" crossorigin="anonymous"> পর্যটনের গুরুত্ব ও উপকারিতা Traveling is an act of great good 2023 - Sukher Disha..., অজানাকে জানা অচেনাকে চেনা, অদেখাকে দেখা, এই আগ্রহ চিরকাল মানুষের মধ্যে আছে । হয়তো এই কৌতুহল অনুসন্ধিতসাই মানুষকে শ্রেষ্ঠতম প্রাণী কূলে পরিণত করেছে যদিও পৃথিবীর বুকে তার আগমন অন্য জীবজন্তু ও প্রাণীর পরেই । তীব্র অদম্য আগ্রহই তাকে চুটিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ।

পর্যটনের গুরুত্ব ও উপকারিতা Traveling is an act of great good 2023

অজানাকে জানা অচেনাকে চেনা, অদেখাকে দেখা, এই আগ্রহ চিরকাল মানুষের মধ্যে আছে । হয়তো এই কৌতুহল অনুসন্ধিতসাই মানুষকে শ্রেষ্ঠতম প্রাণী কূলে পরিণত করেছে যদিও পৃথিবীর বুকে তার আগমন অন্য জীবজন্তু ও প্রাণীর পরেই । তীব্র অদম্য আগ্রহই তাকে চুটিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ।

পর্যটনের গুরুত্ব ও উপকারিতা Traveling is an act of great good 2023

কি আছে এই বিশ্বের অন্য প্রান্তে । এই কৌতু হলেই মানুষ ছুটে বেড়াচ্ছে এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত । সম্ভবত সেখানে লুকিয়ে ছিল আধুনিক মানুষের অন্যতম বিনোদন পর্যটনের মূল মন্ত্র । প্রাচীনকালে অবশ্য মানুষ আজকের মত করে ঘুরে বেড়াতো না । একেবারে প্রথমে ছিল খাদ্য অন্বেষণ, আশ্রয় তার পর নিরাপত্তার খোঁজে পথ চলা শুরু । মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে সেই পথ চলার উদ্দেশ্য বদলে গিয়ে হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য আর তীর্থযাত্রার মত বিষয় ।

আরো এক ধরনের মানুষ বিভিন্ন সময়ে এসেছেন যারা শত শত বিপদের আশঙ্কা উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়তেন নতুন দেশ আর মানুষের খোঁজে বা ধর্ম প্রচারে । এইভাবে বেরিয়ে পড়ার মাধ্যমেই নতুন পুরাতন অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছে মানুষ । যা মানুষের অজানা ছিল তা মানুষ আজ জানতে পেরেছে । উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন এমন রোমাঞ্চকর যাত্রার কারণেই ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে কত নাম যেমন ভাস্কোদাগামা মেগাস্থিনিস কলম্বাস এরকম আরো অনেক । মনে রাখতে হবে, ঘরে ফেরা আর নাও হতে পারে এই সম্ভাবনাকে স্বীকার করেই তখন মানুষ পথ পথে নেমেছে ।

কারণ তখন পথ চলা ছিল দুর্গম যাত্রা ছিল কঠিন ও সময় সাপেক্ষ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। এখনকার মতো তখন ছিল না কোন ট্রেন বাস যানবাহন কিংবা প্লেন । এক জায়গা থেকে যেতে অন্য জায়গায় অনেক সময় লেগে যেত । এইসব কথা ভাবার পরেও মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে এবং এভাবেই খুঁজে নিয়েছে নতুন কোন দিগন্ত, পৌঁছে গেছে অজানা দেশের রাজদরবারে । ইতিহাসের পাতাই, রূপকথা লুকো কথা উপকথার গল্পে তা আমরা এমন উদাহরণ কত পাই ।

by google image

পর্যটনের গুরুত্ব ও উপকারিতা Traveling is an act of great good 2023

এখনকার মানুষের কাছে ঘর ছেড়ে নতুনের দর্শনে যাওয়া আর অত অনিশ্চিত যাত্রা নয় । আধুনিক যুগে পর্যটন হল মানুষের আনন্দ উপভোগ করার অন্যতম কারন । মানুষ তার জীবন ধারণের আবাসিক প্রয়োজন গুলি মিটিয়ে ফেলার পর অর্থাত খাদ্যবস্ত্র, বাসস্থান, চিকিতসা ,শিক্ষার ব্যবস্থা করে ফেলার পর যদি তার হাতে কিছু অর্থ বেঁচে থাকে তবে তা খরচ করে আনন্দ বিনোদনের বিভিন্ন যায়গায় ।

আজকের দিনে পর্যটন সেই সবক্ষেত্রের অন্যতম এবং সম্ভবত সবচেয়ে দ্রুত সংক্রনশীল ক্ষেত্র । বিশেষ করে শহরে ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে পর্যটন আজ তাদের স্ট্যাটাস ধরে রাখার একটি অন্যতম রাস্তা । শুধু তাই নয় গ্রামীণ সমাজেও সচ্ছল শ্রেণীর মধ্যে ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ছে যদিও ধর্মীয় কারণে ভ্রমণ বা তীর্থযাত্রার সাদ বা প্রবণতা তাদের চিরকালই ছিল ।

মানুষ শুধু ভ্রমণের জন্যই গিয়েছে এ গ্রাম থেকে সে গ্রাম এ শহর থেকে সে শহর বা এদেশ থেকে অন্য দেশ । ভ্রমণ মানুষকে এক জগত থেকে অন্য জগতে নিয়ে যায় । অনেকদিন এক জায়গায় থাকার পরে মানুষের মধ্যে যখন অলসতা তৈরি হয় বা হাতে কিছু উপরন্ত পয়সা জমা হয় তখনই মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে ।

by google image


তবে আধুনিক যুগে পর্যটন যে গুরুত্ব পাচ্ছে তা কেবল ক্রমশ আরো বেশি মানুষ এতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে নয় । পর্যটক সংখ্যা বেড়ে চলা অবশ্যই একটি বড় কারণ কিন্তু আসল কারণ হলো পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব । তবে একথাও ঠিক যে, পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পর্যটক সংখ্যার ক্রমবর্ধমান গতি অবশ্যই কোথাও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত । আধুনিক বিশ্বে পর্যটন একটি শিল্প হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রচন্ড সম্ভাবনাময় বলেই তার পরিচয় । পশ্চিমের দেশগুলি অর্থাত তথাকথিত প্রথম বিশ্ব পর্যটনের এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিল অনেক আগেই তাই তারা এই ফাইদা তোলার কাজেও নেমেছিল অনেক আগে দেশগুলি ।

আমাদের দেশে সেই অর্থে পর্যটনকে অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা শুরু হয় অপেক্ষাকৃত পরে মূলত পাশ্চাত্যের সাফল্য দেখেই । কিন্তু ভারতের মতো কিছু দেশে তখনো পর্যটনকে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়নি । একটা দুর্ভাগ্যের বিষয় ১৯৬৭ সালের আগে ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোন পর্যটন মন্ত্রী ছিল না । তার আগে অবশ্য ১৯৫৮ সাল থেকে কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রকের অধীনে একটি পর্যটন বিভাগ ছিল মাত্র ।

পরিবহন আর পর্যটন যে এক জিনিস নয় বরং দুটি পরস্পরের উপর কম বেশি নির্ভরশীল এটুকু বুঝতেই কেটে গেল সেই অনেকগুলো বছর । তারপর অসামরিক বিমান সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটন মন্ত্রক আলাদাভাবে আত্মপ্রকাশ করল । এখন বর্তমানে বীমার বিষয়ক অংশটিকে আলাদা করে দিয়ে পর্যটনের সঙ্গে সাংস্কৃতিকে জোড়া হয়েছে — যা তুলনামূলকভাবে বেশি সঙ্গত বলেই মনে করে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা , কারণ পর্যটন ও সংস্কৃতির মধ্যে নিবিড় একটা যোগসূত্র রয়েছে । যাইহোক ১৯৬৭ সালে পর্যটন মন্ত্র পেলেও ভারতে পর্যটন তার উপযুক্ত গুরুত্ব পেয়েছে আরো অনেক পরে । ১৯৮২ সালে পরিকল্পনা কমিশন পর্যটনকে শিল্পের মর্যাদা দেয় ।

এরপর ১৯৮৬ সালে পরিকল্পনা কমিশনের অধীনে পর্যটন বিষয়ক জাতীয় কমিটি তৈরি হয় এবং সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভারতে পর্যটন উন্নয়নের পরবর্তী রূপরেখা স্থির করা হয়েছিল। ১৯৯২ সালে ঘোষিত পর্যটনের জন্য পৃথক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল তার প্রথম পদক্ষেপ । এর অনুসরণে ভারতীয় রাজ্যগুলিও তাদের নিজস্ব পর্যটন পরিকল্পনা তৈরি করতে থাকে । কেমন ভাবে ১৯৯৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পর্যটন পরিকল্পনা ঘোষিত হয় ।

by google image


এত যেসব কথা লিখলাম তার কারণ মুর্শিদাবাদের পর্যটা নিয়েই বা তার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের সমগ্র ভারতের প্রেক্ষাপট মাথায় রাখা জরুরি । ঠিক যেমন জরুরি হল পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্বের জায়গাটা বোঝা । এখন বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে পর্যটন শিল্প অনেক টাকা আয় করছে, যেটা সাধারণ মানুষের হিসাবের বাইরে । এবং এই পর্যটন শিল্প অনেক সাধারন মানুষের কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

এই পর্যটন শিল্পে অনেক মানুষ কাজ করে তাদের দিনের খরচ যোগাচ্ছে। তাই কোন কোন বিশেষজ্ঞ পর্যটনকে ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পের আখ্যা দিয়েছেন ।

ভারতের মত দেশ যেখানে কাজ পাওয়াটাই বড় সমস্যা, দিন দিন বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলেছে , তবে এই পর্যটন ক্ষেত্র বর্তমানে ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লক্ষ পরোক্ষ কর্মীর উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পেরেছিল ।

ইদানিং ভারতে পর্যটন শিল্পে প্রতিবছর ষাট হাজার কর্মী প্রয়োজন হয় , তার মধ্যে উপযুক্ত মানসিকভাবে সচ্ছল ২৫ হাজার কর্মী পাওয়া যায় । প্রচুর কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে বলে পর্যটন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে আঞ্চলিক ও জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটাতেও সক্ষম।ভারতের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যটনের পর্যাপ্ত বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের ক্ষমতা । ভারতের মতো দেশ আন্তর্জাতিক অর্থ বাজারে যার টাকার দাম অত্যন্ত কম এবং মাথায় যার বৈদেশিক ঋণের বোঝা বিদেশি পর্যটকদের আরো বেশি করে আকৃষ্ট করতে পারলে সেই অবস্থা থেকেই অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায় । প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিদেশী মুদ্রা ভারতীয় পর্যটন ইতিমধ্যেই উপার্জন করে থাকে ।

by google image


শুধুই অর্থনৈতিক কারণেই নয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের চেতনা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ক্ষমতার জন্য পর্যটন এক অনন্য মর্যাদা অধিকার করেছে।। আন্তর্জাতিক স্তরে সুসম্পর্ক ও সৌভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি সাংস্কৃতিক বিনিময় বন্যপ্রাণী ও অরণ্যভূমি সংরক্ষণ ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষণাবেক্ষণ এর মতো অজস্র বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রেখেছে পর্যটন যে কোন অঞ্চলের পর্যটন বিষয়ক আলোচনায় সব রকম বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয় ।

Read More>>>>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *