" crossorigin="anonymous"> শীতের রোগ ও তার প্রতিকার 3November 2023 great - Sukher Disha...,

শীতের রোগ ও তার প্রতিকার 3November 2023 great

প্রচন্ড গরমের দিন শেষ করে এখন হালকা হালকা শীতের মধ্যে আমরা পদার্পণ করছি । না শীত না গরম এই সময়টা খুবই মনোরম । কিন্তু মনোরম হলেও এই সময়টাতেই মানুষের অসুখটা বেশি বাড়ে যেমন সর্দি-কাশি জ্বর এইসব । তবে কিছুদিন পরেই শীত জেকে বসবে ।

শীতের রোগ ও তার প্রতিকার 3November 2023

ঘুম থেকে উঠলেই দেখা যাবে প্রকৃতি কুয়াশাচ্ছন্ন, আর সবুজ ঘাসে জমে আছে বিন্দু বিন্দু শিশির । কচি ঘাসের আগায় বিন্দু বিন্দু শিশির জমতে শুরু করে দিয়েছে। অনেক সময় প্রকৃতি সাজে অপরূপ সৌন্দর্যে বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়ে যায় । শীতকালের শুরুর এই সময়টা উপভোগ্য হলেও দেখা দিতে পারে বাড়তি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা । তাই কিছুটা সতর্কতা হিসাবে চলতে হবে । গরম আবহাওয়ার সঙ্গে কম তাপমাত্রার মিশ্রণ আর ধুলাবালির উপদ্রব সব মিলিয়ে কিন্তু তৈরি হয় স্বাস্থ্যগত সমস্যা ।

by google image


ভ্রমণের জন্য এই শীতকালটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ । গরমের আবহাওয়া ভ্রমণের ব্যাপারে কাল হয়ে দাঁড়ায় । গরমের দিনের বেলায় যেমন রোদের তাপমাত্রা বেড়ে যায় তেমনি গরমের প্রকোপ অতিমাত্রায় বাড়তে শুরু করে।
তবে শীতের সময় অতিমাত্রায় শীত বেড়ে যাওয়ায় কিছু প্রার্থী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় যেমন শীতের প্রধানত বাড়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ । যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস তবুও বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। বাইরের তাপমাত্রা বাড়া বা কমার সঙ্গে ভাইরাসের বেশি প্রকোপ দেখা যায় । তবে শীতকালীন ভাইরাস জনিত রোগ ও গরমকালের ভাইরাস জনিত রোগ আলাদা ।

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেসব এনজাইম আছে তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় অর্থাৎ শীতকালে কম কার্যকর হয়ে পড়ে । ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে । এই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে শরীরে বাসা বাঁধে বিভিন্ন রকম ভাইরাস যার কারণেই বিভিন্ন ধরনের ছোটখাটো অসুখ-বিসুখ লক্ষ্য করা যায়।শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে আদ্রতা কমে যায় যা আমাদের শ্বাসনালীর স্বাভাবিক কর্ম প্রক্রিয়াকে বিঘ্নত করে ভাইরাসের আক্রমণকে সহজ করে দেয় ।

শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বাতাস ভাইরাস উড়াতে সাহায্য করে । এছাড়া ধুলাবালির পরিমাণও বেড়ে যায় । ঠান্ডা শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগের শ্বাসনালী কে সরু করে দেয় । যার ফলে বিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয় । ফলে শীত কালে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় ।

by google image

শীতের রোগ ও তার প্রতিকার 3November 2023


স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে প্রথমেই চলে আসে সাধারণ ঠান্ডা জনিত সর্দি কাশি জ্বর এইসব রোগের কথা । বিশেষত শীতের শুরুতে তাপমাত্রা যখন কমতে থাকে তখনই এর প্রাদুর্ভাব বিশেষ লক্ষ্য করা যায় । এই শীতের সময় বিশেষ করে শুরুর দিকে কখনো হালকা কখনো বেশি গলা ব্যথা করে, গলায় খুসখুস করে ও শুকনো কাশি দেখা যায়, নাক বন্ধ হয়ে যায় , নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে এবং ঘন ঘন হাচি আসে ।

হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা দুর্বল লাগা খুদা মন্দ ইত্যাদি দেখা যায় । এটা মূলত শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশের রোগ তবে এইসব রোগের জন্য ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না এগুলো এমনি এমনি ভাল হয়ে যায় , যার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি তার শরীর থেকে এগুলো তত তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যায় । আর যার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তার শরীরে একটু বেশি দিন স্থায়ী হয়, তবে হালকা ওষুধ খাওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে । এইসব রোগ গুলো প্রধানত ৭ থেকে ৮ দিন স্থায়ী হয় । ঔষধ খেলেও ৭-৮ দিন পরেই এগুলো ভালো হয়ে যায় ।

by google image


যদি প্রতিরোধের চেষ্টা সত্ত্বেও সর্দি-কাশি দেখা যায় তবুও প্রতিরোধের উপায় গুলো চালিয়ে যেতে হবে । এক্ষেত্রে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি হালকা প্যারাসিটামল এবং এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ খেলেই যথেষ্ট। এই ওষুধগুলো শুধু রোগের তীব্রতাকে কমাবে না শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে । প্রয়োজনে চিকিতসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে । পাশাপাশি যে সব ঔষধ আমাদের আশেপাশে পাওয়া যায় যেমন তুলসী পাতা, কালোজিরা, আদা,মধু এসব খেতে হবে এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে রোগের উপসর্গকে কমাতে সাহায্য করে ।

by google image

এই শীতে যারা আক্রান্ত হবে তারা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসায় থাকাই ভালো । বিশেষ করে স্কুলের আক্রান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই বাসায় রাখতে হবে , খেয়াল রাখতে হবে তারা যেন বাইরে না বেড়ায় এবং কোন বাচ্চা ছেলেদের সঙ্গে খেলাধুলা একসাথে উঠাবসা না করে । তবে খুব প্রয়োজনে যদি বাইরে যেতে হয় তাহলে অবশ্যই মাস্ক পড়ে যেতে হবে । সেই রক্তিম মূলত ভাইরাস জনিত । ঠান্ডায় অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াও এ রোগের ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশিটা খুব বেশি হয় এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে । এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত দেহের দুর্বলতার সুযোগে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াও আক্রমণ করতে পারে । বিশেষ করে নাকের সর্দি যদি খুব ঘন ঘন হয় বা কাশির সঙ্গে হালকা কম আসতে থাকে তা হলে ব্যাকটেরিয়া

আক্রমণকেই নির্দেশ করে । এই রোগেরও যেমন কোন চিকিতসা প্রয়োজন হয় না,লক্ষণ অনুযায়ী চিকিতসা দিলেই হয় শুধু ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হলেই এন্টিবায়োটিক এর প্রয়োজন হয় । শীতের প্রকোপে শুধু ফুসফুস নয় কান ও টনসিলের সমস্যা ও কিছু ব্যথা হতে পারে । এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিতসা নেওয়াই ভালো । প্রায় ক্ষেত্রেই এন্টিবায়োটিক খাওয়াই ভালো । তাছাড়া যাদের হাঁপানি বা অনেক দিনের কাশির সমস্যা যেমন ব্রংকাইটিস আছে ঠান্ডা হওয়ার তাদের কষ্ট বাড়ে । এ সময় বেশি বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখা যায় । তবে শীতের অসুখের বেশিরভাগ শ্বাসকষ্ট জমিতে হয়ে থাকে । এসব রোগী বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে হাঁপানি রোগী এবং যারা স্মোকিং করে এবং নবজাতক, শিশু, বৃদ্ধ ইত্যাদির ।

by google image

ঠান্ডা ও হাঁপানি রোগ থেকে বাচতে করণীয় কি –
1) শীতের সময় বেশি বেশিরভাগ ফ্রিজের খাবার বা ঠান্ডা পানি বর্জন করতে হবে
2) এই সময় হালকা গরম পানি পান করা ভালো , এবং মাঝে মাঝে হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া বা কুলকুঢি করতে হবে ।
3) গরম পোশাক পরিধান করতে হবে । যেমন মাফলার ও কান ঢাকা টুপি পড়তে ।
4) ধুলাবালি এগিয়ে চলা ও ধূমপান বন্ধ করতে হবে ।
5) হাঁপানি রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিতসকের মত অনুযায়ী তাদের প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে

6) তাজা সবজি পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে । কাশির মতো প্রকট না হলেও শীতে আরো অনেক রোগ বেড়ে যায় বাতের ব্যথা এবং অর্থারাইটিস এই সময় বাড়তে পারে । এ রোগের বিশেষ করে বয়স করাই বেশি আক্রান্ত হয় । এতে অগ্রিম ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো ।

শীতকালে ত্বকের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন । সুস্থতা কমানোর জন্য ভালো কোন তেল বা ক্রিম ভালো লোশন ব্যবহার করতে হবে । মুখের জন্য আলাদা ক্রিম বা ঠোঁটের জন্য আলাদা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। ।

by google image


শীতকালে বিশেষ করে সেদ্ধ ডিম বেশি খাওয়া উচিত, আর একটা বিশেষ উপকারী ফল সেটা হলো কমলালেবু বেশি খাওয়া উচিত ।
কমলা লেবুতে ভিটামিন ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম ফসফরাস প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ।
একটা মানুষের প্রতিদিন যতটুকু ভিটামিন সি প্রয়োজন তার সবটাই কমলা লেবু থেকে পাওয়া যেতে পারে
কমলা লেবুতে আছে শক্তি সরবরাহকারী চর্বিমুক্ত ৮০ ক্যালরি। যা শক্তির ভাব গুলোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে ।
বগুলাই আছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ক্যান্সার প্রতিরোধক, স্বাস্থ্যকর, রক্ত তৈরি কারক বা ঘা শুকানোর বিশেষ উপযোগী উপাদান ।
আরো অনেক কিছু পাওয়া যায় কমলালেব থেকে তাই বেশি পরিমাণে কমলালেবু খাওয়া উচিত।

Read More>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *