" crossorigin="anonymous"> Mango is a good and wonderful fruit আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023 - Sukher Disha...,আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023

Mango is a good and wonderful fruit আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023

আমের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica । আম গ্রীষ্মকালীন একটি সুস্বাদু ফল । কাঁচা অবস্থায় আমের রং সবুজ আর পাকলে হয় হলুদ গোলাপি বা অন্য রঙের । পৃথিবীর এমন কোন লোক বা এমন কোন জাতি নেই যারা আম পছন্দ করেনা ।

by google image

আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023

আমের যেমন রয়েছে অনেক পুষ্টি ও গুণ । তেমনি আমের পাতায় রয়েছে বাতের ব্যথা থেকে শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায় । এছাড়াও আমের মধ্যে রয়েছে আরও অনেক উপকারী গুণ। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, উতসেচক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ উপাদান। অনেক সময় খেতে খেতে বারবার হেঁচকি উঠে এই রোগ সারাতে আমের কচি পাতা থেকে রস বের করে সেই রস আদার সঙ্গে খেলে এ রোগ সেরে যায় ।

আম থেকে অনেক মুখরোচক উপাদান যেমন আচার, আমসত্ত্ব, আমচুর,জেলি, এসব তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে অনেক মুনাফা অর্জন করা যায় ।ছোট থেকে বড় এবং বড় থেকে বৃদ্ধ সবাই আমের পাগল । তাই আমাদের দেশে একে সন্মান দিয়ে ʼফলের রাজাʼ বলা হয়। রাজাই বা হবে না কেন যার এত স্বাদ আর এত গন্ধ সত্যিই রাজা হবার মতো । আমের জন্মস্থান নিয়ে সংশয় থাকলেও একটি কথা মনে রাখতে হবে এটি আল্লাহপাকের তরফ থেকে তার বান্দাদের জন্য পাঠানো একটি ফল ।

by google image

আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023

আম নিয়ে দুটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়
1) প্রথম ঘটনা – আমাদের পাশের কয়েক কিলোমিটার দূরে জিয়াগঞ্জ । সেখানে একটি গ্রামের নাম সৌদি গঞ্জ । সেখানে এক চাষী তার নাম কুশল ঘোষ । এই কুশল ঘোষ অনেক পুরানো আম চাষী ও আম ব্যবসায়ী । সে অবাক করার মত একটি কান্ড ঘটিয়েছে । তার অনেক বড় আম বাগান রয়েছে । সে আম বিক্রি করে অনেক মুনাফা অর্জন করে । সে আম নিয়ে অনেক গবেষণা করে । তার একটি স্বপ্ন ছিল সে একটি গাছে অনেক রকমের আম ফলাবে ।

তাই অনেক বছরের চেষ্টায় সে একটি গাছে ৩২ রকমের ফলিয়েছেন । সে আম কিন্তু যেন তেন আম নয় , মুর্শিদাবাদের সব থেকে নামিদামি ,সুস্বাদু ,রূপে গন্ধে ও স্বাদে অতুলনীয় আম । সে আমগুলি হল সাদুল্লা, লেংড়া, আনারস, মল্লিকা, আম রুপালি, কহি তোর, গোপালভোগ ইত্যাদি । এইভাবে কুশল বাবু তার মনোবল আরো শক্ত হয়ে যায় । তাই কুশল বাবু আবারও তার কয়েক বছর পরেই একই গাছে তিনি ৭২ রকমের আম পলাতে সক্ষম হয়েছেন। কুশল বাবু অনেক পুরনো আমচাষী ও আম ব্যবসায়ী । কিন্তু তার এই একই গাছে অনেক আম ফলানোর যে ইচ্ছা বা উদ্যোগ সেটা শুরু করে 1990 সাল থেকে ।

2) দ্বিতীয় ঘটনা – আমাদের দেশের মানে আমাদের ভারতবর্ষে আম কিন্তু আগে বাইরে দেশে যেত না , প্রথম ২০০৬ সালে ভারতের আম উড়োজাহাজ চড়ে টিকিট ভিসা ছাড়াই জাপানে পাড়ি দেয়। এর আগে বেশ কয়েক বছর আম রপ্তানির ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার এর ফলে আমাদের ভারতবর্ষ এই আম রপ্তানিতে অনেক পিছিয়ে ছিল । এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই তখনকার পুরনো দিনের আম আবার ২০০৭ সালে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ।

এর আগে এত পরিমান আম বিদেশে রপ্তানি করা যায়নি । প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টন আম 2007 সালে জাপানের টোকিও শহরে পাঠানো হয় তার মধ্যে ছিল ন্যাংড়া, সাদুল্লা, মল্লিকা, গোপাল খাঁস, বাগান পল্লী ইত্যাদি ।

by google image

আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023

আমের জন্মকথা- খ্রিস্টপূর্ব ১০ থেকে ১১ হাজার বছর আগেও আমের কথা জানা যায় । প্রাচীনকালে তখনও মানুষে এখনকার মতোই আম চাষ করত ও খুব আনন্দ করে খেত । শোনা যায় ৩২৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার যখন ভারত আক্রমণ করে তখন ও ভারতবর্ষে আমের বাগান ছিল । সে সময় এখনকার মত এত সুস্বাদু ও এত রকমের প্রজাতির আম ছিল না । এখন অবশ্য আমাদের ভারতবর্ষের জাতীয় ফল আম । আম আসলে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ করে মালদ্বীপপুঞ্জের একটি সম্পদ । এখান থেকে আস্তে আস্তে আম ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পৃথিবীতে । শুধুমাত্র ভারতেই প্রায় দেড় হাজার রকম আমের প্রজাতির অস্তিত্বের কথা ভারতবর্ষের ইতিহাস থেকে জানা যায় । মুর্শিদকুলিখা তার জামাই নবাব সুজাউদ্দিন মুর্শিদাবাদের আম চাষের সূচনা করেন ।

by google image

আম ও আমের গুণাগুণ বা জন্ম কথা আর কয়েকটি গল্প 2023


আরেকটি সুন্দর গল্প – সে প্রায় ৩০০ বছর আগে কার কথা । ১৭০৪ সালে মুর্শিদ কুলিখা পুরানো ঢাকা থেকে তার দেওয়ালি দপ্তর তুলে তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে মুর্শিদাবাদে আসছেন । এই দীর্ঘ পথ চলাতে নবাব ক্লান্ত হয়ে পড়েন । এবং পথিমধ্যে ক্লান্ত নবাবের হঠাত আম খাওয়ার ইচ্ছা জাগে । তখন ছিল কিন্তু শীতকাল । সে সময় তো আমের সময় নয় । আমি তো গ্রীষ্মকালীন ফল । তাই শেষ সময় আম পাওয়া অতীব কষ্টসাধ্য ব্যাপার ।

চিন্তায় পড়ে গেলেন নবাবের সমস্ত মন্ত্রী আমলারা । কিন্তু নবাব নাছোর বান্দা । আমের ব্যবস্থা করতেই হবে । চারিদিকে রীতিমতো মাইক বাজিয়ে প্রচার করা হলো । শুরু হলো চারিদিকে ছোটাছুটি । কারণ এই ইচ্ছা আর যার তার ইচ্ছা নয় স্বয়ং নবাবের ইচ্ছা । অনেক খোঁজাখুঁজির পর আম আর পাওয়া যায় না । এবং শেষ পেশ আম পাওয়া গিয়েছিল কিনা সেটা সঠিক জানা যায় না । তবে নবাবের এই অসময়ে আম খাওয়ার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে কিভাবে আম সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে প্রচেষ্টা শুরু হয় । ৩০০ বছর আগেও মুর্শিদাবাদে আম সংরক্ষণে নানা ব্যবস্থা হয়েছিল । কিন্তু তখন ফল সংরক্ষণের এত রকম ব্যবস্থা ছিল না যতটা এখন আছে ।

নবাবের এই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে । আমের মৌসুমে অর্থাত গরমকালে গাছ পাকা আম অতি সাবধানে গাছ থেকে পেড়ে আমের বোটাই গরম মোম দিয়ে সেই আম মধু অথবা ঘি এর মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হতো । জানা যায় এক বছরের বেশি সময় সেই আম সতেজ থাকতো । আমের স্বাদ গন্ধ রং বৈচিত্র্যের কোন প্রকারের হেরফের ঘটতো না । বছরের যে কোন সময় সেই আম কেটে নবাব ও অভিজাত্যের পাতে দেয়া হতো । নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর সবথেকে প্রিয় আম ছিল সাদুল্লা, ল্যাংড়া, কুহেতুর ।

আমাদের মুর্শিদাবাদের আমের চরিত্র কেমন ছিল- মুর্শিদাবাদের কিছু আম খুবই স্পর্শকাতর । যত্নের সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই ছাদে পরিবর্তন ঘটে । এক একটি আম স্বাদে, গন্ধে বর্ণে ও বৈচিত্র্যে অন্য আমের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । যেমন আনারস বা আনানাস আমের স্বাদ গন্ধ রুগ্ন অম্ল মধুর । আনারস আমের বৈশিষ্ট্য আমটি কেটে গরম পোলাও বা ঘি ভাতের ওপর রাখলে আমটি ধীরে ধীরে গলে যায়। তেমনি চন্দনকষা আমি সম্পূর্ণ চন্দনের গন্ধ পাওয়া যায়। চম্পা নামক আম থেকে পাওয়া যায় টাটকা চাঁপা ফুলের গন্ধ । মিস্রি কান আমের স্বাদ মিছরির মত । মুর্শিদাবাদের ৩২০ থেকে ৩৫০ রকমের আমের সন্ধান পাওয়া যায় । তবে মুর্শিদাবাদের ৮৫ থেকে একশ রকমের আমের সন্ধান পাওয়া যায় ।

Read More>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *