" crossorigin="anonymous"> Today I will tell you about a good and important court 1 হাশরের ময়দানে আদালতের বিচারক আল্লাহ - Sukher Disha...,

Today I will tell you about a good and important court 1 হাশরের ময়দানে আদালতের বিচারক আল্লাহ

শেষ বিচার দিবসের একমাত্র মালিক হবে আল্লাহ। বিচার শেষে সবার নিজ নিজ পুরষ্কার প্রদান করা হবে। পুরষ্কার সরুপ আল্লাহ মানুষের জন্য দুটো জায়গা তৈরী করে রেখেছেন জান্নাত আর জাহান্নাম।

Today I will tell you about a good and important court 1 হাশরের ময়দানে আদালতের বিচারক আল্লাহ

কাজী কথা শোনেননি এমন লোক খুব কমই আছে । তবে এখনকার প্রজন্ম এই কথাটির সাথে এতটা পরিচিত নয় । কারন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। কাজী বলতে এখানে কোন ঝামেলাকে বোঝানো হয়নি। অবশ্য কাজী কথাটির সাথে ঝামেলার একটা হালকা সম্পর্ক রয়েছে । তবে এখানে কাজী বলতে বিচারককে বোঝানো হয়েছে । এবার বোঝা গেল এখানে কোন কাজীর কথা বলা হয়েছে । কাজীর বিচারের গল্প ও নিজের চোখেই হয়তো এই বিচার ব্যাবস্থা অনেকেই দেখেছেন বা শুনেছেন হয়তো । তবে এ যুগের মানুষ কাজীর বিচারের গল্প শোনেননি । এখন আর কাজীর বিচার নেই । এই শব্দটার অনেক আগে প্রচলন ছিল । অবশ্য এখন আর এই শব্দটার এবং এই কাজীর এতটা কদর কেউ করেন না ।

এই কাজী আসলে কাদেরকে বলা যানেন । যারা খারাপ কাজ করে বা কোন অপরাধ মূলক কাজে জড়িয়ে গিয়ে সংসারে অশান্তির আগুন জ্বালাতো বা ঝামেলার সৃষ্টি করতো এবং তাদের বিচার করে শাস্তি প্রদান করতো ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতো তাদের বলা কাজী । এই বিচারের কারনে সমাজে খারাপ লোকেরা অপরাধ মূলক কাজ করতে ভয় পেত । সমাজে শান্তি বজায় থাকতো । সমাজে হাসি-খুসি ও শান্তি বিরাজ করতো । মানুষের মধ্যে ভয় দুর হতো ।

আগেও যেমন খারাপ লোক ও অপরাধ করলে বিচার হতো এখনও কিন্তু ঠিক তেমনি হয় । তবে একটু আলাদা আগের বিচার যারা করতো তাদের বলা হতো কাজী আর এখন যারা বিচার করে তাদের বলা হয় বিচারক, মুড়ল বা মাতব্বর। এই বিচার কার্য যেখানে সমাধা করা হয় সেই জায়গার নাম ফৌজদারি কোর্ট, হাইকোর্ট, বা সুপ্রিম কোর্ট। এখানেই সেই সব লোকের বিচার হয়ে থাকে যারা সমাজে অন্যায়, রাহাজানি,খুন ছিনতাই,চুরি ডাকাতি মানে এক কথায় যারা খারাপ কাজ করে অপরাধী হয়ে থাকে তাদের ।

দুনিয়ার বিচার ব্যবস্থা The justice system of the world

দুনিয়ায় যেমন বিচারব্যবস্থা চালু আছে । যারা খারাপ কাজ করে তাদের বিচার করা হয় এবং বিচারে তাদের শাস্তি দেওয়া হয় । তাদের বিচার করা হয় দুনিয়ার আদালতে । আরেকটি আদালত রয়েছে তবে সেটা এ দুনিয়ায় নয় সেটা হলো পরকালে । আমরা সবাই এক বাক্যে বিশ্বাস করি এ দুনিয়ার একমাত্র সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ । এবং এ দুনিয়ায় যত কিছু আছে তার সবকিছুই তৈরি করেছে একমাত্র আল্লাহ । মানুষকে তিনি আশরাফুল মাখলুকাত মানে সর্বশ্রেষ্ঠ করে তৈরি করেছেন ।

আনন্দ,সুখ ও বংশবৃদ্ধির জন্য নারী ও পুরুষ তৈরি করেছেন । তবে এ দুনিয়ায় যারা তার বিধানকে মানবে না, নিজের ইচ্ছামত কাজ করে বেড়াবে তাদের জন্যেও রয়েছে বিচার ব্যবস্থা । সেই বিচার ব্যবস্থার জন্য বসবে আদালত । সেই আদালতের একমাত্র বিচারক,হাকিম ও বিচারপতি হবেন আল্লাহ । সেই বিচার দিনের একমাত্র মালিক হবে আল্লাহ । দুনিয়ার বিচারে রয়েছে সাক্ষী,হাকিম, মোক্তার, উকিল কিন্তু শেষ বিচারের আদালতে এসব কিছুই থাকবে না । এই বিচারের দিনে একজনই সুপারিশ করতে পারবেন তিনি হলেন আমাদের দয়ার নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) । তবে এই সুপারিশ স্বয়ং আল্লাহ তাকে হুকুম দিলেই করতে পারবেন । অন্যথায় নয় ।

আল্লাহ সেদিন বিচার করবে ন্যায়ের । সেদিন কেউ কারো পক্ষপাতিত্ব করবে না । দুনিয়ার প্রতিটি ভালো ও মন্দ কাজের বিচার করা হবে সেদিন । দুনিয়ায় যে ভালো কাজ করবে তার জন্য সে পাবে মহাসুখের জায়গা জান্নাত আর যে দুনিয়ায় আল্লাহর আইন বিরোধী কাজ করবে কে পাবে অনন্ত আগুনের জায়গা জাহান্নাম ।

দুনিয়ায় যারা অতি দরিদ্র তাদের ওপর জোর করে দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় । দুনিয়ার বিচার ব্যবস্থায় অনেক আসামি মিথ্যা কথা বলে মুক্তি পেয়ে যায় । অনেক কিছু গোপন করে বা লুকিয়ে বিচার করা হয়। নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয় আর দোষী ব্যক্তিদেরকে মুক্তি দেওয়া হয় । কিন্তু শেষ বিচারের আদালতে সেদিন আর কেউ মিথ্যা কথা বলতে পারবে না । কোনো কিছু লুকিয়ে রাখতে পারবেনা । সেদিন চুলচেরা সঠিক বিচার করা হবে । ধনী গরিবের কোন ভেদাভেদ থাকবে না । সবারই সঠিক বিচার করা হবে ।

দুনিয়াতে যেমন কণ্ঠস্বর ও কথা ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে আবার কোন ভিডিও মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে রাখা যায় । তেমনি যারা হাশরের শেষ বিচারের দিনে মিথ্যা কথা বলবে তখন তাদের সেই সব মিথ্যা কথা বলার কারন হুবহু চোখের সামনে তুলে ধরবেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ । মানুষ হয়তো ভাববে দুনিয়াতেই তো সব অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে তাহলে আবার কেন আখেরাতে তাদের বিচার হবে । আপনাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আপনারা বলুন দুনিয়াতে কি সব অপরাধের বিচার হয় বা সব অপরাধের কি যথাযোগ্য শাস্তি দেওয়া হয় । এখন ইজরায়েল সরকার ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যালীলা চালাচ্ছে এতে ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণ হাজারে হাজারে মারা পড়ছে ।

এই ইজরায়েলের বিচার কে করবে । আবার একজন মানুষ কয়েকশো মানুষকে গুলি করে মেরে মারলো । এ দুনিয়াতে আদালতে বড়জোর ওই ব্যক্তির বিচার হিসাবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে । আপনারাই বলুন সেই ব্যক্তির কি উপযুক্ত শাস্তি হলো । আপনারা বলবেন তার কোনদিনও হয় না । দুনিয়াতে অনেক মানুষ আছে যারা অপরাধ না করেও শাস্তি পাই আবার এমন অনেক মানুষ আছে যারা অপরাধ করেও বিচারে তাদেরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয় । আবার দুনিয়াতে এমন অপরাধী আছে যরা অপরাধ করেও সাক্ষী না থাকার কারণে মানুষের কাছে ধরা পড়ে না । তাদের বিচার কে করবে ।

দুনিয়াতে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ কি ধরনের পাপ করলে কি ধরনের শাস্তি দিতে হবে তা কিন্তু কোরআন পাকের মধ্যে বলেছেন । এখনতো আধুনিক যুগে সেইসব পাপের শাস্তি একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছে । তাইতো এখন আগের থেকে অপরাধ অনেক বেড়ে গিয়েছে । মানুষ এখন অপরাধ করতেও কোন ভয় করেনা । মনে করে না যে আল্লাহ তাকে স্বয়ং দেখছে । আল্লাহর আদালতে বিধান মেনেই শেষ বিচারের দিনের বিচার হবে ।


দুনিয়াতে যেমন কেউ অপরাধ করলে তার যথাযোগ্য শাস্তি দেওয়া হয় না । তার উপযুক্ত ও যথাযোগ্য শাস্তি হবে হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতে । তেমনি কোন ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে আল্লাহর হুকুম মেনে চলে বা আল্লার আইন বিধান মোতাবেক চলে সব রকম পাপের কাছ থেকে, এবং হালাল হারাম ও সমস্ত রকম ফিতনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে তবে সে অবশ্যই দুনিয়াতে শান্তি লাভ করবে । তবে এই শান্তি তার ভালো কাজের উপযুক্ত হলো না ।

সেই ব্যক্তির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আখেরাতে তৈরি করে রেখেছেন অনন্ত অসীম এক সুখের জায়গা জান্নাত । আল্লাহ মানুষকে দুনিয়াতে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন কিন্তু তার ফলস্বরূপ দেখেছেন জান্নাত ও জাহান্নাম । যে দুনিয়াতে খারাপ কাজ করবে সে যাবে জাহান্নামে আর যে ভালো কাজ করবে সে যাবে জান্নাতে ।

বেহেশত ও জাহান্নাম সম্পর্কে কিছু কথা A few words about heaven and hell

বেহেশত heaven

হাশরের ময়দানের বিচার শেষে পুরস্কার হিসাবে রুহগণকে যে মনোরম নয়নাভিরাম স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে তাকে জান্নাত, বেহেশত বা স্বর্গ বলা হয় । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মূলত আটটি জান্নাত সৃষ্টি করেছেন । শেষ বিচারের দিনে যে যত নাম্বার পেয়ে পরীক্ষায় পাস করবে সেই অনুযায়ী তাকে জান্নাত দেয়া হবে । আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জান্নাতকে সাতটি ভাগে ভাগ করেছেন ।

জান্নাত গুলি হল 1) জান্নাতুল ফেরদাউস এখানে সব থেকে সুখের পরিমাণ বেশি 2) দারুস সালাম 3) দারুন খুলদ 4) জান্নাতুন নাইম 5) জান্নাতুল আদন 6) জান্নাতুল মা ওয়া 7) দারুল মাকাম 8) দারুল কারার

দোজখ the hell

হাসরের শেষ বিচারের পর পাপীগণকে যে সীমাহীন, তুলনাহীন শাস্তিময় স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাসে বাধ্য করা হবে উহাকে দোযখ,নরক,বা জাহান্নাম বলা হয় । উহাকে আল্লাহ মূলত সাতটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন
জাহান্নাম গুলি হল 1) হাবিয়াহ 2) হুতামাহ 3) জাহিম 4) সাঈর 5) লাজ্জা 6) সাক্কর 7) জাহান্নাম

সব শেষে কিছু কথা Finally, some words

আমরা যেমন কাজ করবো সেই মোতাবেক আমাদের জায়গা হবে। কেউ যাবে জান্নাতে আর কেউ যাবে জাহান্নামে । এই দুনিয়ায় আমরা যদি সুখপেতে চাই ও দুনিয়ার সমস্ত বিপদ থেকে দূরে থাকতে চাই এবং পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি, কল্যান ও শান্তি লাভ করতে চাই তাহলে আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী চলতে হবে । আল্লাহর আইন না মেনে চললে দুনিয়ার জীবনে দুঃখ কষ্ট লেগেই থাকবে আর শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ আমাদেরকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন । আর বিচার শেষে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন । আর সেই জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোন উপায় থাকবে না । আসুন আমরা সবাই এই জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করি । আর জান্নাত পাওয়ার জন্য উপযুক্ত কাজ করি ।

Read more>>>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *