" crossorigin="anonymous"> Very good and wonderful Prophet 1(PBUH) ও এক কাঠুরিয়ার কাহিনী - Sukher Disha...,Very good and wonderful Prophet 1(PBUH)

Very good and wonderful Prophet 1(PBUH) ও এক কাঠুরিয়ার কাহিনী

চলাফেরা করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষা করা ঠিক নয় । ভিক্ষা করা একটা ছোট মনের ব্যবহার। তবে যারা চলাফেরা করতে পারে না তাদের কথা আলাদা। Good and great নবীজি(সাঃ) ও এক কাঠুরিয়ার কাহিনী.

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল । তিনি যে শুধুই মুসলিমদের জন্য নবী হয়ে এসেছিলেন তা নয় তিনি দুনিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা বিশ্বের সব ধর্মের মানুষের জন্য নবী হয়ে এসেছিলেন। কিভাবে মানুষকে খারাপ রাস্তা থেকে ভাল পথে আনা যায় এবং জান্নাতের অধিবাসী করা যায় এই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য । তিনি মহান আল্লাহর দেখানো পথ ধরেই মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন।

Very good and wonderful Prophet 1(PBUH) ও এক কাঠুরিয়ার কাহিনী

নবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) সম্পর্কে কিছু কথা

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল । তিনি যে শুধুই মুসলিমদের জন্য নবী হয়ে এসেছিলেন তা নয় তিনি দুনিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা বিশ্বের সব ধর্মের মানুষের জন্য নবী হয়ে এসেছিলেন। কিভাবে মানুষকে খারাপ রাস্তা থেকে ভাল পথে আনা যায় এবং জান্নাতের অধিবাসী করা যায় এই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য । তিনি মহান আল্লাহর দেখানো পথ ধরেই মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন। এই দাওয়াতের কাজ করতে গিয়ে তিনাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে । এই দাওয়াতের কাজ করতে গিয়ে সব থেকে আমার নবীই বেশি কষ্ট সহ্য করেছেন । এই দাওয়াতের কাজে নবীজিকে তায়েফে রক্ত ঝরাতে হয়েছিল ।

by google image

কথিত আছে মহান আল্লাহ দুনিয়ায় 1 লক্ষ 24হাজার নবী দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন । প্রত্যেক নবীর একই কাজ ছিল মানুষকে আল্লাহর পথে নিয়ে আসা । নবীজি (সাঃ) ছিলেন মহামানব । তিনি ছিলেন শেষ নবী। তিনার পরে কোন নবী আসেনি এবং আর কোনদিন আসবেও না। তিনি 60 বছর দুনিয়াতে বেঁচে ছিলেন। এই নবীর উপরেই নাযিল হয়েছিল মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন । এই ষাট বছরের জীবনে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে । তিনি মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছেন এবং অনেক কিছু শিখিয়েছেন। তার দেখানো রাস্তায় জীবন অতিবাহিত করে অনেক মানুষ সফলতা পেয়েছেন।

আজকে আপনাদেকে এই রকমই একটা ঘটনার কথা বলব

একদিন এক গরিব অসহায় ব্যক্তি নবীজির কাছে ভিক্ষা চাইতে আসলেন । আমাদের নবীজি(সাঃ) খুব দয়াশীল ছিলেন লোকটিকে দেখে খুব মায়া হল । তিনি দেখলেন লোকটির শরীরে অনেক পুরানো ও ময়লা কাপড় জড়ানো । চোখে মুখে দুঃখ কষ্ট ও বেদনার ছাপ লক্ষ্য করলেন । নবীজি (সাঃ)ভাল করে লক্ষ্য করে দেখলেন লোকটির বয়স খুব বেশি নয় পঙ্গু অক্ষম তাও নয় হাঁটা চলাও করতে পারছে । ইচ্ছে করলেই কাজ করে করে খেতে পারবে । তাই নবীজি (সাঃ) লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি ভিক্ষা করছো কেন ? তুমি তো কাজ করে খেতে পারবে ? তাছাড়া তুমি পঙ্গুও নয়,অক্ষম নয়, বয়ষ ও খুব বেশি নয় আবার হাঁটাচলা সবই করতে পারছো ।

by google image

এবার লোকটি বললো, কি করবো হুজুর ! কাজ পেলে কি আর ভিক্ষা করতাম ? কোন কাজ পাইনি তাই আমার ও বৌ ছেলেমেয়ের পেট চালানোর জন্য এই পথে নেমেছি । এখন যদি কাজ পায় তাহলে এসব ছেড়ে দিয়ে কাজ করে খাব ।

লোকটির কথা শুনে নবীজির (সাঃ) খুব মায়া হল । নবীজি ভাবতে লাগলেন কি করা যায় ।কিছু দিলে হয়তো এক বেলা খেয়ে পড়ে সংসার চালাতে পারবে । কিন্তু তারপরে কি হবে । নবীজি ভাবলেন এমন কিছু করা দরকার যাতে তার অভাব দূর হয় এবং এই ভিক্ষা করে না খেতে হয় । আর মানুষের কাছে ভিক্ষা করে অপমানিত হতে না হয় । তাই নবীজি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার বাড়িতে এমন কিছু আছে? যা তুমি বিক্রি করতে পারবে ।Good and great নবীজি(সাঃ) ও এক কাঠুরিয়ার কাহিনী January 2024

লোকটি নবীজিকে বলল কি বলেন হুজুর আমি গরিব মানুষ । দিন আনি দিন খাই আমার ঘরে কি এমন থাকবে যা বিক্রি করা যায় । বিক্রি করার মত কিছুই নাই । তবে হ্যাঁ হুজুর একটি কম্বল আছে। তবে পুরানো এটা আবার কে কিনবে । এটা যদি কেউ কিনে তাহলে বিক্রি করা যেতে পারে । নবীজী (সাঃ) বলল ঠিক আছে ওটাকে নিয়ে আসো দেখি বিক্রি করা যায় কিনা ।

নবীজির কথায় লোকটি আনন্দ পেল ও বাড়ি চলে গেল । কিছুক্ষণ পরে সেই কম্বলটি নিয়ে আবার ফিরে এলো নবীজির কাছে । নবীজিকে বলল এই নেন হুজুর কম্বল খানা দেখেন বিক্রি করতে পারবেন কিনা । নবীজি (সাঃ)এবার কম্বল খানা তার সাহাবীদেরকে দেখালেন ও ঘটনা খুলে বললেন । তোমাদের মধ্যে কেউ কি আছে এর উপযুক্ত মূল্য দিয়ে এই কম্বল খানা কিনবে । সাহাবীদের মধ্যে কেউ কিনতে মনস্থির করল না । একটু পরে এক সাহাবী উঠে দাঁড়িয়ে বলল আমি কিনব হুজুর ।
নবীজি উপযুক্ত মূল্য নিয়ে ওই সাহাবীকে কম্বল খানা দিয়ে দিলেন সাহাবী কম্বল খানা নিয়ে চলে গেলেন । এবার নবীজি ওই লোকটিকে ডেকে কিছু টাকা দিয়ে বললেন এই টাকা দিয়ে তুমি ও তোমার বাড়ির সবাইকে খাবার কিনে খাওয়াও ।

by google image

আর বাকি অর্থ দিয়ে বললেন এই অর্থ দিয়ে তুমি একটি কুড়াল কিনবে আর তা দিয়ে জঙ্গলে কাঠ কেটে বিক্রি করে তোমার সংসার চালাবে । লোকটি কিছু খাবার আর একটি কুড়াল কিনে নিয়ে বাড়ি চলে গেল । বাড়ির সবাই মিলে খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ল । পরদিন সকালে উঠে সেই কুড়ালের হাতল লাগালো ।
নবীজির কথা মত লোকটি প্রতিদিন জঙ্গলে কাঠ কাটতে যায় । সেই কাঠ বাজারে বিক্রি করতে লাগলো । এতে তার ভালো লাভ হতে লাগলো । তার দুঃখ কষ্ট ও অভাব দূর হয়ে গেল । এখন আর ভিক্ষা করতে যাওয়ার দরকার হয়না বরং সেই লোকটি প্রতিদিন কিছু টাকা অসহায় ব্যক্তিদের দান করতে থাকলো ।


এইভাবে বেশ কিছুদিন হয়ে গেল । এখন ওই লোকটি ও তার পরিবার খুব সুখে আছে । নবীজি(সাঃ) এসে ওই লোকটির সঙ্গে দেখা করলেন । নবীজি দেখলেন তার গায়ে এখন নতুন জামা । তার চোখে মুখে আর দুঃখের ছাপ নেই । ওই লোকটির চোখে ও মুখে হাসি বিরাজ করছে । লোকটি নবীজিকে হাসি মুখেই বলল আমি আর ভিক্ষা করতে যাই না এখন মেহনত করে খাই । আমার সমস্ত অভাব দূর হয়ে গেছে । আপনার কথা শুনে আমার খুব উপকার হয়েছে। আপনি আমাকে সৎ পথে পরিশ্রম করে বাঁচার রাস্তা দেখিয়ে দেখিয়েছেন । আপনি একজন সত্যিই নবী (সাঃ) এবং খুব ভালো মানুষ ।
ওই লোকটির কথা শুনে নবীজি (সাঃ) মুচকি হাসলেন এবং বললেন যারা মেহনত করে খায় আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করেন ।

by google image

রাসুল(সাঃ) এর দৈহিক ও চারিত্রিক গুণাবলী

1) রাসূল সর্বোত্তম চেহারা ও শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন তিনি অতি লম্বা ও অতি খাটো ছিলেন না । মাঝারি সাইজের ছিলেন ।
2) তিনি প্রশস্ত কাঁধের অধিকারী ছিলেন । তার চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত ।
3) রেশমের কাপড়ের চাইতেও নবীজির হাত ও শরীর অনেক বেশী নরম ও মোলায়েম ছিল । তার শরীরের ঘ্রাণের চেয়ে উত্তম কোন ঘ্রাণ দুনিয়ায় ছিল না ।
4) অন্তঃপুরে পর্দায় থাকা বালিকার চেয়েও তিনি বেশি লজ্জা করতেন । তার চেহারা ছিল পূর্ণিমার চাঁদের মতো।
5) নবীজির সামনে যখন কোন বিশেষ প্রয়োজন আসতো বা কোন সংকটে পড়তেন তখন সঙ্গে সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন । সালাতের মধ্যে, সিজদায় ও সালাম ফেরানোর পূর্বে বিশেষ দোয়া করতেন ।

পরিশেষে

এই গল্পটার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে কাজ করার সামর্থ্য থাকলে কখনোই লোকের কাছে হাত পাতা বা ভিক্ষা করা ঠিক নয়। তাছাড়া যারা কাজ করে খেতে পারবে সেই সব ব্যক্তি যদি ভিক্ষা করে বা লোকের কাছে হাত পাতে তাহলে মানুষ তাদেরকে ভালো চোখে কখনোই দেখেনা । যারা একদম অসহায় নেহাতই কোন কাজ করার সামর্থ্য থাকে না তাদের কথা বাদই দিলাম । এখন তো মানুষ কাজ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরের কাছে হাত পাতে বা ভিক্ষা করে বেড়াই । এইটা কখনোই ঠিক নয় ।

More Post >>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *