলে পাঠাতে লাগলো। তারপর টনি মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করে এবং উচ্চমাধ্যমিকে 95% নম্বর পাই । সে কলেজেও টপার এবং প্রচুর স্কলারশিপের টাকা পাই ।

by google image


আমরা আমাদের বন্ধুরা সবাই এখন বড় হয়ে গিয়েছে । যে যার যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে । কেউ সরকারি চাকরি করে কেউ বা বেসরকারি আবার কেউ ব্যবসা করছে । এইভাবে চলে যাচ্ছে দিন । আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সেই মেধাবী ছাত্র টনি এখন বড় ডাক্তার হয়েছে । এবং প্রচুর টাকা উপার্জন করছে এবং তার তিন বোনের ধনী ঘরে বিয়েও দিয়েছো । গ্রামের তার সুখ্যাতির অন্ত নাই । সে গরীবদেরকে খুবই সাহায্য করে । গ্রামের একজন অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রিংকুর বিয়ে দিয়েছে নিজেই । তার বাড়িতে কোন ব্যাক্তি টাকার জন্য আসলে কেউ খালি হাতে ফিরে যায়নি কোনদিন । সে বিনা পারিশ্রমিকে গ্রামের দরিদ্র মানুষের চিকিতসা করত । সে সরকারি বেতন পেতো প্রায় এক লক্ষ টাকার উপরে ।

পরিশেষে পাঠকের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা চারপাশে মনোযোগ দিয়ে তাকান । দেখবেন এরকম অসংখ্য প্রতিভা নীরবে কাঁদছে । অকালেই তাদের প্রতিভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু সহযোগিতা ও টাকা পয়সার অভাবে । আপনারা হাত বাড়ান তারা সেই বন্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসবে এবং আলোর পথ দেখবে । তারা হয়তো টনির মতো বড় হয়ে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারবে । দেশকে ও দশকে সাহায্য করতে পারবে । এবং এই সমাজকে দেশকে আলোকিত করতে পারবে, তাই হাত বাড়ান কেউ হয়তো অপেক্ষা করছে আপনার জন্য ।

by google image

কিন্তু একটি দুঃখের বিষয় হলো যারা ধনী যাদের টাকা পয়সার অভাব হয় না তারা কোনদিন ভেবেও দেখে না যে পাশের বাড়ির দরিদ্র অসহায় লোক টি কি খাচ্ছে কিভাবে তারা সংসার চালাচ্ছে । তাদের কি উচিত ছিল না পাশের বাড়ি অসহায় দরিদ্র মানুষের কথা একটু ভেবে দেখার । অসহায় দরিদ্র মানুষের কথা যদি পাশের বাড়ির লোক না ভাবে তাহলে আর কে ভাববে ।

Read More>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *