" crossorigin="anonymous"> হাসি ও কান্না Laughter and tears are great qualities of a good person 2023 - Sukher Disha...,

হাসি ও কান্না Laughter and tears are great qualities of a good person 2023

পার্থিব মানুষের হাসি কান্না স্বভাবজাত ব্যাপার । মানুষ জীবনে বহুমুখী গুণাবলীর মধ্যে হাসি ও কান্না গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । হাসি ও কান্না আল্লাহর এক অপর কুদরতের নিদর্শন । হাসিকে মেয়েলীপনা ভাবা বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা ঠিক নয় ।

হাসি ও কান্না Laughter and tears are great qualities of a good person 2023

মনের শান্তি ও দুঃখ নিবারণকারী ক্রন্দনের যেমন চোখে পানি আসে তেমনি আনন্দে অনেক সময় চোখে পানি দেখা যায় । হাসি ক্রন্দনকারী ব্যক্তির হৃদয়ের আগুন নিভায়,হৃদয়ে আনে প্রশান্তি, তাতে দেয় ঠান্ডা পানির ছিটা, উষ্ণ আসু মহাব্বত ও হামদরদির নিরঙ্কুশ ও নিখাদ প্রকাশ, আর অনাবিল হাসিতে মুহূর্তে মানব চেহেরা আনন্দের ছটায় ঝলমল করে , চোখের পানি মহাব্বতের আয়না ।

মানুষের অনুভূতি ও স্বভাবজাত নির্দোষ আবেগের উপর বিধি নিষেধের কড়া লাগানো কোন জ্ঞানের পরিচয় নয় । তাকে গলা টিপে মারা বেআইনি অর্থনৈতিক ও অমানবিক । তবে প্রত্যেক আবেগ অনুভূতির সীমারেখা অতিক্রম করা ঠিক নয় । যাহাতে মানুষের তুচ্ছ, হাস্য সম্পদ খেলনা না হতে হয়।

by google image

এখন হাসির সুন্নত তরিকা বিজ্ঞানসম্মত সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন হাসিমুখে কারো সাথে সাক্ষাত করা একটি সদকা । যার চেহারায় হাসির স্নিগ্ধতা থাকে সেই সেই সর্বোত্তম মুসলমান । আমার নবী জি (সাঃ) বেশিরভাগ মৃদু হাসতেন । কখনো কখনো নিম্ন শব্দ করে হাসতেন । সাহাবায়ে কেরাম ও একে অপরের হাসি, আনন্দে কৌতুক করতেন ।

শরীয়ত মোতাবেক হাসি তিন প্রকার 1) কাহাকা – অট্টহাসি বা উচ্চ হাসি 2) জেহেক – মধ্যম হাসি বা নিম্নস্বর করে হাসি । 3) তাবাসসুম – মৃদু হাসি বা স্মিত হাসি ঠোঁটের কোনে ভেসে উঠে আবার ঠোঁটে মিলিয়ে যায় । হুজুর (সাঃ) এর বেশিরভাগ সময়ে এই মৃদু হাসি বা সীমিত হাসি হাসতেন । ডাঃ উলসনের মতে হাসির বা কৌতুক তিন প্রকার ক) বিদ্রুপাত্মক – কাউকে হেই করার কারনে হাসা খ) অর্থবোধক শব্দকে কৌতুক হিসাবে ব্যবহার করা – শব্দ গুলির উচ্চারণ একই রকম অর্থ ভিন্ন । গ) সাধারণ কৌতুক — কিছু বলা হাসির মাধ্যমে অস্পষ্ট বা বিপরীত রকম হলেও মূলত সঠিক ।

ডাঃ উইলসন বলেন — আমি এই তৃতীয় প্রকার কৌতুক বা হাসি পছন্দ করি । হুজুর (সাঃ) বেশিরভাগ সময় স্মিত হাসি হাসতেন । যে কেউ তার কাছে আসলে তার অমায়িক ব্যবহার, মৃদু হাসি ও আপ্যায়নে তুষ্ট হতেন । তিনি তার স্ত্রী ও সাহাবাদের সাথে অনেক সময় কৌতুক করতেন ।

by google image

হাসি ও কান্না Laughter and tears are great qualities of a good person 2023

নবীজির একসময় এক বুড়ি আসলো । বেহেশত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনার সময় বললেন বুড়ি রা তো বেহেস্তে যেতে পারবেনা । শুনে বুড়ি হতাশা হলেন বিমর্ষ হলেন । ততক্ষণাত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন বেহেস্তে সবার বয়স সুন্দর যুবকের মত হবে এ কথা শোনার পর বুড়ি হেসে ফেললেন ।

বাংলার কবি ও গায়করা অনেকে হাসির ওপর গান ও কবিতা লিখেছেন যেমন হাসিতে ভুবন ভরিয়ে দেব রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা আসছি মোরা আহালাদি ফোকলা হাসির পাল্লা দিই মিস্টার রিমন মুদি হাসির ওপরে এক বিরাট বই লিখেছেন Laugh after laugh তাই Smiling face সবার পছন্দ But to much laugh is not good Laughter is also a remedy”- আপনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করুন । কারন আপনার হাসি ও একটি উত্তম প্রয়োজনীয় ঔষধ ।

দেহ ছাড়া মস্তিষ্কের জন্য হাসি এক উপকারী ঔষধ । হাসি রক্ত সঞ্চালনের সহতা, পেটের রন্ধ্র গুলি মসৃণ করা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, আত্মা ও স্বনির্ভরতার জন্ম দেয়, ভয় ও নৈরাশ দূর করে অন্তরে প্রশান্তি দেয় । কৌতুক হাসির নিরাময়ক ও মনোরঞ্জনের ভূমিকা নেয় ।তবে অবজ্ঞা ও অর্থনা মূলক হাসি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে । আত্ম গর্ব ও প্রতিহিংসার নামান্তর মাত্র । হাসির গভীর দুঃখ লাঘব করে, শোকাহত, মরণাপন্ন মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে সাহায্য করে । সেজন্য মানব জীবনে হাসির মূল্য ও অবদান কম নয় ।

by google image

কান্না কান্না আল্লার এক বিশেষ কুদরত । আল্লাহ ভীতি ক্রন্দনের দ্বারা আল্লাহ ও তার হাবিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট হন, জাহান্নামের আগুন নিভে যায়, জান্নাতের টিকিট পাওয়া যায় । আল্লাহ বলেন হাস কম, কাঁদো বেশি,আল্লাহর ভয়ে এমন কান্না করো যেন এক ফোটা চোখের পানিতে জাহান্নামের আগুনকে নিভিয়ে দিতে পারে ।
নিশি যায় ফাঁকি দিয়া নিশিতে জাগিয়া কাঁদে আউলিয়া আম্বিয়া তাই নিশি রাতে নিজের পাপের কথা স্মরণ করে বিশ্ব প্রভুর দরবারে কান্নাকাটি রোনাজারি করুন ।

বাবা আদম (আঃ) ৩০০ বছর কান্নার পর পাপ মার্জনা হয়, দাউদ নবী যখন যবুর কেতাব পড়তেন ঝর ঝর করিয়া কাঁদিতেন, আল্লাহর নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাহাজ্জুদ পড়তেন চোখের পানিতে জামা ভিজিয়া যাইত তাই অশ্রু প্রবাহিত করা আল্লাহর নবীর সুন্নত

by google image


মানুষ 8 কি কারণে কাঁদে 1) মায়ার কারণে 2) পাগলামির কারণে 3) ব্যথা পাইলে 4) ভয় পাইলে 5) দেখাইবার জন্য 6) নেশা অবস্থায় 7) আল্লাহর ভয়ে 8) আনন্দের কারণে । ক্রন্দনের উপকারিতা এত বেশি মানুষ যদি সেগুলো জানতো কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে কানতে আরম্ভ করতো এবং শুধু কেদেই যেত । ক্রন্দনের দ্বারা চক্ষু রোগ ভালো হয় । গুনাহ ও মাফ হয় অন্তর হালকা হয় মন প্রফুল্ল হয় দেহ শান্ত হয় অগণিত আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় ।

ক্রন্দনকারী প্রত্যেকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় । নির্জনে বসে সৃষ্টিকর্তার অন্বেষণে ক্রন্দনকারী সৃষ্টির বিরাট বিরাট রহস্য পেয়ে যায় । জান্নাত থেকে বের হওয়ার পর আদম ও হাওয়া (আঃ) এর সার্বক্ষণিক কান্নাই কমা লাভের কারণ । ভুল বোঝাবুঝির কারণে অভিমানী মুখ ভার করা প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী স্ত্রীকে কাছে টানতে চোখের পানি সফল । জাহান্নামের আগুন নেভাতে আল্লাহর ভয় ভীত চোখের পানি মহা ঔষধ ।

তাই ক্রন্দন একটি আশা আকাঙ্কার নাম । মনের ইচ্ছা পূরণের সরল সোজা পথ “সফলতার চাবিকাঠি । সমুদ্রের তল আছে,পার আছে তার, মাতৃস্নেহ অতল – অপার,” সেই মা জননী শিশু না কানলে দুধ দেয় না, আর বান্দাকে আল্লার মায়ের থেকে সত্তর গুণ বেশি ভালোবাসে । তবুও তার কাছে কান্নাকাটি না করলে নৈকট্য পাওয়া যায় না । রাসুল (সাঃ) এর কন্যা হযরত জয়নাব (রাঃ) রসুলের নিকট সংবাদ পাঠালেন “আমার ছেলে মৃত্যু পথযাত্রী আপনি তাশরিফ আনুন” । সংবাদ পেয়ে নবীজি রওনা হলেন কিছু সাহাবীসহ । তিনি সেখানে পৌঁছালে শিশুটি তার হাতে দেওয়া হল শিশুটি তখন মৃত্যুর নিকটবর্তী ছিল ।

শিশুর অবস্থা দেখে নবী সাঃ এর অশ্রু ঝরতে লাগলো । হযরত সাদ- বিন- অবাদা (রাঃ) আরজ করলেন ইয়া রাসুল আল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি কাঁদছেন ? নবীজী এরশাদ করলেন “কান্না সেই সিফাত যা আল্লাহ পাক স্বীয় রহমত হতে বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করেছেন এবং আল্লাহ রহম কারীর উপর রহম করেন । সন্তান-সন্ততি বা আত্মীয়স্বজনের মৃত্যু মুসিবতে কান্নাকাটি করা নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে নবীগণ নবুওয়াতের শানে বিরুদ্ধ মনে করতেন না । গভীর দুঃখ বেদনা বহুদিন ধরে অন্তরে পুষে রাখলে শরীর ব্যথায় দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বাস্থ্য ভেঙে যায় । এরকম পরিস্থিতিতে আল্লাহ মানুষের চোখে পানি ঝরানোর মধ্যে যে বরকতময় চিকিতসা রেখেছেন তা সত্যিই অকল্পনীয় ।

by google image


তাই কান্না কে চেপে রাখা ঠিক নয় । কষ্ট বা দুঃখের সময় অশ্রু প্রবাহিত করাকে অন্তরের দুর্বলতা ও লজ্জাজনক মনে করার কোন ভিত্তি নেই । কাঁদো আবেগ দিয়ে চেপে রাখলে পরে মারাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় । ইংরেজি কবি Lord Tennyson তার এক কবিতায় লিখেছেন কোন এক যুদ্ধে মৃত যোদ্ধাকে যখন তার বাড়িতে নিয়ে আসা হল তখন স্ত্রী শোকাহত হয়ে নিশ্চুপ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেহ তাকে কথা বলতে পার কথা বলাতে পারছে না ।

কাঁদাতে ও পারছে না । কেহ তার স্বামীর প্রশংসা করতে লাগলো কেউ স্বামীর জামা কাপড় ও ছবি দেখালো তবুও সে কাঁদলো না । অবশেষে এক বৃদ্ধা মহিলা তার ছোট শিশুকে নিয়ে তার কোলে দিল । এবার সে তখনই হুশ ফিরে হাউ হাউ করে কেন্দ্রে উঠলো এবং বলল “Sweet my child I live for thee” তবে ইসলামী শরীয়তে কান্নার প্রকৃতি ও সীমারেখা আছে । উচ্চস্বরে কান্না করা, বিলাপ করা, বুকে হাত চাপড়ানো, পাগলের মতো হাত পা ছুড়ে কান্না, কারো ওপর দোষারোপ করে কান্না করা প্রভৃতি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ।

by google image


দুঃখ, ব্যথা, বেদনা, কান্না সম্পর্কে বলতে গিয়ে P.B Shelly বলেছেন — Our sweetest songs are those that tells saddest thought” মানুষতো জীবনে সবচেয়ে সুন্দরতম সংগীত হলো বিষাদ মসজিদ মানুষের জীবন হাসি কান্নায় ভরপুর সকালে কাঁদে বিকালে হাসে আবার সন্ধ্যায় কাঁদে তো রাতে হাসে মানুষের জীবন চক্র তার দিন লিপি হাসি কান্নায় ঘূর্ণায়মান । তাই ইংরেজি কবি Jhon Keats বলেছেন – “jou and Woe are even fine,Just like a siken twine” তাঁতের মাকুর মত সুখ দুঃখ দিয়ে জীবন গঠিত একবার যাই এদিক আর একবার যায় ওদিক এভাবেই তার জীবন চলে অনবরত। রাতের পর দিন সুখের পর দুঃখ এই জোয়ার ভাটার জীবন চক্র চলতে থাকবে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ।

তাই যিনি এই সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রক পরিচালক মালিক প্রভু তাকে রাজি খুশি করার মধ্যে মানুষের জীবনের সার্থকতা কারণ ইহলোকিক জীবনচক্রের মূল্যায়ন হবে পরলৌকিক পর্যায়ে। মৃত্যুর পরবর্তী ধাপে উত্তরণের জন্য প্রভুকে বা রবের সন্তুষ্টি চাই । আর আল্লাহ বেশি সন্তুষ্ট হন আল্লাহ ভীতি কান্নাকাটির মাধ্যমে আদম সন্তানের চোখে পানি ঝরানতে । কবরে হাসরে, জাহান্নামে কান্না করে কোন লাভ নেই । দুনিয়াতে আল্লাহর সমস্ত হুকুম আহকাম মেনে এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কান্নাকাটি করে তাকে রাজি-খুশি করাই উতকৃষ্ট পন্থা । আল্লাহ রাজি হলে ইহকালে মঙ্গল পরকালে মঙ্গলময় ।

Read More>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *