" crossorigin="anonymous"> আরালকুম মরুভূমির ইতিবৃত্ত This sea was good nad great 2023 - Sukher Disha...,

আরালকুম মরুভূমির ইতিবৃত্ত This sea was good nad great 2023

আরালকুম মরুভূমির কথা বলতে গেলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে 1960 সালের আগে,যখন আরালকুম মরুভূমির পরিচিতি ছিল মরু নয় সাগর নামে । পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ হিসাবে এর বিশালতার কারণে আরবদের তথা সমগ্র বিশ্বের কাছে এই হ্রদ আরাল সাগর নামেই পরিচিত ছিল

আরালকুম মরুভূমির ইতিবৃত্ত This sea was good nad great 2023

আরালসাগরের বয়স আনুমানিক 5.5 মিলিয়ন বতসর। উত্তর থেকে সির দরিয়া এবং দক্ষিণ থেকে আমুদ রিয়ার জল এসে আরালের বুকে । এই সাগরের বিস্তীর্ণ জল রাশি কাজাকিস্তান উজবেকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় বিস্তৃত ছিল। ১৯৯৬ সালের হিসেব অনুযায়ী এই সাগরের আয়তন ছিল প্রায় ৬৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার । মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির সাথে আরাল সাগর অতপ্রত ভাবে জড়িত ছিল ।

যদিও এই সাগরের তীরবর্তী এলাকার আবহাওয়া মোটেই বসবাসযোগ্য ছিল না। কারণ এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০০ মিলিমিটার । যা যে কোন প্রাণীর বসবাসের প্রতিকূল এছাড়াও প্রতি লিটার জলে লবণের পরিমাণ ছিল গড়ে ১০ গ্রাম, এর জন্য হাতে গোনা কয়েকটি প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ বেঁচে থাকত আড়াল সাগরে । তবুও এই সব কিছু নিয়েই আরালের বুকে গড়ে উঠেছিল ক্ষুদ্র মতস্য শিল্প।

aral kum sagor by google image

১৯৯৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী এই ৬৭ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত হদটি প্রায় সত্তর ভাগ শুকিয়ে গেছে আড়াল সাগরের শুকিয়ে যাবার মূল কারণ হলো ততকালীন সোভিয়ে রাশিয়ার ভুল কিছু পদক্ষেপ । ১৯১৮ সালে সোভিয়েত রাশিয়া দ্বারা গড়ে তোলা তুলা শিল্পের বিশ্ববাজার ধরে রাখতে সোভিয়েত সরকার তোলার উতপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প নেই কারণ তখন এই দেশের তোলা শিল্প সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছিল এমত অবস্থায় সোভিয়েত রাশিয়া সিদ্ধান্ত নেই যে শির দরিয়া এবং আমুদ রিয়া এই দুই নদীর জল তারা তুলা চাষের জন্য ব্যবহার করবে।

তাই তারা এই দুই নদীর জল টেনে এনে তুলা চাষ অঞ্চলের শেষ কার্য শুরু করে। ফলস্বরূপ আরাল সাগরের দিকে ধাবিত এই নদী দুইটির জলের পরিমাণ কমতে থাকে। আর যেহেতু এই রোদের সাথে আর অন্য কোন সাগরের সংযোগ ছিল না তাই আড়াল সাগরে জলের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিন্তু এই বিষয়ে সোভিয়েত সরকার কোনো ভ্রূক্ষেপও করেনি । তারা একবারও এটা ভাববার প্রয়োজনও মনে করেনি যে কত বড় একটা ক্ষতি তারা করতে চলেছে আড়াল সাগর তথা সেখানকার মানুষজন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির। তারা বোধ হয় স্বপ্নেও এর বিভীষিকাময় পরিণতির কথা কল্পনা করতে পারেনি।

এদিকে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় আড়াল সাগরের জলে লবনের ঘনত্ব মাত্রাতিরুক্ত ভাবে বেড়ে যায় । তার প্রভাবে এখানকার আবহাওয়ার এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে, জলজ প্রাণীরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার শিকার হয় । সূচনা ঘটে আড়াল সাগরের ধ্বংসের। এর ফলশ্রুতি স্বরূপ ঝড় তুফানের আধিক্য বেড়ে যায়। তাছাড়া বিভিন্ন গবেষণাগারে রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ বিষাক্ত কীটনাশক দ্রব্য এবং শিল্প কারখানার বর্জ্য পদার্থ আরালসাগরের জলে নিষ্কাশিত করা হতো , তার ফলাফল হয়েছিল মারাত্মক।

aral kum sea Before and After by google image

১৯৬০ সালে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ আড়াই সাগরের জল দ্রুত শুকিয়ে যেতে শুরু করে যেটি প্রথম লক্ষ্য করে এই অঞ্চলে বসবাসকারী অধিবাসীরা এমতাবস্থায় আরালের জলের ওপর নির্ভরশীল অধিবাসীরা উপায়ান্তর না দেখে জীবিকার প্রয়োজনে অন্য যায়গায় স্থানান্তরিত হয়।

১৯৯৭ সালের শুরুর দিকে জরিপ অনুসারে আরাল সাগরের প্রায়ই ৯০ শতাংশ শুকিয়ে গিয়ে একসময়ের বিশাল আরাল সাগর আরালকুম মরুভূমিতে পরিণত হয় ক্ষুদ্র এক জলাশয় নিয়ে ।

আরাল সাগরের বিপর্যয়কে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে মনে করা হয় । এই সাগর শুকিয়ে আরাল কুম মরুভূমিতে পর্যবসিত হবার কারণে আরালসাগর এলাকার অধিবাসীগণ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারণ তাদের অধিকাংশ নাগরিক আয়ের উতস ছিল এই হ্রদটি। তাই জনগণের অর্থ সামাজিক পরিকাঠামো কার্যতই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে । তাছাড়া জল শুকিয়ে গেলেও আরব সাগরের লবণ থেকে যায় । যে কারণে পূর্বের আরালসাগরের উপকূলে ঘন লবনের স্তুপ এর সৃষ্টি হয় যা সেখানকার মাটির উর্বরতাকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয়। অধিক লবণাক্ত জল হওয়া জীবকুলের স্বাস্থ্যের পক্ষেও যেহেতু ক্ষতিকর সেহেতু নানারকম প্রাণঘাতী অসুখ ধীরে ধীরে মহামারী রূপ ধারণ করে ছড়িয়ে পড়ে।

আরাল সাগর পুনর্জীবিত করবার পরিকল্পনা

১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় । আরাল সাগর নতুন রাষ্ট্র কাজাকিস্তান এবং উজবেকিস্তানের অধীনে চলে যাসে। ততদিনে অবশ্য আরাল সাগরের আর প্রায় কোন অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে । মাত্র 10 শতাংশ অঞ্চলে কিছু জল অবশিষ্ট ছিল এবং এই বিপর্যয় যেহেতু পুরো অঞ্চলের আবহাওয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এই ভেবেই কাজাকিস্তান ও উজবেকিস্তান দুই দেশের নেতারা একত্রিত হয়ে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি হাতে নেন।

1) লম্ব লম্বা খাল খননের মাধ্যমে দক্ষিণের সাগর থেকে জল নিয়ে আসবার চেষ্টা করা হয়।
2) 2003 সালে কাজাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে ,বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পুনরায় নদীর জল আরাল সাগরের দিকে প্রবাহিত করা হবে ।
3) কাজাকিস্তান সরকার নিজস্ব অর্থ ব্যয় কাজাকিস্তান সীমানায় বাঁধ নির্মাণ করে এবং ২০০৫ সালে বান্দ নির্মাণ কাজ শেষ হয় ।
4) উজবেকিস্তানের বিজ্ঞানী রাও এগিয়ে আসেন বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ।

Aralkum the Desert

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অগ্রগতি বা বাধা

1) লম্বা খাল খনন করে জল আনবার প্রকল্পটি কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কোটি কোটি ডলার লোকসানের পর শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় ।
2) কাজাকিস্তান সরকার ও উজবেকিস্তান সরকার প্রকল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহমত পোষণ না করাই আরালসাগর জুড়ে বাঁধ নির্মাণ স্থগিত থেকে যায় ।
3) কাজাকিস্তান সরকারের নিজের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণের সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে উজ বেকিস্তানের বিজ্ঞানীরা এগিয়ে আসেন ঠিকই কিন্তু জলের অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় মতের মিল না হয় উজবেকিস্তানের পরিকল্পনাও ওখানেই বন্ধ হয়ে যায় ।

The Aral Sea disaster by google image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *